১০ বছর জেল খাটার পরও গায়েব করে দেওয়া ৫০০ স্বর্ণমুদ্রার খোঁজ দেননি গুপ্তধন শিকারী
তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। তিনি গভীর সমুদ্রের গুপ্তধন শিকার করে বেড়ান। একটি বিখ্যাত জাহাজডুবির ঘটনার পর সেখানে পাওয়া স্বর্ণমুদ্রার অবস্থান প্রকাশ করতে অস্বীকার করায় তাকে এক দশক কারাগারে কাটাতে হয়েছে। অবশেষে তিনি মুক্তি পেলেও ৫০০টি স্বর্ণমুদ্রার হদিস এখনও মেলেনি।
৭৩ বছর বয়সী টমি থম্পসন ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ ক্যারোলিনা উপকূলের অদূরে ১৮৫৭ সালে ডুবে যাওয়া 'এসএস সেন্ট্রাল আমেরিকা'র ধ্বংসাবশেষ থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার মূল্যের নিমজ্জিত গুপ্তধন আবিষ্কার করেন। এই জাহাজটি 'শিপ অফ গোল্ড' বা 'স্বর্ণের জাহাজ' নামেও পরিচিত ছিল।
থম্পসনের এই অভিযানে বিনিয়োগকারীরা তার বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুত লভ্যাংশ না দিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগ আনেন। বছরের পর বছর পলাতক থাকার পর, ২০১৫ সালে আদালত অবমাননার অভিযোগে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
১৮৫৭ সালে যখন জাহাজটি ডুবে যায়, তখন এতে সান ফ্রান্সিসকোতে সদ্য তৈরি হওয়া ৩০ হাজার পাউন্ড সোনা ছিল।
জাহাজটি ব্যাংকের রিজার্ভ গড়ে তোলার জন্য পূর্ব উপকূলের দিকে যাচ্ছিল। এটি সমুদ্রের সাত হাজার ফুট গভীরে তলিয়ে যায়, যার ফলে ৪২৫ জন যাত্রী ও ক্রু প্রাণ হারান এবং এই ঘটনা ১৮৫৭ সালের আর্থিক মন্দার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
বিনিয়োগ থেকে লভ্যাংশ পাওয়ার শর্তে মোট ১৬১ জন বিনিয়োগকারী থম্পসনকে জাহাজটি খুঁজে বের করার জন্য ১২.৭ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন।
ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কলম্বাসে অবস্থিত 'ব্যাটেল মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট'-এর এক সময়ের মহাসাগর প্রকৌশলী থম্পসন এবং তার দল ১৯৮৮ সালে হাজার হাজার সোনার বার ও মুদ্রা উদ্ধার করেন।
এর একটি বড় অংশ পরে ২০০০ সালে একটি স্বর্ণ বিপণন প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করা হয়।
বিবিসি-র মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজ অনুযায়ী, থম্পসনের দাবি ছিল, মুদ্রাগুলো বেলিজের একটি ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রথম দফার সোনা বিক্রির লাভের বেশির ভাগ অংশই আইনি খরচ এবং ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা ২০০৫ সালে থম্পসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং অভিযোগ করেন যে তারা এখন পর্যন্ত গুপ্তধন বিক্রির কোনো লভ্যাংশ পাননি। পরবর্তীতে থম্পসনের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়, সমুদ্রের তলদেশ থেকে তিনি যে সোনার বার ও মুদ্রা উদ্ধার করেছিলেন তার মূল্য প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
২০১২ সালে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশের মুখে থম্পসন নিখোঁজ হয়ে যান। বছরের পর বছর পলাতক থাকার পর, ২০১৫ সালে ফ্লোরিডার বোকা রাটন থেকে তাকে ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার এড়াতে তারা দুই বছর ধরে একটি হোটেলে ছদ্মনামে নগদ টাকা দিয়ে রুম ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন এবং ট্যাক্সি ও গণপরিবহন ব্যবহার করতেন।
প্রায় ৫০০টি নিখোঁজ স্বর্ণমুদ্রার অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করায় থম্পসনকে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা হয় এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে ২৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দেওয়ানি আদালত অবমাননার শাস্তি সাধারণত অনির্দিষ্টকালের জন্য হতে পারে—যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতের নির্দেশ মানেন। এই ক্ষেত্রে নির্দেশ ছিল নিখোঁজ সোনার মুদ্রাগুলোর অবস্থান জানানো।
কিন্তু সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিচারক থম্পসনের এই সাজা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। বিচারকের মতে, থম্পসন সম্ভবত আর কখনোই এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন না।
