চট্টগ্রামে আসার সময় থাই উপকূলে কার্গো জাহাজডুবি, ১৬ বাংলাদেশি নাবিক উদ্ধার
চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে পানামার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এমভি সিলয়েড আর্ক মারাত্মকভাবে কাত হয়ে ডুবে গেছে। তবে জাহাজটিতে থাকা ১৬ জন বাংলাদেশি নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জাহাজটির বাংলাদেশি এজেন্ট আলভি লাইনস বাংলাদেশ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উদ্ধার কার্যক্রমের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশের জয়েন্ট মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (জেএমআরসিসি) জানায়, মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং থেকে ২২৯টি কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে এমভি সিলয়েড আর্ক গতকাল থাইল্যান্ডের স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৩টার দিকে ফুকেট উপকূল থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল দূরে হঠাৎ তীব্রভাবে কাত হয়ে পড়ে।
জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন শেখ মুনির আহমেদ জানান, পরিস্থিতি খুব দ্রুত খারাপের দিকে যাওয়ায় তিনি "অ্যাব্যান্ডন শিপ" ঘোষণা করে জরুরি সংকেত পাঠান। এরপর থাই মেরিটাইম রেসকিউ সাব-সেন্টার দ্রুত সাড়া দিয়ে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
জেএমআরসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, "থাই কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে ১৬ জন নাবিককে কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ছাড়াই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।"
উদ্ধার হওয়া সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। বর্তমানে তারা ফুকেটের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়েছে।
পরবর্তীতে জাহাজটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, এমভি সিলয়েড আর্ক পুরোপুরি ডুবে গেছে। থাই নৌবাহিনী এবং বীমা কোম্পানির প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিলয়েড শিপিং লাইনসের মালিকানাধীন জাহাজটি বাংলাদেশের নাফ মেরিন সার্ভিসেসের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে জাহাজটির চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ার কথা ছিল।
জেএমআরসিসি বাংলাদেশ জানিয়েছে, থাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নাবিকদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএমআরসিসির সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, নাবিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ জাহাজের এজেন্ট, নাবিকদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
