ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই: আইএইএ মহাপরিচালক
ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানকে 'আসন্ন পারমাণবিক হুমকি' হিসেবে দাবি করছে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বললেন তিনি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি মঙ্গলবার এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে এ বিষয়ে জানান।
গ্রসি লিখেছেন, 'ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমার প্রতিবেদনে আমি খুবই স্পষ্ট ও দৃঢ় ছিলাম। ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে এমন কোনো প্রমাণ নেই,তবে তাদের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণে প্রায় অস্ত্র-গ্রেডের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং আমার পরিদর্শকদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানানোটা গুরুতর উদ্বেগের কারণ।'
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবৈধ ও উসকানিহীন হামলার অন্যতম প্রধান অজুহাত হলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করা।
২০১৫ সালে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল, যা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করেছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প সেই চুক্তি বাতিল করে দেন।
গত বছরের জুনে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল, ঠিক তখনই ট্রাম্প ইরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলার নির্দেশ দেন।
সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যা করার পাশাপাশি হাসপাতাল, স্কুল ও আবাসিক ভবনেও হামলা চালানো হয়েছে।
এতে শিশুসহ শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
শনিবার মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় আনুমানিক ১৬৮ জন নিহত হয়, যাদের অধিকাংশই বা সবাই ছিল অল্পবয়সী মেয়ে।
হামলাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চালিয়েছে বলে ব্যাপকভাবে সন্দেহ করা হলেও তারা এর দায় অস্বীকার করেছে।
ইসরায়েলের সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, গাজায় গণহত্যা চালানোর সময় বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার বিষয়ে তারা বারবার মিথ্যা বলেছে।
এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে।
যেসব জায়গায় হামলা হয়েছে তার মধ্যে সাইপ্রাসের 'আরএএফ আক্রোটিরি' বিমানঘাঁটিও রয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের হামলাকে সমর্থন করার ভূমিকার কারণে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা এই ঘাঁটিটিকে 'ব্রিটিশ গণহত্যা ঘাঁটি' বলে ডাকেন।
