Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Friday
May 22, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
FRIDAY, MAY 22, 2026
চীনের তেলের লাইফলাইনকে চাপে ফেলেছে ইরান যুদ্ধ

আন্তর্জাতিক

জন পি. রুয়েল, এশিয়া টাইমস
12 March, 2026, 07:05 pm
Last modified: 12 March, 2026, 07:06 pm

Related News

  • মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ধাক্কায় গতিমন্থর বিশ্ব অর্থনীতির, উঠে এলো ইউরোজোনের জরিপে
  • জ্বালানি সংকট অব্যাহত: ভারতে প্রতিদিন এলপিজি’র ঘাটতি ৪ লাখ ব্যারেল
  • চীনে যাবে ২,৬০০ কিলোমিটারের রুশ গ্যাস পাইপলাইন: স্থবির অর্থনীতিকে উদ্ধারের আশা পুতিনের
  • তেহরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করছে ইরান: ইসমাইল বাঘাই
  • এবার বৈশ্বিক অর্থনীতির পূর্বাভাস কমাল জাতিসংঘও, দায় মধ্যপ্রাচ্য সংকটেরই

চীনের তেলের লাইফলাইনকে চাপে ফেলেছে ইরান যুদ্ধ

২০২৪ সালে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ২৭ শতাংশই ছিল চীনের। ১৪০ কোটির বেশি মানুষের বিশাল দেশ এবং দ্রুত বিস্তৃত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয় দেশটির।
জন পি. রুয়েল, এশিয়া টাইমস
12 March, 2026, 07:05 pm
Last modified: 12 March, 2026, 07:06 pm
জ্বালানি চাহিদা মেটাতে মধ্যপ্রাচ্যের আমদানির ওপর বড় নির্ভরতা রয়েছে চীনের। ছবি: এশিয়া টাইমস

গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে আটক করা হয়। এরপর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইরানের বিরুদ্ধে। এভাবে ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রকৃত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা।

এসব ঘটনাপ্রবাহ চীনের তেল সরবরাহের অন্যতম দুটি উৎসে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে চলমান যুদ্ধের রেশে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতিও হচ্ছে। ফলে গত মার্চ বাজারের লেনদেনের শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারেরও বেশি হয়ে যায়। পরে দাম কিছুটা কমলেও বছরের শুরুতে প্রায় ৬০ ডলার থেকে এখনো অনেক বেশিই রয়েছে।

ইরান যুদ্ধ শিগগির শেষ হবে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি করলেও, বাস্তবে সংকট প্রশমনের তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইরানের তেল স্থাপনায় হামলা হয়েছে, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাও পাল্টা আঘাতের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ধমনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচলও কমে গেছে।

বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এর বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বহু দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে কিছু দেশ জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি ভোক্তা চীনের ক্ষেত্রে এই উদ্বেগ আরও বেশি। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ২৭ শতাংশই ছিল চীনের। ১৪০ কোটির বেশি মানুষের বিশাল দেশ এবং দ্রুত বিস্তৃত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয় দেশটির।

২০২৫ সালে চীনের বিদ্যুৎ ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। অন্যদিকে ইরান চীনের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ সরবরাহ করে, আর ভেনেজুয়েলা দেয় আরও প্রায় ৪ শতাংশ। ফলে বৈশ্বিক দামের অস্থিরতা বেইজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলছে।

চীনের কাছে জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত রয়েছে, যা সংকটের সময়ে কিছুটা স্বস্তির জায়গা দেয়। অনুমান করা হয়, দেশটির কাছে প্রায় ১২০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো তেল মজুত রয়েছে। এটি ১৯৭০-এর দশকে আরব দেশগুলোর তেল অবরোধের পর গড়ে তোলা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতের তুলনায় সামান্য কম।

২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের সময় মজুত ব্যবহার করার পর যুক্তরাষ্ট্রের তেল রিজার্ভ আবার ১৯৮০-এর দশকের পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে গেছে। এই মজুত পুনরায় পূরণ করার গতিও ধীর। এদিকে যুদ্ধের কারণে তেল বাণিজ্যে তীব্র ব্যাঘাত মোকাবিলায় গতকাল ১১ মার্চ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র সদস্য দেশগুলো তাদের সংরক্ষিত তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালের মধ্যেই "জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতা" অর্জনকারী দেশ হয়ে উঠেছে বলে বিবেচনা করেন অনেক বিশ্লেষক, যার পেছনে প্রধান ভূমিকা ছিল শেল বিপ্লবের। হাইড্রোলিক ফ্র্যাকচারিং ও অনুভূমিক ড্রিলিং প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে দেশটির তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়, এবং যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাসের উৎপাদক ও নিট রপ্তানিকারকে পরিণত হয়।

তবুও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ব্যবস্থা বিশ্ববাজারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কানাডা থেকে অপরিশোধিত তেল এবং রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি প্রমাণ করে যে আধুনিক অর্থনীতিতে প্রকৃত অর্থে সম্পূর্ণ জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতা খুবই বিরল।

চীনের দুর্বলতা মূলত তার বহির্ভরতার মাত্রায়। উদাহরণস্বরূপ, দেশটি তার মোট তেলের প্রায় ৭০ শতাংশই আমদানি করে এবং এর বড় অংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত হয়।

আর যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বজুড়ে সামরিক উপস্থিতি চীনের নেই, যা দিয়ে সে তার সরবরাহ পথগুলো পুরোপুরি নিরাপদ রাখতে পারে। জর্জটাউন জার্নাল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অনুযায়ী, "চীনের ৯০ শতাংশ বাণিজ্য সমুদ্রপথে পরিবাহিত হয় এবং চীনের ৮০ শতাংশ তেল আমদানিও সমুদ্রপথেই আসে।" গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সুরক্ষার এই উদ্বেগকে প্রায়ই "মালাক্কা ডিলেমা" হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

চীনা কৌশলবিদরা প্রায়ই সতর্ক করেন যে মালাক্কা প্রণালি, হরমুজ প্রণালি, সুয়েজ খাল ও পানামা খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথ দিয়ে চীনের আমদানি করা তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬০–৮০ শতাংশই শুধু মালাক্কা প্রণালি দিয়ে যায়। এই পথগুলোর এক বা একাধিক দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে চীনের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গভীর প্রভাব পড়বে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর চলমান হুমকি এই ঝুঁকির নতুন উদাহরণ। পাশাপাশি কাতারের বেশ কয়েকটি গ্যাস স্থাপনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, বিশ্বব্যাপী এলএনজি রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি আমদানিকারক। ২০২৫ সালে চীনের মোট এলএনজির প্রায় এক-চতুর্থাংশ সরবরাহ আসে কাতার থেকে।

সৌভাগ্যক্রমে বেইজিংয়ের একটি বিকল্প সরবরাহকারী রয়েছে, যা সমুদ্রপথের বিঘ্ন বা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত। সেই উৎসটি হচ্ছে রাশিয়া।

চীনের সঙ্গে রাশিয়ার বিস্তৃত স্থলসীমান্ত এবং দুই দেশের জ্বালানি অবকাঠামো—বিশেষ করে পাইপলাইন—একবিংশ শতকজুড়ে বেইজিংকে একটি তুলনামূলক নিরাপদ জ্বালানি উৎস দিয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার পর মস্কো ক্রমেই জ্বালানি রপ্তানির জন্য চীনের বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যার ফলে জ্বালানি দরকষাকষিতে রাশিয়ার অবস্থান দুর্বল হয়েছে।

তবে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে চীন মস্কোকে আবারও সমান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। রাশিয়ার ইয়ামাল উপদ্বীপ থেকে উত্তর চীনে গ্যাস পরিবহনের লক্ষ্যে পরিকল্পিত পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২ পাইপলাইন প্রকল্প আবার নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি আমদানিও বাড়াতে পারে চীন।

এছাড়া, ২০২২ সাল থেকে চীনের জনসংখ্যা কমতে শুরু করেছে এবং প্রকৃত সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়েও কম হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এই জনমিতিক প্রবণতা আগামী দশকে জ্বালানির চাহিদা কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং ২০৩০ সালের আগেই চীন তেল ব্যবহারের সর্বোচ্চ পর্যায় অতিক্রম হতে পারে। অর্থাৎ, এরপর থেকে চীনা অর্থনীতিতে তেলের ব্যবহার কমতে থাকবে।

দশকের পর দশক ধরে চীন তার বিপুল জ্বালানি চাহিদা মেটাতে নিজস্ব কয়লার জোগানের ওপরও নির্ভর করে এসেছে। বর্তমানে দেশটির মোট জ্বালানি ব্যবহার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে কয়লা থেকে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলেও এই কয়লার মজুত চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে আছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে চীনের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। গত ১৫ বছরে বেইজিংয়ের সবুজ জ্বালানি সম্প্রসারণ তার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে দ্রুত রূপান্তর করছে। ইয়েল স্কুল অব দ্য এনভারনমেন্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে স্থাপিত উইন্ড টারবাইনের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং সৌর প্যানেলের প্রায় ৮০ শতাংশই চীনে উৎপাদিত হচ্ছে।

দেশীয় বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তাও দ্রুত বাড়ছে, যা পরিবহন খাতে তেলের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করছে। পরিবহন খাতই আমদানি করা তেলের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। তবে ২০২৫ সাল থেকে চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি প্রচলিত গাড়ির চেয়ে বেশি হয়েছে এবং এ প্রবণতা আরও বাড়ছে।

তারপরও আগামী কয়েক দশক চীনের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি অপরিহার্য থাকবে বলে মনে করছে রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-এর অর্থনীতি ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট। বিশেষ করে, পেট্রোকেমিক্যাল ও ভারী শিল্পে এর প্রয়োজনীয়তা বজায় থাকবে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো সম্পূর্ণ জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণ শক্তি না হওয়ায় এবং বিশাল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে গিয়ে চীন একটি স্পষ্ট দুর্বলতার মুখে রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বেইজিং তার জ্বালানি সরবরাহ পথ রক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার সংকেত দিতে পারে। ইতোমধ্যে ভারত মহাসাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলে চীনের নৌ উপস্থিতি বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি গুপ্তচর জাহাজও সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, চীন স্যাটেলাইট নজরদারি এবং ট্যাংকার ট্র্যাকিং ডেটা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা করছে, যা ইরানি নৌবাহিনীর চলাচল ও যোগাযোগ গোপন করতে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

একই সঙ্গে সামরিক আধুনিকায়নও চলছে। বর্তমানে চীনের তিনটি বিমানবাহী রণতরী রয়েছে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ছয়টি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো চীনের নৌবাহিনীকে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্লু-ওয়াটার ফোর্সে পরিণত করতে সহায়তা করবে। ফলে গভীর সমুদ্রে দীর্ঘ সময় অভিযান চালাতে সক্ষম হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তার আলোচনায় চীনের আরেকটি বড় শক্তি হলো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ। বিরল খনিজ, লিথিয়াম ও গ্যালিয়ামের মতো উপকরণ প্রক্রিয়াজাত করার বৈশ্বিক সক্ষমতার বড় অংশ বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—যা ব্যাটারি, সৌর প্যানেল এবং উন্নত ইলেকট্রনিক্স তৈরির জন্য অপরিহার্য।

ফলে চীন বিদেশি জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, বিশ্বের বহু দেশ আবার জ্বালানি রূপান্তর প্রযুক্তি ও বর্তমান জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য চীনা সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

তবুও ইরানে চলমান যুদ্ধ চীনের নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগে রাখবে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জ্বালানি ধাক্কার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ায় উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগতে পারে। এর প্রভাব সব দেশই অনুভব করবে—এমনকি যেসব দেশ তুলনামূলকভাবে জ্বালানি নিরাপদ বলে বিবেচিত, তাদেরকেও ধাক্কা সইতে হবে।

তবে বিশাল চাহিদা, বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে অস্বস্তিতে ফেলা উচ্চাভিলাষী ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য—এই তিনের সমন্বয়ে চীন বর্তমান সংকটের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

এই ধাক্কা চীন কতটা সামাল দিতে পারে, তা বেইজিংয়ের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কৌশলগত সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি বেইজিং এই সংকট সামাল দিতে হিমশিম খায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপ আরও বাড়তে পারে এবং চীনের কৌশলগত দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

এরকম পরিস্থিতি এড়াতে হলে চীনকে জ্বালানি সরবরাহ পথের বৈচিত্র্য দ্রুত বাড়াতে হবে। যেখানে সম্ভব দেশজ উৎপাদনও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করা এবং নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে উঠবে।

আগামী কয়েক মাস শুধু চীনের জ্বালানি স্থিতিস্থাপকতাই নয়, তার বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে।

লেখক: জন পি. রুয়েল একজন অস্ট্রেলীয়-আমেরিকান সাংবাদিক, যিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাস করেন এবং ইনডিপেনডেন্ট মিডিয়া ইনস্টিটিউট-এর বিশ্ববিষয়ক প্রতিবেদক। তিনি আন্তর্জাতিক বিষয়ের বিভিন্ন প্রকাশনায় নিয়মিত লেখেন। তাঁর বই " বাজেট সুপারপাওয়ার: হাউ রাশিয়া চ্যালেঞ্জেস দ্য ওয়েস্ট উইথ অ্যান ইকোনমি স্মলার দেন টেক্সাস" প্রকাশিত হয় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে।

Related Topics

টপ নিউজ / মতামত

ইরান যুদ্ধ / চীন / জ্বালানি নিরাপত্তা

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: দ্য কুইন্ট
    পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমরা হয়ে গেছেন গো-রক্ষক, হিন্দু ব্যবসায়ীরা চান গবাদিপশু জবাই
  • সালমান এফ রহমানকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: টিবিএস
    ‘এই গরমে মরেই যাবো’: আদালতে সালমান এফ রহমান
  • ছবি: স্ক্রিনগ্র্যাব
    বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বললেন ভারতের প্রধান বিচারপতি; ক্ষোভে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ খুললেন যুবক
  • রপ্তানিতে উচ্চ মূল্য সংযোজনের পরিকল্পনা সরকারের
    রপ্তানিতে উচ্চ মূল্য সংযোজনের পরিকল্পনা সরকারের
  • ফাইল ছবি: টিবিএস/মুমিত এম
    মেট্রোরেল প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় কমাতে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের
  • কিউবার মাতানজাস-এ একটি আবাসিক ভবনে সোলার প্যানেল। ছবি: এএফপি
    তেল আসা ‘বন্ধ’ করে দিয়েছে আমেরিকা, বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সৌর-বিপ্লব করছে কিউবা—চীনের সাহায্যে

Related News

  • মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ধাক্কায় গতিমন্থর বিশ্ব অর্থনীতির, উঠে এলো ইউরোজোনের জরিপে
  • জ্বালানি সংকট অব্যাহত: ভারতে প্রতিদিন এলপিজি’র ঘাটতি ৪ লাখ ব্যারেল
  • চীনে যাবে ২,৬০০ কিলোমিটারের রুশ গ্যাস পাইপলাইন: স্থবির অর্থনীতিকে উদ্ধারের আশা পুতিনের
  • তেহরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করছে ইরান: ইসমাইল বাঘাই
  • এবার বৈশ্বিক অর্থনীতির পূর্বাভাস কমাল জাতিসংঘও, দায় মধ্যপ্রাচ্য সংকটেরই

Most Read

1
ছবি: দ্য কুইন্ট
আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমরা হয়ে গেছেন গো-রক্ষক, হিন্দু ব্যবসায়ীরা চান গবাদিপশু জবাই

2
সালমান এফ রহমানকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

‘এই গরমে মরেই যাবো’: আদালতে সালমান এফ রহমান

3
ছবি: স্ক্রিনগ্র্যাব
আন্তর্জাতিক

বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বললেন ভারতের প্রধান বিচারপতি; ক্ষোভে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ খুললেন যুবক

4
রপ্তানিতে উচ্চ মূল্য সংযোজনের পরিকল্পনা সরকারের
অর্থনীতি

রপ্তানিতে উচ্চ মূল্য সংযোজনের পরিকল্পনা সরকারের

5
ফাইল ছবি: টিবিএস/মুমিত এম
বাংলাদেশ

মেট্রোরেল প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় কমাতে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের

6
কিউবার মাতানজাস-এ একটি আবাসিক ভবনে সোলার প্যানেল। ছবি: এএফপি
আন্তর্জাতিক

তেল আসা ‘বন্ধ’ করে দিয়েছে আমেরিকা, বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সৌর-বিপ্লব করছে কিউবা—চীনের সাহায্যে

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net