রেকর্ড পরিমাণ মজুত তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তেও ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০০ ডলারে
ইরান যুদ্ধের প্রভাব কমাতে বড় বড় দেশ জরুরি মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বৃহস্পতিবারও (১২ মার্চ) বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েই চলেছে।
এশিয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর ৩২ সদস্য দেশ মিলে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।
এর আগের দিন ইরান সতর্ক করে বলেছিল, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা বাড়তে থাকায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে। এই প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো জাহাজকেই লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।
"আপনারা কৃত্রিমভাবে তেলের দাম কমাতে পারবেন না। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত থাকুন," বলেন ওই মুখপাত্র।
তিনি আরও বলেন, "তেলের দাম আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে, আর এই অঞ্চলে অনিরাপত্তার প্রধান উৎস আপনারাই।"
সংকীর্ণ এই নৌপথটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
আইইএর সদস্য দেশগুলো বিশ্বব্যাপী জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব করে।
সংস্থাটির জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত আগের যেকোনো রেকর্ডের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর আইইএ সর্বোচ্চ পরিমাণ মজুত তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরুর পর থেকে বিশ্ব তেলবাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়। সপ্তাহের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়।
এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার পেট্রোলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ৫০ ডলার ছড়িয়ে যায় বলে জানায় আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন।
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এশিয়ার অনেক দেশ এতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ সপ্তাহে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে জ্বালানি নেওয়ার জন্য পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। মানুষ দ্রুত জ্বালানি মজুত করতে ছুটে আসায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য থাইল্যান্ডে অধিকাংশ সরকারি দপ্তরের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফরেও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
ফিলিপাইন ও পাকিস্তানেও জ্বালানি ব্যবহার কমাতে সরকারি কর্মীদের সপ্তাহে চার দিন অফিস করতে বলা হয়েছে।
