ইসরায়েলে তাক করা ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নাম
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলে প্রথম দফা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন মোজতবা খামেনি। গত রোববার তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের এই সর্বোচ্চ পদে আসীন হন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইসরায়েলের দিকে তাক করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে তার নাম সংবলিত ছবি প্রকাশ্যে এসেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-র টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে ফার্সি ভাষায় লেখা ছিল, 'আপনার সেবায় নিয়োজিত, সাইয়্যেদ মোজতবা'। তবে মোজতবা খামেনি নিজেই সেখানে স্বাক্ষর করেছেন কি না, নাকি অন্য কেউ তার নাম লিখেছে, সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা এই পদে স্থলাভিষিক্ত হলেন। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং নীতি-নির্ধারণী পরিষদ 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস' ইতিমধ্যেই নতুন নেতার প্রতি তাদের পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করেছে।
মোজতবা খামেনির এই নিয়োগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এক সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে জোর দিয়ে বলেছিলেন, ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত ছিল। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই নতুন নেতা 'বেশিদিন টিকবেন না'; তিনি মোজতবাকে একজন 'অগ্রহণযোগ্য' প্রার্থী হিসেবেও ঘোষণা করেছেন।
ইসরায়েলও হুমকি দিয়েছে যে, ইরানের পরবর্তী নেতা হিসেবে যাকেই বেছে নেওয়া হোক না কেন, তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সম্প্রতি ইরানজুড়ে তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ইসরায়েলি হামলা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে রাজধানী তেহরান ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে।
এদিকে, সপ্তাহান্তে তেল ডিপোগুলোতে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইরানের কিছু অংশে কালো 'অ্যাসিড বৃষ্টি' হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সতর্ক করে বলেছে, এই তৈলাক্ত ও দূষিত বৃষ্টি 'অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অম্লীয়'। এটি ভবন ও যানবাহনের ওপর আস্তরণ তৈরি করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১,৩৩২ জন ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে ইরানের প্রথম পাল্টা হামলায় আহত আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হলেন। এর আগে নিহত ছয় সেনার মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্প।
এদিকে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
