যুক্তরাষ্ট্র ‘অসৎ’, তাদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার কোনো কারণ নেই: আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মন্তব্য করেছেন, যারা সততা বা সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় আসে না, তাদের সঙ্গে নতুন করে বসার কোনো কারণ নেই। বৃহস্পতিবার তেহরান থেকে 'এনবিসি নাইটলি নিউজ'-এর উপস্থাপক টম লামাসকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরান আমেরিকার সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না এবং কোনো যুদ্ধবিরতির আবেদনও তারা করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ দ্রুত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে এই সাক্ষাৎকারটি দিলেন আরাগচি। সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং সুরে বলেন, 'না, আমরা তাদের (মার্কিন সৈন্য) জন্য অপেক্ষা করছি। কারণ আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তাদের মোকাবিলা করতে পারব এবং তা তাদের জন্য এক বড় বিপর্যয় হয়ে দাঁড়াবে।'
দেশজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা চললেও ইরান নতি স্বীকার করবে না বলে জানান আরাগচি। তিনি বলেন, 'আমরা এমনকি গতবারও কোনো যুদ্ধবিরতির আবেদন জানাইনি। গতবার (জুনের ১২ দিনের যুদ্ধ) ইসরায়েলই বিনা শর্তে যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল।'
মিনাব এলাকার একটি প্রাথমিক স্কুলে হামলায় ১৭১ জন শিশুর মৃত্যু প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আরাগচি এর জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন। ওই হামলায় ইরানের নিজেদের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়েছে কি না—এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের সেনাবাহিনী যা বলেছে, এটি হয় যুক্তরাষ্ট্র নয়তো ইসরায়েলি বাহিনীর কাজ। এতে তফাৎ কী?'
আরাগচি উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহেই তিনি জেনেভায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনারের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু আলোচনার মাঝপথে এই হামলা সব সম্ভাবনা নষ্ট করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, 'সত্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো ইতিবাচক অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। বিশেষ করে এই প্রশাসনের সঙ্গে। আমরা গত বছর এবং এই বছর দুবার আলোচনা করলাম এবং আলোচনার মাঝপথেই তারা আমাদের ওপর হামলা করলেন।'
বর্তমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, 'এই যুদ্ধে কেউ জয়ী হবে না। আমাদের জয় হলো অবৈধ লক্ষ্যগুলোর বিরুদ্ধে টিকে থাকা এবং আমরা তা-ই করছি।'
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীয়র মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে তার মেজ ছেলে মোজতবা খামেনির নাম আসার গুঞ্জন নিয়ে আরাগচি বলেন, এটি নির্ধারণের জন্য একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তিনি জানান, 'অনেক গুঞ্জন থাকলেও আমাদের বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। চলমান যুদ্ধের কারণে এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।'
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ সংক্রান্ত খবরও নাকচ করে দেন আরাগচি। তিনি বলেন, 'এটি পুরোপুরি ইরানি জনগণের নিজস্ব বিষয়। এখানে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।'
