হরমুজ প্রণালী বন্ধ, কয়েক দিনেই তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে ইরাক-কুয়েত: জেপি মরগান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী যদি বন্ধ থাকে, তবে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরাক এবং কুয়েতের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। জেপি মরগানের বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের অষ্টম দিনে তেলের এই সরবরাহ দৈনিক ৩৩ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেপি মরগান মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ার আগে ইরাকের হাতে বড়জোর তিন দিন এবং কুয়েতের হাতে ১৪ দিন সময় আছে।
পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সরু এই জলপথটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন কেন্দ্র। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
জেপি মরগানের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে এই পথটি বন্ধ থাকলে তেলের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে সংঘাতের ১৫তম দিনে সরবরাহ দৈনিক ৩৮ লাখ ব্যারেল এবং ১৮তম দিনে ৪৭ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমতে পারে।
ইরাকের দুজন তেল কর্মকর্তা মঙ্গলবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেলবাহী ট্যাংকারগুলো যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে চলাচল করতে না পারে এবং বন্দরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরাক দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পৌঁছে দেওয়ার (এসকর্ট) কাজ শুরু করতে পারে।
এদিকে, ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে এবং এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা যেকোনো জাহাজে ইরান গুলিবর্ষণ করবে।
