স্টারমার ‘সহযোগিতা করেননি’, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ‘সম্পর্ক আগের মতো নেই’: ইরানে হামলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর ভূমিকার জন্য কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম 'দ্য সান'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার 'সহযোগিতা করেননি'। তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি কখনো ভাবিনি এমন কিছু দেখব। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য থেকে আমি এমন আচরণ আশা করিনি।'
একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আক্ষেপ করে বলেন, 'দেখে খুবই দুঃখ হচ্ছে যে, আমাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের) সম্পর্ক আগের মতো আর নেই।'
গত সোমবার স্টারমার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বলেন, তার সরকার 'আকাশপথ থেকে কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে বিশ্বাসী নয়'।
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাজ্য ইরানে হামলার জন্য দেশটির সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। তবে পরে তারা অনুমতি দিয়েছে, যাতে ইরানি স্থাপনাগুলোতে 'প্রতিরক্ষামূলক' হামলার ক্ষেত্রে ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা যায়।
ট্রাম্প আরও বলেন, 'ফ্রান্স দারুণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যরাও ভালো করেছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের অবস্থান ছিল একেবারেই আলাদা।'
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দিল লন্ডন
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর মুখ খুলেছেন ব্রিটিশ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোনস। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত 'গুরুত্বপূর্ণ'।
বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোনস বলেন, 'আমি বুঝতে পারছি, প্রথম দফার হামলায় অংশ না নেওয়ায় প্রেসিডেন্ট সন্তুষ্ট নাও হতে পারেন।'
তবে যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, 'যুক্তরাজ্য তখনই সামরিক বাহিনী ব্যবহার করবে যখন তার আইনি ভিত্তি থাকবে, সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকবে এবং তা আমাদের দেশের স্বার্থে হবে।'
জোনস আরও বলেন, 'রাজনৈতিকভাবে প্রেসিডেন্টের মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু সামরিক কার্যক্রম বা 'অপারেশনাল' ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক পরিবর্তিত হয়নি। বর্তমানে দুই দেশের সেনাবাহিনী একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।'
তিনি উল্লেখ করেন, 'আমাদের সামরিক কর্মীরা এখন মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় একসাথে কাজ করছেন। এটিই আমাদের বিশেষ সম্পর্কের প্রতিফলন, যা জনগণও প্রত্যাশা করে।'
