খামেনির মরদেহের ছবি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে দেখানো হয়েছে: দাবি ইসরায়েলি গণমাধ্যমের
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, দুটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের দাবি অনুযায়ী—চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃতদেহের একটি ছবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দেখানো হয়েছে।
এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সুস্থ রয়েছেন।
অবশ্য পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে উপস্থাপকদের পড়ে শোনানো বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে— আয়াতুল্লাহ খামেনি শনিবার ভোরে তার কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করার সময়ই নিহত হন।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাই তেহরানে অবস্থিত 'লিডারশিপ হাউস' কমপ্লেক্সের কিছু অংশে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পেয়েছে। এই স্থানটিই খামেনির কার্যালয়।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলেছে, অফিসে খামেনির মৃত্যু প্রমাণ করে যে, তিনি 'আত্মগোপনে' ছিলেন—এমন দাবি ছিল 'শত্রুপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ'।
এর আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতনিও নিহত হয়েছেন।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খামেনির এক পুত্রবধূও নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
রাষ্ট্রীয় টিভি আরও জানিয়েছে, খামেনির মৃত্যুতে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বর্তমানে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ চ্যানেল আইআরআইএনএন খামেনির বিভিন্ন ছবি প্রচার করছে। যার ব্যাকগ্রাউন্ডে কোরআন তেলাওয়াত শোনা যাচ্ছে এবং পর্দার বাম পাশে কালো শোকবার্তা প্রদর্শন করা হচ্ছে।
এর আগে, উপস্থাপক ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতি পড়ে শোনান। সেখানে খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয় এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, খামেনির 'শাহাদাত' নিপীড়কদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এক নতুন জাগরণের সূচনা করবে।
