গ্রীষ্মে শুক্রাণু দ্রুত সাঁতার কাটে, বলছে গবেষণা
গরমকালে শুক্রাণুর মান সবচেয়ে ভালো থাকে, আর শীতে তা কমে যায়। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ডেনমার্কের গবেষকরা যৌথভাবে এই গবেষণা চালিয়েছেন। তারা ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ১৫ হাজার ৫৮১ জন পুরুষের নমুনা বিশ্লেষণ করেন।
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, জুন ও জুলাই মাসে শুক্রাণুর সাঁতার কাটার ক্ষমতা বা গতি সবচেয়ে বেশি থাকে। বিশ্বের দুই প্রান্তেই একই চিত্র দেখা গেছে।
ঋতু পরিবর্তনের এই বিষয়টি জানা থাকলে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় সুবিধা হবে। সন্তান নিতে ইচ্ছুক দম্পতিদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা বা পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া সহজ হবে।
গবেষণাটি 'রিপ্রোডাক্টিভ বায়োলজি অ্যান্ড এন্ডোক্রিনোলজি' জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে শুক্রাণুর গতি সবচেয়ে কমে যায়। মজার ব্যাপার হলো, ফ্লোরিডায় সারা বছর গরম থাকলেও সেখানে শীতে একই ঘটনা ঘটে।
তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, ঋতু বদলালেও মোট শুক্রাণুর সংখ্যা বা বীর্যপাতের পরিমাণে কোনো হেরফের হয় না। অর্থাৎ, বছরের কোন সময় চলছে, তার ওপর শুক্রাণুর চলাফেরার ক্ষমতা নির্ভর করে। কিন্তু উৎপাদনের সংখ্যার ওপর এর কোনো প্রভাব নেই।
এর মানে হলো, শুধু তাপমাত্রা নয়, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার গভীর যোগসূত্র রয়েছে।
সাধারণত অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা (৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে দুই থেকে চার ডিগ্রি কম হওয়া উচিত। এর চেয়ে তাপমাত্রা বাড়লে বা কমলে শুক্রাণুর গতি কমে যায়, যা প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।
ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও এই গবেষণার সহ-লেখক অ্যালান পেসি বলেন, 'পুরো ভিন্ন দুই আবহাওয়ায় ঋতু বদলের এই মিল দেখে আমরা অবাক হয়েছি।'
তিনি আরও বলেন, 'ফ্লোরিডায় আবহাওয়া গরম থাকলেও সেখানে গ্রীষ্মে শুক্রাণুর গতি বাড়ে এবং শীতে কমে। এতে বোঝা যায়, বাইরের তাপমাত্রা দিয়ে এই পরিবর্তনের পুরো ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।'
অধ্যাপক পেসি যোগ করেন, 'বীর্যের মান যাচাই করার সময় ঋতু বিবেচনা করাটা যে জরুরি, আমাদের গবেষণায় তা উঠে এসেছে। গরম আবহাওয়ার দেশেও যে ঋতুভেদে শুক্রাণুর গতি বদলায়, তা এখন পরিষ্কার। এটি বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় কাজে আসবে।'
