রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির’ দাবি উইটকফের, জেনেভায় চলছে দ্বিতীয় দিনের বৈঠক
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে জেনেভায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় 'তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি' হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। আজ বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো দুই পক্ষ আলোচনায় বসছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে উইটকফ লিখেছেন, 'দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাফল্য এক তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি বয়ে এনেছে। এই ভয়াবহ সংঘাত ও রক্তপাত বন্ধে ট্রাম্পের নেতৃত্বে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত।'
তবে এই আলোচনা থেকে এখনই বড় কোনো সমাধানের আশা করছেন না বিশ্লেষকেরা। কারণ, দখল করা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড ছাড়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নমনীয়তা দেখায়নি ক্রেমলিন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এই আলোচনার সাফল্যের জন্য বারবার ইউক্রেনের ওপর দায় চাপালেও রাশিয়ার বিষয়ে নীরব থেকেছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের এমন অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, রাশিয়ার তুলনায় ইউক্রেনকে অনেক বেশি আপস করতে বলা হচ্ছে, যা মোটেও 'ন্যায়সংগত নয়'। গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়াকে একতরফা 'বিজয়' উপহার দিয়ে স্থায়ী শান্তি অর্জন সম্ভব নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি ট্রাম্পের কোনো রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে রয়েছে। ক্রেমলিন এখন পুরো দনবাস অঞ্চল দাবি করলেও ইউক্রেন তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। কিয়েভের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে তাদের নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট ও জোরালো নিশ্চয়তা দিতে হবে।
ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ জানিয়েছেন, প্রথম দিনের আলোচনায় মূলত শান্তি সমাধানের কারিগরি দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। জেলেনস্কিও তাঁর ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, চুক্তির স্বার্থে ইউক্রেন হামলা বন্ধ রাখতে প্রস্তুত। তবে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, 'আমরা তো যুদ্ধ চাই না, আমরা আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা করছি। এখন প্রশ্ন হলো, রাশিয়ানরা আসলে কী চায়?'
এবারের ত্রিপক্ষীয় এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্টিভ উইটকফের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মধ্যস্থতা করছেন। আর রাশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেদিনস্কি। ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ বার্ষিকী সামনে রেখে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
একদিকে আলোচনার টেবিলে শান্তির কথা চলছে, অন্যদিকে আজ বুধবার ভোরে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ও ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের ৪৩টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগের রাতে ইউক্রেনের ১২টি অঞ্চলে প্রায় ৪০০ ড্রোন ও ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, সেই হামলায় অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
