মৃত্যুর এক দিন আগেই এপস্টিনের মৃত্যু-সংক্রান্ত বিবৃতি লেখা হয়েছিল, দাবি নথিতে
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিটি তার মৃত্যুর এক দিন আগেই তৈরি করা হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (ডিওজে) প্রকাশিত নতুন নথিতে দেখা গেছে। ডিওজের প্রকাশিত এপস্টিন-সংক্রান্ত নথির নতুন একটি ব্যাচে এই খসড়া বিবৃতিটি পাওয়া গেছে।
প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী, মার্কিন অ্যাটর্নির বিবৃতিটি জেফরি এপস্টিনের মৃত্যুর এক দিন আগেই ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট খসড়া করা হয়েছিল।
নথিপত্রগুলোর মধ্যে অন্তত ২৩টি নথি 'সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক'-এর মার্কিন অ্যাটর্নি কার্যালয়ের বিবৃতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর একটি সংস্করণে ৯ আগস্ট, ২০১৯ তারিখ দেওয়া রয়েছে। অথচ এপস্টিনকে তার পরের দিন সকালে, অর্থাৎ ১০ আগস্ট ম্যানহাটনের মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারের সেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তৎকালীন ম্যানহাটন ইউএস অ্যাটর্নি জিওফ্রে এস বারম্যানের নামে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আজ সকালে মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টার নিশ্চিত করেছে যে, জেফরি এপস্টিনকে তার সেলে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তার কিছুক্ষণ পরেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।'
বিবৃতিতে ঘটনাটিকে 'উদ্বেগজনক' উল্লেখ করে বলা হয়, এটি ভুক্তভোগীদের বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তবে ষড়যন্ত্রসহ অন্যান্য অভিযোগের তদন্ত চলবে বলেও জানানো হয়।
নথিতে একই ধরনের খসড়া বিবৃতির একাধিক সংস্করণ রয়েছে, যেখানে তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় অসংগতি দেখা গেছে। কিছু কপিতে নাম বা ফোন নম্বর দৃশ্যমান, আবার অন্যগুলোতে সেগুলো মুছে দেওয়া হয়েছে।
জেফরি এপস্টিনকে তার সেলে একটি কমলা রঙের ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলন্ত পাওয়া যায়, যা তিনি বিছানার চাদর বা শার্ট দিয়ে তৈরি করেছিলেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। তার মৃত্যুকে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মহত্যা বলা হলেও বিষয়টি নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।
সিবিএস নিউজ পর্যালোচিত নতুন নথিতে তার মৃত্যুর আগের রাতের জেল সার্ভাইলেন্স ফুটেজ বা সিসিটিভি ফুটেজ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তদন্তকারীরা ৯ আগস্ট রাত ১০টা ৩৯ মিনিটে এপস্টিনের সেলের দিকে একটি কমলা রঙের অবয়ব বা ফিগার এগিয়ে যেতে দেখেন।
একটি নথিতে একে 'সম্ভবত একজন কয়েদি' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিচার বিভাগের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এটি একজন কারারক্ষী, যিনি কমলা রঙের চাদর বহন করছিলেন। অবশ্য স্বাধীন বিশ্লেষকরা সিবিএসকে বলেছেন, চলাফেরা দেখে মনে হচ্ছে এটি একজন কয়েদিই ছিল। জেল কর্মীরা জানিয়েছেন, ওই সময়ে কোনো কয়েদিকে এসকর্ট বা পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক।
প্রকাশিত নথিতে এফবিআইয়ের একটি প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে এপস্টিনকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পরের কিছু অদেখা ছবিও রয়েছে। কিছু ছবিতে দেখা যায়, ১০ আগস্ট সকাল ৬টা ৪৯ মিনিটে, অর্থাৎ তাকে পাওয়ার প্রায় ১৬ মিনিট পর স্ট্রেচারে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। অন্য ছবিগুলো হাসপাতালে তোলা, যেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বেশ কিছু ছবিতে তার নামের বানান ভুলভাবে 'জেফারি' লেখা হয়েছে।
নিউইয়র্কের মেডিক্যাল পরীক্ষকের ৮৯ পাতার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তার থাইরয়েড কার্টিলেজে ফাটলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
