এপস্টিনের কর্মকাণ্ড ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ পর্যায়ে পড়তে পারে: জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মতে, প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত লাখ লাখ নথিপত্র একটি 'বৈশ্বিক অপরাধী চক্রের' অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যাদের কর্মকাণ্ডগুলো আইনত 'মানবতাবিরোধী অপরাধের' পর্যায়ভুক্ত।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত নথিপত্রগুলোতে বর্ণিত এই অপরাধগুলো শ্রেষ্ঠত্ববাদে বিশ্বাস, বর্ণবাদ, দুর্নীতি এবং চরম নারীবিদ্বেষের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, এই অপরাধগুলো নারী এবং কন্যাশিশুদের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন এবং তাদের অমানবিকীকরণের চূড়ান্ত রূপ দেখিয়েছে।
একটি বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞরা বলেন, 'নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সংঘটিত এই নৃশংসতার মাত্রা, ধরণ, সুশৃঙ্খল চরিত্র এবং এর আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিস্তার এতটাই গুরুতর যে, এগুলোর বেশ কিছু যুক্তিসংগতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের আইনি মানদণ্ড পূরণ করতে পারে।'
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, নথিপত্রগুলোতে থাকা অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে একটি স্বাধীন, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একইসঙ্গে তারা বলেন, কীভাবে এত দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়া সম্ভব হলো, তা নিয়েও অনুসন্ধান শুরু করা উচিত।
মার্কিন বিচার বিভাগ এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
গত নভেম্বরে কংগ্রেসের দ্বিপাক্ষিক (বাইডিপার্টিজান) সমর্থনে অনুমোদিত একটি আইনের আওতায় এপস্টিন-সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা 'গুরুতর নিয়মভঙ্গ এবং ত্রুটিপূর্ণ সম্পাদনা বা কাটছাঁট' নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যার ফলে ভুক্তভোগীদের সংবেদনশীল তথ্য উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত নথিপত্রগুলোতে একহাজার ২০০ এরও বেশি ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, 'পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশে অনীহা কিংবা তদন্তের পরিধি বৃদ্ধি না করার ফলে অনেক ভুক্তভোগী বা সারভাইভার পুনরায় মানসিক ট্রমার শিকার হচ্ছেন এবং তারা বিষয়টিকে 'প্রাতিষ্ঠানিক গ্যাসলাইটিং' (প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করা) হিসেবে বর্ণনা করছেন।'
বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত নথিপত্রগুলো রাজনীতি, অর্থায়ন, শিক্ষাক্ষেত্র এবং ব্যবসা জগতের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে এপস্টিনের নিবিড় সম্পর্কের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে—যা ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে সংগ্রহসহ পতিতাবৃত্তি করানোর অভিযোগে তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে এবং পরে, উভয় সময়েই বিদ্যমান ছিল।
২০১৯ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের ফেডারেল অভিযোগে পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারের কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় এপস্টিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সেসময় তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
