হরমুজে নৌ-অভিযানের অনুমোদন চেয়ে বাহরাইনের প্রস্তাব, কাল জাতিসংঘে ভোট
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় বাহরাইনের উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। খসড়া প্রস্তাব গৃহীত হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে দেশগুলোকে 'প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা' নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হবে। তবে ভেটো ক্ষমতাধর চীন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বলপ্রয়োগের অনুমোদনের বিরোধিতা করবে।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের এই বৈঠক এবং ভোটগ্রহণ মূলত শুক্রবার হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে শনিবার সকালে নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার জাতিসংঘের ছুটির দিন হওয়ায় এই পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দুজন কূটনীতিক জানিয়েছেন।
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত কার্যত হরমুজ প্রণালিকে—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ—অচল করে দিয়েছে।
কূটনীতিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্বকারী দেশ বাহরাইন একটি খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল রক্ষায় 'প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা' গ্রহণের অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাতিফ বিন রাশিদ আল জায়ানি বলেন, 'ইনশাআল্লাহ' শুক্রবার ভোট হবে এবং এ বিষয়ে পরিষদের একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন।
বাহরাইন এই প্রস্তাব পাস করাতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেয়েছে।
এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং আশা করা হচ্ছে, রাশিয়া এ প্রস্তাবে বাধা দেবে না। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গেও 'প্রাসঙ্গিক' পর্যায়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যাতে বেইজিংও প্রস্তাবটি আটকে না দেয়।
সিএনএনের হাতে পাওয়া খসড়া প্রস্তাবে ইরানের কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানানো হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রস্তাবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজ ও উড়োজাহাজ চলাচলের অধিকার রয়েছে, যা 'কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না'।
খসড়া অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলো এককভাবে বা স্বেচ্ছাসেবী বহুজাতিক নৌ জোটের মাধ্যমে—আগাম নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করে—প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে। এতে প্রণালির উপকূলবর্তী দেশগুলোর আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যেও কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকবে, যাতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং নৌপথ বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করা যায়।
তবে বৃহস্পতিবার সকালে নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে চীনের জাতিসংঘ দূত ফু চং বল প্রয়োগের অনুমোদনের বিপক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ হবে 'বেআইনি এবং নির্বিচার বল প্রয়োগকে বৈধতা দেওয়া, যা অনিবার্যভাবে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে এবং এর ভয়াবহ পরিণতি হবে।'
প্রস্তাবটির চতুর্থ খসড়াটি বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত 'সাইলেন্স প্রসিডিউর'-এর অধীনে ছিল। তবে পশ্চিমা এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছেন—চীন, ফ্রান্স এবং রাশিয়া এই নিরবতা ভেঙেছে, যার অর্থ তারা খসড়াটিতে একমত হতে পারেনি।
এদিকে, প্রস্তাবটির চতুর্থ খসড়া অনুমোদনের জন্য 'সাইলেন্স প্রক্রিয়া'-তে রাখা হয়েছিল, যা বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত চলার কথা ছিল। তবে পশ্চিমা এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া আপত্তি তোলায় সেই প্রক্রিয়া ভেঙে গেছে।
