ওমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: ‘ভালো শুরু’, বললেন আরাগচি; ট্রাম্প বললেন, ‘খুবই ভালো’
ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সর্বশেষ সরাসরি বৈঠককে ইরানি কর্তৃপক্ষ 'ইতিবাচক' বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বৈঠককে 'খুবই ভালো' বলে মন্তব্য করেছেন। তবে মধ্যস্থতার মাধ্যমে হওয়া এই বৈঠক এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা দূর করার কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দিতে পারেনি।
শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে বৈঠক শেষে ইরানি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, সরাসরি বৈঠকটি 'ভালো শুরু'। তিনি জানান, রাজধানীর সঙ্গে পরামর্শ করে বৈঠকের পরবর্তী ধাপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে আরাগচি বৈঠকের প্রেক্ষাপটে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তিনি বলেন, গত জুনে ইসরায়েল-ইরান ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প সময়ের জন্য যুদ্ধে যুক্ত হয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলার কয়েক দিন আগেই ষষ্ঠ দফার সরাসরি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে 'অবিশ্বাসের' পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক 'খুব ভালো' হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতে আরও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে বৈঠকের পাশাপাশি হুমকির অবস্থানেও অনড় থাকেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে এর 'পরিণাম হবে অত্যন্ত ভয়াবহ'।
ট্রাম্প বলেন, 'ইরানকে দেখে মনে হচ্ছে তারা খুব করে একটি চুক্তি করতে চায়—আর সেটাই তাদের করা উচিত।' তিনি ইঙ্গিত দেন, তেহরান আগের বৈঠকের তুলনায় 'আরও বেশি কিছু করতে' রাজি হতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মাস্কাটে অনুষ্ঠিত সরাসরি বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপারও প্রতিনিধি দলে ছিলেন। তিনি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সামরিক কমান্ডার।
বৈঠকে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি। তিনি শুক্রবার একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান–প্রদান করেন।
বুসাইদি বলেন, 'ইরানি ও আমেরিকান চিন্তাভাবনা স্পষ্ট করা এবং সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার জন্য এটি প্রয়োজন ছিল।' তিনি আরও জানান, তাদের লক্ষ্য হলো 'যথাযথ সময়ে পুনরায় একত্রিত হওয়া'।
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দিকেই এই পরামর্শগুলোতে জোর দেওয়া হয়েছে।
এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন সুপার ক্যারিয়ারসহ যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান ইরানি জলসীমার কাছাকাছি মোতায়েন করেছে। পুরো অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী একটি ইরানি ড্রোনও ভূপাতিত করেছে।
ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে তিনি ইরানে হামলার নির্দেশ দেবেন।
