টনি ব্লেয়ারের ‘অস্বাভাবিক আয়’ নিয়ে এপস্টিন ও ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আলাপের অডিও প্রকাশ
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার পরামর্শক হিসেবে ঠিক কত টাকা পান এবং সেই অর্থ কোথায় যায়—তা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অডিও রেকর্ডে তাদের এমন কথোপকথন শোনা গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের নতুন একগুচ্ছ নথিপত্র প্রকাশের অংশ হিসেবে অডিওটি সামনে আনে মার্কিন বিচার বিভাগ। অডিওতে শোনা যায়, ক্ষমতা ছাড়ার পর সাবেক রাজনীতিকেরা কীভাবে অর্থ উপার্জন করেন, তা নিয়ে আলোচনা করছেন এপস্টিন ও বারাক।
টনি ব্লেয়ার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় ছিলেন। ইরাক যুদ্ধের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে তিনি বিশ্বজুড়ে বিতর্কিত হয়ে আছেন। ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি 'টনি ব্লেয়ার অ্যাসোসিয়েটস' নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংস্থাকে পরামর্শক সেবা দিতেন।
২০১৬ সালে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেন। বর্তমানে তিনি 'টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জ' নামে একটি অলাভজনক সংস্থা পরিচালনা করছেন। সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের সরকার ও নেতাদের তাদের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরামর্শ দিয়ে থাকে।
ফাঁস হওয়া ওই কথোপকথনে ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী থাকা এহুদ বারাককে ব্যবসার ধরণ নিয়ে প্রশ্ন করতে শোনা যায়। তিনি এপস্টিনের কাছে জানতে চান, বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে 'টাকা আয়ের ব্যবসায়িক মডেল' আসলে কী?
এ সময় ব্লেয়ারের উদাহরণ টেনে বারাক বলেন, 'আমি আপনার কাছেই শুনেছিলাম যে টনি ব্লেয়ার শুধু কাজাখস্তান সরকারকে পরামর্শ দেওয়া এবং বিভিন্ন এনজিও বা জাতিসংঘে তাদের হয়ে লবিং করার বিনিময়ে বছরে সম্ভবত ১ কোটি ১০ লাখ ডলার নিচ্ছেন।'
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে কাজাখস্তানের তৎকালীন স্বৈরশাসক নুরসুলতান নাজারবায়েভ বিতর্কিত এক নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কয়েক মাস পরই ব্লেয়ারের প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কাজাখস্তানে সরকারবিরোধী এক আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৪ জন নিহত হন।
যৌন পাচারের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের কারাগারে মারা যান এপস্টিন। অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'টনি এখন অন্যরকম হয়ে গেছে। সে টাকার জন্য আসলে কী করছে আমি জানি না। এমনকি সে যে টাকা পাচ্ছে, সেটা আসলে তার পকেটে যাচ্ছে নাকি অন্য কারও কাছে, তা-ও আমি জানি না।'
এপস্টিন আরও বলেন, ' সে (ব্লেয়ার) বছরে ১ কোটি ডলার আয় করছে।'
ফাঁস হওয়া ইমেইল থেকে জানা যায়, এপস্টিন ও বারাকের মধ্যে দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্ক ছিল। ২০০৮ সালে এপস্টিন যৌন অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও বারাক তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখেন। এমনকি বারাকের জন্য এপস্টিন বিশ্বস্ত আর্থিক উপদেষ্টা ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন।
মার্কিন বিচার বিভাগ অডিওটি ঠিক কবে রেকর্ড করা হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, এটি সম্ভবত ২০১৩ সালের শুরুর দিকের ঘটনা।
ফাঁস হওয়া এই অডিও নিয়ে টনি ব্লেয়ারের প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে তার মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি একে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। ওই মুখপাত্র বলেন, 'এসব মানুষের ব্লেয়ারের আয়-উপার্জন সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। তারা যেসব অংকের কথা বলছেন, তা একেবারেই বানোয়াট।'
মুখপাত্রটি আরও জানান, ব্লেয়ারের সঙ্গে এপস্টিনের মাত্র একবারই দেখা হয়েছিল। এরপর থেকে ব্লেয়ারের সঙ্গে তাঁর আর কোনো যোগাযোগ বা কথা হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'এই দুই ব্যক্তির কারও সঙ্গেই ব্লেয়ার কখনো তাঁর আয়ের বিষয়ে আলোচনা করেননি।'
কাজাখস্তানে কাজের বিনিময়ে পাওয়া অর্থের বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, ওই টাকা ব্লেয়ার ব্যক্তিগতভাবে পাননি। সেটি দেওয়া হয়েছিল তাঁর সংস্থাকে, যারা সেখানে সংস্কারমূলক কাজের জন্য একটি বিশেষ দল নিয়োগ করেছিল। ওই কাজ ছিল সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে।
ব্লেয়ারের মুখপাত্রের দাবি, কাজাখস্তানের সেই কাজ কোনোভাবেই 'লবিং' বা যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। এটি প্রমাণ করে যে অডিওতে যাঁদের কথা শোনা গেছে, তাঁরা আসলে কী নিয়ে কথা বলছেন, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো জ্ঞানই ছিল না।
ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে 'বোর্ড অব পিস' গঠন করা হয়। গাজা পুনর্গঠন ও এর প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির জন্য ব্লেয়ারকে এই বোর্ডের অন্যতম নির্বাহী সদস্য মনোনীত করেন তিনি।
