কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের ময়নাতদন্তের বিস্তারিত নথি প্রকাশ
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের মৃত্যুর পরপরই তোলা কিছু অপ্রকাশিত ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন সরকার। এসব ছবিতে দেখা যায়, এপস্টিনের মরদেহ স্ট্রেচারে শোয়ানো এবং তার জ্ঞান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন চিকিৎসকেরা।
এপস্টিনের মৃত্যু নিয়ে এফবিআইয়ের অবমুক্ত করা (ডিক্লাসিফায়েড) তদন্ত প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে মোট ২০টি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব ছবির সঙ্গে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং কারাগারের অভ্যন্তরীণ নথিও প্রকাশ করা হয়েছে।
শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) এপস্টিন সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশ করে। এসব নথির মধ্যেই ছবিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারের একটি সেল থেকে এপস্টিনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। যৌন পাচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিচারাধীন অবস্থায় তিনি সেখানে বন্দি ছিলেন।
সদ্য প্রকাশিত এফবিআই প্রতিবেদনের শিরোনাম 'জেফ্রি এপস্টিন ডেথ ইনভেস্টিগেশন'। এটি নিউইয়র্কে সংস্থাটির ফিল্ড অফিস পরিচালিত তদন্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ২৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনের প্রতিটি পাতায় 'আনক্লাসিফায়েড' সিল রয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, সম্পাদনা ছাড়া (আনরিডাক্টেড) প্রকাশিত নথিগুলোতে এপস্টিনের গলার 'ক্লোজ-আপ' (কাছ থেকে তোলা) ছবি এবং আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়। এতে তার ময়নাতদন্তের বিস্তারিত তথ্য এবং মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবেদনও রয়েছে।
বেশ কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, স্ট্রেচারে শোয়ানো এপস্টিনের জ্ঞান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন চিকিৎসকেরা। ছবিগুলোর তারিখ ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট এবং সময় স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৯ মিনিট। তাকে সেলে অসাড় অবস্থায় পাওয়ার প্রায় ১৬ মিনিট পর এসব ছবি তোলা হয়। ছবির স্থান স্পষ্ট নয়। তবে নথি অনুযায়ী, সকাল ৬টা ৩৯ মিনিটে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ থেকে ধারণা করা যায়, ছবিগুলো হাসপাতালেই তোলা।
আরও তিনটি ছবিতে এমন নোট রয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় সেগুলো হাসপাতালে তোলা। এসব ছবিতে তার মাথার ক্লোজ-আপ এবং গলায় দৃশ্যমান আঘাত দেখা যায়। প্রতিটি ছবিতে এপস্টিনের নাম লেখা থাকলেও কয়েকটিতে নামের বানান ভুল করে 'Jeffery' লেখা হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, নতুন প্রকাশিত ছবিগুলো ৩০ জানুয়ারির আগে অনলাইনে ছিল না। নথিতে থাকা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গেও এসব ছবির মিল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিওজে এবং নিউইয়র্কের চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের (ওসিএমই) দাখিল করা ৮৯ পৃষ্ঠার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনের কিছু অংশে এপস্টিনের গলার থাইরয়েড কার্টিলেজে দুটি ফাটলের স্ক্যানও রয়েছে।
এফবিআই প্রতিবেদনে ২০১৯ সালের ৬ জুলাই ফেডারেল যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এপস্টিনের বন্দিজীবনের ছয় পৃষ্ঠার একটি সময়রেখা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২৩ জুলাই আত্মহত্যার চেষ্টা করার পর তাকে 'সুইসাইড ওয়াচ'-এ রাখা হয়েছিল। সে সময় এপস্টিন তার সেলমেট (সহবন্দী) নিকোলাস টার্টাগ্লিওনের বিরুদ্ধে তাকে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ করেন। নিকোলাস একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং একটি হত্যা মামলার আসামি।
নথি অনুযায়ী, পরদিন এক মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে বৈঠকে এপস্টাইন বলেন, 'আমার নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই' এবং আত্মহত্যা করা 'পাগলামি হবে'। ২৫ জুলাই তিনি জানান, তিনি মামলা লড়তে চান এবং নিজের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চান।
ডিওজে প্রকাশিত অন্যান্য নথিতে দেখা যায়, কারাগারের ওয়ার্ডেন এপস্টিনকে একা না রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি সেলে '৩০ মিনিট পরপর চেক' এবং 'অঘোষিত টহল' চালানোর নির্দেশ দেন।
মৃত্যুর আগের দিন এপস্টিনের সেলমেটকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারানথি অনুযায়ী, ৯ আগস্ট রাতে কারারক্ষীরা রাত ৩টা ও ৫টার নির্ধারিত চেক করতে ব্যর্থ হন। ওই ইউনিটের ক্যামেরা সিস্টেমও তখন অচল ছিল। পরদিন সকালে নিয়মিত চেকের সময় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এপস্টিন সংক্রান্ত ফাইলগুলোর অংশ হিসেবে এফবিআই প্রতিবেদনের একটি সম্পাদিত (রিডাক্টেড) সংস্করণও প্রকাশ করা হয়েছে। এটি ১৭ পৃষ্ঠার এবং এতে মনোবিজ্ঞানীর প্রতিবেদন, বন্দিজীবনের সময়রেখা কিংবা ছবিগুলো অন্তর্ভুক্ত নেই। কেন একই প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ ও সম্পাদিত—দুটি সংস্করণই প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ডিওজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি। তবে এফবিআই মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
