Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Saturday
March 14, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
SATURDAY, MARCH 14, 2026
তাইওয়ান যুদ্ধে জিততে কত ক্ষেপণাস্ত্র লাগবে, তার হিসাব কষছে চীন

আন্তর্জাতিক

গ্যাব্রিয়েল হনরাদা, এশিয়া টাইমস
01 February, 2026, 07:50 pm
Last modified: 01 February, 2026, 08:00 pm

Related News

  • ইরান কি যুদ্ধে চীনের তৈরি অতি-নিখুঁত 'বেইডো' নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করছে?
  • ইরানে হামলায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ২ লাখ ডলার সহায়তা দেবে চীন
  • মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে পালাতে ধনকুবেরদের ভরসা ব্যক্তিগত জেট, ভাড়া আকাশচুম্বী
  • সংকেতের লড়াই: যেভাবে রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা তথ্যে সুবিধা পাচ্ছে ইরান
  • চীনের তেলের লাইফলাইনকে চাপে ফেলেছে ইরান যুদ্ধ

তাইওয়ান যুদ্ধে জিততে কত ক্ষেপণাস্ত্র লাগবে, তার হিসাব কষছে চীন

তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধে যে মাত্রা ও গতিতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন হবে, চীনের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প কি সেই হারে উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে পারবে?
গ্যাব্রিয়েল হনরাদা, এশিয়া টাইমস
01 February, 2026, 07:50 pm
Last modified: 01 February, 2026, 08:00 pm

গতবছর বেইজিংয়ে সামরিক কুচকাওয়াজে নিজেদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে চীন। ছবি: এশিয়া টাইমস

আধুনিক যুদ্ধ যখন শক্তিক্ষয়–নির্ভর যুদ্ধের দিকে ঝুঁকছে, তখন কম খরচে অস্ত্র তৈরিতে চীনের আগ্রহও বাড়ছে। এই উপলদ্ধি, একটি ব্যবহারিক ও বাস্তব প্রশ্নকেই সামনে আনে: তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধে যে মাত্রা ও গতিতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন হবে, চীনের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প কি সেই হারে উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে পারবে?

চলতি মাসে হংকং-ভিত্তিক সাংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (এসসিএমপি) জানায়, ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরের ড্রোন ও দীর্ঘস্থায়ী শক্তিক্ষয়মূলক যুদ্ধের (ওয়ার অব এট্রিশন) প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চীনের কম খরচের গাইডেড মিউনেশন আয়ত্ব করা উচিত—এমন সুপারিশ করা হয়েছে চীনের একটি সামরিক ম্যাগাজিনে। ওই বিশ্লেষণে আধুনিক যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এসসিএমপি উদ্ধৃত 'অর্ডন্যান্স সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি' সাময়িকীতে চলতি মাসে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়, কম খরচের হুমকি মোকাবিলায় ব্যয়বহুল নিখুঁত অস্ত্র (প্রিসিশাওন ওয়েপন) ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর্থিকভাবে টেকসই নয়। উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান, যেখানে হুথি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া দুই হাজার ডলারেরও কম মূল্যের ড্রোন ভূপাতিত করতে যেসব ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তার প্রতিটির দাম ২৫ লাখ ডলারের বেশি। এর ফলে ২০২৩ সালে হুথি ড্রোন ঠেকাতে মার্কিন বাহিনীর মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

এই বাস্তবতা বুঝেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তুলনামূলক সস্তা দীর্ঘপাল্লার মিউনেশন উন্নয়নে কাজ করছে—যেমন এল৩হ্যারিসের 'উলফ প্যাক' সিস্টেম। এটি একটি ছোট আকারের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের শ্রেণিভুক্ত, যার প্রতিটির দাম আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লাখ ডলার। একইসঙ্গে এটি স্থল, নৌ ও আকাশপথের সব ধরনের প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে ব্যবহারের জন্য নকশা করা হয়েছে।

যদিও এই ধরনের কম খরচের ব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের গতি, পাল্লা ও নির্ভরযোগ্যতার কিছুটা ছাড় দিতে হয়—তবু নিবন্ধটি বলছে—চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) একই ধরনের 'হাই–লো মিক্স' কৌশল থেকে লাভবান হতে পারে। 'হাই–লো মিক্স' হচ্ছে যেখান একইসঙ্গে উচ্চ ব্যয়ের আধুনিক ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি স্বল্প খরচের এ ধরনের প্রিসিশান মিউনেশনও প্রচুর পরিমাণে থাকবে সামরিক মজুতে। যুদ্ধের সময় যাতে দুইয়ের সংমিশ্রণে শত্রুর ওপর আঘাত হানা যায়। চীনের বিশাল শিল্পভিত্তি এবং ব্যাপকনহারে অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বিবেচনায় এই কৌশলে চীন অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারবে। এমনকী ওয়াশিংটনের চেয়েও সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পারবে।

নিবন্ধে আরও বলা হয়, চীনের দৃঢ় বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক কম খরচের এসব ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ অনেকটাই থামাতে পারবে। তবু দ্রুত বিজয়ের ক্ষেত্রেও সস্তা গোলাবারুদ বা ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রাখাও অপরিহার্য। এতে আধুনিক যুদ্ধে শিল্প সক্ষমতা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণকে নির্ধারক উপাদান হিসেবে দেখার প্রবণতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

তাইওয়ানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সংঘাতে, যুদ্ধের শুরু থেকে পুরো অভিযানে চীন বিপুল পরিমাণ প্রিসিশান গাইডেড মিউনেশন (সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলা) নিক্ষেপ করবে—এমনটাই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (ট্র্যাডক) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের 'জয়েন্ট ফায়ারপাওয়ার স্ট্রাইক ক্যাম্পেইন' একটি মূল অপারেশনাল ধারণা, যার লক্ষ্য সংঘাতের শুরুতেই সমন্বিত ও বহুক্ষেত্রভিত্তিক হামলার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমগুলো অচল করে দেওয়া।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ অভিযানে পিএলএ রকেট ফোর্স, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও স্থলবাহিনীর আঘাত হানার সক্ষমতা একত্র করে প্রতিপক্ষের কমান্ড ও কন্ট্রোল নোড, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিমানঘাঁটি, বন্দর এবং সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে—যাতে শত্রুপক্ষের অপারেশনাল ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এই কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে। চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে নিক্ষেপযোগ্য এসব ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘপাল্লার ও উচ্চমাত্রায় নিখুঁতভাবে লক্ষ্যে আঘাত নিশ্চিত করে। তাইওয়ানকে অবরোধ করে রাখার সময় বা সেখানে  উভচর অভিযানের সহায়ক হিসেবে এমন আঘাত করা হবে। 

ট্র্যাডকের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, তাইওয়ানে কোনো বড় ৎ পরিসরের অভিযান শুরুর আগে ব্যাপকভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে, যা প্রাথমিক জয়েন্ট ফায়ারপাওয়ার স্ট্রাইকের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তবে পরবর্তী ধাপে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত সীমিত হয়ে পড়তে পারে বলেও ধারণা হয়েছে। কারণ এধরনের ক্ষেপণাস্ত্র যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি উৎপাদনেও কিছুটা বেশি সময় লাগে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে চীন কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে—তা নিয়ে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সিএনএনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে উইলিয়াম অ্যালবার্ক উল্লেখ করেন, একসময় চীন মনে করত তাইওয়ানকে পরাজিত করতে তাদের ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন। তবে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ চীনের এই হিসাব বদলে দিয়েছে। বেইজিং এখন সম্ভবত প্রয়োজনীয় সংখ্যার অনুমান আরও অনেক বাড়িয়েছে।

বিশেষভাবে চীনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের দিকে তাকালেও তার স্পষ্ট ছাপ দেখা যাবে; যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের 'চায়না মিলিটারি পাওয়ার রিপোর্ট' (সিএমপিআর) দেখায় যে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পিএলএ রকেট ফোর্সের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

২০২০ সালে চীনের হাতে ছিল এক হাজারের বেশি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসআরবিএম), কয়েকশ মধ্যমপাল্লার (এমআরবিএম) ও মধ্যবর্তী পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইআরবিএম), এবং প্রায় ১০০টি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা।

২০২১ সালে এসআরবিএমের সংখ্যা এক হাজারের ওপরে থাকলেও এমআরবিএম ও আইআরবিএম ভাণ্ডার আরও বিস্তৃত হয়—বিশেষ করে ডিএফ-২১ ও ডিএফ-২৬ সিস্টেম। ২০২২ সালে চীন ৩০০টিরও বেশি নতুন আইসিবিএম সাইলো নির্মাণ শুরু করে, যা কৌশলগত (পারমাণবিক অস্ত্রবাহী) ক্ষেপণাস্ত্র বৃদ্ধির গতি নাটকীয়ভাবে বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

২০২৩ সালে পেন্টাগন মূল্যায়ন করে যে চীনের আইসিবিএম উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং মোট ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮৫০টি। ২০২৪ সালে চীনের হাতে ছিল ৫০০টি কার্যকর আইসিবিএম উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র—যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পিএলএ রকেট ফোর্সকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্থলভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের হাতে এক হাজারের বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকার পূর্বাভাস দেয়।

এই প্রবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে বিশাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পভিত্তি। ২০২১ সালের মে মাসে চায়না অ্যারোস্পেস স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের (ক্যাসি) জন্য করা এক প্রতিবেদনে পিটার উড ও অ্যালেক্স স্টোন উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন দ্রুত তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

উড ও স্টোনের তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত জায়ান্ট চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করপোরেশন (ক্যাস্ক) এবং চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন (ক্যাসিক) ২০০০ সালের পর থেকে জনবল ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে। ২০২০ সাল পর্যন্ত ক্যাস্কে কর্মরত ছিলেন ১ লাখ ৬৪ হাজার এবং ক্যাসিকে ১ লাখ ৫০ হাজার জন।

তাঁরা জানান, বেইজিংয়ের ফ্যাক্টরি-২১১ এবং তিয়ানজিন ও হেবেইয়ে নতুন স্যাটেলাইট ক্যাম্পাসে উৎপাদন ও গবেষণার জন্য লাখ লাখ বর্গমিটার জায়গা যোগ হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাসিকের চতুর্থ একাডেমি চারটি নতুন জোন ও একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সেন্টার গড়ে তুলেছে, যাতে নকশা তৈরির সময় কমানো যায়।

যদিও চীনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট হার প্রকাশ্যে জানা যায় না, তবে উড ও স্টোন নিশ্চিত করেন যে সামরিক চাহিদা ও চীনের ক্রমবর্ধমান মহাকাশ উৎক্ষেপণ খাতের কারণে কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত রকেট মোটরের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে কেবল উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেই যুদ্ধকালীন টিকে থাকা নিশ্চিত হয় না—বিশেষ করে যদি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়াটাই অত্যাধুনিক, তবে প্রযুক্তিগতভাবে জটিল ও ঘনিষ্ঠভাবে মুষ্টিমেয় কিছু কারখানা বা অবকাঠামোয় সীমাবদ্ধ থাকে।

চীনের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি থাকা সত্ত্বেও এখানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসির (আইএফএসএইচ) এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞ মার্কুস শিলার বলেন, চীনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প অত্যন্ত কেন্দ্রীয়কৃত, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ও প্রযুক্তিগতভাবে পরিণত হলেও কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় সীমাবদ্ধ।

শিলারের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও উৎপাদন মূলত ক্যাস্ক ও ক্যাসিকের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত। তাদের অধীনস্থ একাডেমিগুলো কঠিন জ্বালানি, লিকুইড ফুয়েল রকেট ইঞ্জিন, গাইডেন্স এবং চূড়ান্ত সংযোজনের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে কাজ করে। আর এই নির্ভরতা বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয়কে জটিল করে তোলে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তরল জ্বালানি থেকে কঠিন জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্রে রূপান্তরের দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া চীনের জন্য ভ্রাম্যমাণ ও একাধিক লক্ষ্যভেদে সক্ষম (এমআইআরভি) সিস্টেম উন্নয়নে কয়েক দশক দেরী ঘটিয়েছে।

এ ছাড়া গোপনীয়তা, ঘনঘন প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন এবং দায়িত্বের পুনরাবৃত্তির কারণে তথ্যের অস্পষ্টতা ও অসামঞ্জস্য রয়ে গেছে, যা উৎপাদন দক্ষতা ও প্রকৃত আউটপুট মূল্যায়নকে কঠিন করে তুলেছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনেও চীনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বড় আকারের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিতসংখ্যক রাষ্ট্রায়ত্ত কংগ্লোমারেট—বিশেষ করে ক্যাস্ক ও ক্যাসিকের মধ্যে কেন্দ্রীভূত। ফলে সিকার ক্যালিব্রেশন, ওয়ারহেড সংযোজন বা গাইডেন্স মডিউল অ্যাসেম্বলিতে বিঘ্ন ঘটলে তা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শ্রেণির ওপর ধারাবাহিক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, উৎপাদনকাজ বিশেষ ধরনের উচ্চশক্তির বিস্ফোরক উপাদান (আরডিএক্স, এইচএমএক্স, সিএল-২০) এবং মাইক্রোইলেকট্রনিকস ও অপটোইলেকট্রনিকসের মতো সূক্ষ্ম উপাদানের ওপর নির্ভরশীল—যার কিছু এখনো আমদানি নিয়ন্ত্রণ বা লক্ষ্যভিত্তিক সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকিতে রয়েছে।

যদিও হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থায়ী ও উচ্চমাত্রায় স্বয়ংক্রিয় কারখানা এবং ডিজিটালি সংযুক্ত সরবরাহব্যবস্থা চীনের উৎপাদন দক্ষতা বাড়াচ্ছে, কিন্তু একই সঙ্গে এগুলো সাইবার হামলার ঝুঁকিও বাড়ায়—যা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, তাইওয়ানকে ঘিরে যুদ্ধই প্রকাশ করে দেবে—চীনের এই বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র সমাহার কি সত্যিই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধসক্ষমতা হিসেবে সামনে আসবে, নাকি প্রতিরক্ষা শিল্পের সংকীর্ণতা ও ব্যয়ের চাপ সেই ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টিকেই ভোঁতা করে দেবে, যার ওপর ভিত্তি করে চীন যুদ্ধপরিকল্পনা করছে।

Related Topics

টপ নিউজ

চীন / ক্ষেপণাস্ত্র / তাইওয়ান / যুদ্ধ

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: টিবিএস ক্রিয়েটিভ
    যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাহাজ ভাড়া করায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের তেল পরিবহনে জটিলতা
  • ছবি: সংগৃহীত
    রাজধানীর এভারকেয়ারে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার
  • ছবি: রয়টার্স
    ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প, হোয়াইট হাউসের অন্দরেই প্রবল মতভেদ
  • ছবি: রয়টার্স
    যে ৭ কারণে ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প এখনো জয়ী হতে পারেননি
  • বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকার খুলনা-মোংলা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি: ফোকাস বাংলা
    বউ বরণের আনন্দ এখন লাশ দাফনের শোক: বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ নিহত ১৪
  • ছবি: টিবিএস
    আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ, একটি সচল হতে লাগবে ৩ দিন  

Related News

  • ইরান কি যুদ্ধে চীনের তৈরি অতি-নিখুঁত 'বেইডো' নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করছে?
  • ইরানে হামলায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ২ লাখ ডলার সহায়তা দেবে চীন
  • মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে পালাতে ধনকুবেরদের ভরসা ব্যক্তিগত জেট, ভাড়া আকাশচুম্বী
  • সংকেতের লড়াই: যেভাবে রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা তথ্যে সুবিধা পাচ্ছে ইরান
  • চীনের তেলের লাইফলাইনকে চাপে ফেলেছে ইরান যুদ্ধ

Most Read

1
ছবি: টিবিএস ক্রিয়েটিভ
বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাহাজ ভাড়া করায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের তেল পরিবহনে জটিলতা

2
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

রাজধানীর এভারকেয়ারে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

3
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প, হোয়াইট হাউসের অন্দরেই প্রবল মতভেদ

4
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

যে ৭ কারণে ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প এখনো জয়ী হতে পারেননি

5
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকার খুলনা-মোংলা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি: ফোকাস বাংলা
বাংলাদেশ

বউ বরণের আনন্দ এখন লাশ দাফনের শোক: বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ নিহত ১৪

6
ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ, একটি সচল হতে লাগবে ৩ দিন  

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net