চীনের সঙ্গে চুক্তি যুক্তরাজ্যের জন্য ‘খুবই বিপজ্জনক’: ট্রাম্প
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বেইজিং সফর চলাকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, চীনের সঙ্গে চুক্তি যুক্তরাজ্যের জন্য 'খুবই বিপজ্জনক' হবে।
তিন দিনের সফরের অংশ হিসেবে কিয়ার স্টারমার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু চুক্তি ঘোষণা করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন।
স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, চীনের সঙ্গে ব্রিটেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধিকে তিনি কীভাবে দেখছেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'আচ্ছা, তাদের জন্য এটা করা খুবই বিপজ্জনক।'
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন এই সফর এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিল। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে যে, আগামী এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজেরও চীন সফরের কথা রয়েছে।
ট্রাম্প চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের বিষয়ে আর কিছু না বলে কানাডার দিকে মোড় নেন এবং একই ধরনের সতর্কতা উচ্চারণ করেন।
তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, কানাডার জন্য এটা আরও বেশি বিপজ্জনক।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'কানাডা ভালো করছে না। তারা খুবই খারাপ করছে এবং আপনারা চীনকে এর সমাধান হিসেবে দেখতে পারেন না।'
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি বেইজিং সফরকালে চীনের সঙ্গে যেসব অর্থনৈতিক চুক্তি করেছেন, তা কার্যকর করলে কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি চলতি সপ্তাহের শুরুতেই দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর স্টারমার বলেছিলেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক 'ভালো ও শক্তিশালী অবস্থানে' রয়েছে। এরপরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এল।
স্টারমার শুক্রবার বলেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে 'খুব ভালো বৈঠক' হয়েছে এবং তা 'ঠিক সেই পর্যায়ের সম্পৃক্ততা এনে দিয়েছে যা আমরা আশা করেছিলাম'।
বেইজিংয়ে ব্যাংক অব চায়নায় ইউকে-চায়না বিজনেস ফোরামের এক সভায় তিনি বলেন, 'আমরা উষ্ণভাবে সম্পৃক্ত হয়েছি এবং আসলে কিছু বাস্তবিক অগ্রগতি করেছি, কারণ যুক্তরাজ্যের দেওয়ার মতো প্রচুর কিছু রয়েছে।'
স্টারমারের সফরে এখন পর্যন্ত চীনে ব্রিটিশদের ভিসামুক্ত ভ্রমণ, হুইস্কির শুল্ক কমানোর পাশাপাশি চীনে ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রেজেনেকার কারখানা নির্মাণে এক হাজার ৯০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের চুক্তি হয়েছে। এছাড়া সংগঠিত অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসনের মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও আরও সহযোগিতার চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
চীনে ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান ক্রিস টরেন্স বেইজিংয়ে স্টারমার সফরকে 'সাফল্যমণ্ডিত' হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
টরেন্স বিবিসিকে বলেন, 'যুক্তরাজ্যের জন্য চীনের দিকে তাকানোটা যৌক্তিক, কারণ এটি তাদের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।'
তিনি আরও যোগ করেন যে, অন্যান্য পশ্চিমা নেতারাও সম্প্রতি বেইজিং সফর করেছেন অথবা শীঘ্রই করবেন, যার মধ্যে ট্রাম্পও রয়েছেন, যিনি এপ্রিলে সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
টরেন্স বিবিসিকে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অন্যান্য অর্থনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, ভর্ৎসনা করছে এবং যেসব দেশ চীনের সঙ্গে চুক্তি করছে তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র নিজেও হয়তো চীনের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে। আসলে আমরা এ বছরই সেটা আশা করছি।'
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ওয়ার্কিং ডিনারে অংশ নিতে টোকিও রওনা হওয়ার আগে স্টারমাড়ের চীনে শেষ গন্তব্য হিসেবে সাংহাই যাওয়ার কথা ছিল।
বিরোধী এমপিরা তার চীন সফরের সমালোচনা করেছেন—যা ২০১৮ সালের পর কোনো ব্রিটিশ নেতার প্রথম চীন সফর।
ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ বলেছেন, স্টারমার 'প্রেসিডেন্ট শি-র কাছে মাথানত করতে বেইজিংয়ে গিয়েছেন'। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তারা 'চীনা টেবিলের অর্থনৈতিক উচ্ছিষ্টের বিনিময়ে জাতীয় নিরাপত্তা' বিকিয়ে দিচ্ছে।
ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ছিল যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, আর চীন ছিল চতুর্থ বৃহত্তম।
