কৌশলগত পরাজয় ঢাকতেই ‘হতাশা’ থেকে খারগ দ্বীপে হামলা চালিয়েছেন ট্রাম্প: বিশ্লেষক
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবার্ট পেপ মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'হতাশা' থেকেই ইরানের খারগ দ্বীপে বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক পেপ বলেন, 'কারো মাথায় কী চলছে তা বোঝা কঠিন, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে তো বটেই। তবে আমার মনে হয়, তিনি এমন একটি পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চাইছেন, যা প্রতি ঘণ্টা ও প্রতি দিন তার হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্প শুরুতে কয়েক দিনের একটি যুদ্ধকৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন, কিন্তু এখন তা দীর্ঘায়িত হতে শুরু করেছে।
রবার্ট পেপের মতে, ট্রাম্পের প্রাথমিক ধারণা ছিল যে হামলার মুখে ইরানের শাসনব্যবস্থা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে এবং সেখানে সহজেই ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে। তিনি বলেন, 'ট্রাম্প ভেবেছিলেন তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারবেন। কিন্তু পরে তিনি নিজেই বলেছেন যে, ইরানি নেতৃত্বের পতন না হওয়ায় তিনি অবাক হয়েছেন।'
বিশ্লেষক পেপ আরও যোগ করেন যে, ট্রাম্প এখন বুঝতে পেরেছেন সামরিকভাবে তিনি হয়তো কিছু সাফল্য পেয়েছেন, কিন্তু সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনে বা কৌশলগতভাবে তিনি ব্যর্থ। আর এই ব্যর্থতা ঢাকতেই তিনি এখন নতুন নতুন সামরিক পরিকল্পনার দিকে ঝুঁকছেন।
খারগ দ্বীপে হামলা চালানো বা সেখানে মেরিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনার নেতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরেন এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, 'খারগ দ্বীপের পরিকল্পনা বা সেখানে মেরিন সেনাদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি সামরিকভাবে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হতে পারে। কারণ এর মাধ্যমে মার্কিন মেরিন সেনাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য ইরানি বাহিনীর গুলির মুখে ঠেলে দেয়া হবে।'
কৌশলগত দিক থেকে এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে বিজয়ী করবে না বলে মনে করেন পেপ। তিনি বলেন, 'এটি উল্টো ফল দেবে। এর ফলে বাজার থেকে আরও তেল কমে যাবে, যা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দাম আরও বাড়িয়ে দেবে।'
