ইরান চাইলে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের দরজা খোলা আছে: মার্কিন কর্মকর্তা
ইরান যদি ওয়াশিংটনের সাথে যোগাযোগ করতে চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার জন্য 'প্রস্তুত'। গতকাল সোমবার একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। এমন এক সময়ে এই মন্তব্য এল যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারি দমন-পীড়নের ইস্যুতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
ইরানের সাথে আলোচনার শর্তাবলী সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, 'আমি মনে করি তারা শর্তগুলো জানে। তারা এসব শর্ত সম্পর্কে অবগত।'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি 'রণতরির বিশাল বহর' ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তবে তিনি আশা করেন যে এটি তাকে ব্যবহার করতে হবে না। একই সাথে তিনি তেহরানকে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার বিরুদ্ধে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা চালিয়ে যায়, তবে হস্তক্ষেপ করার হুমকি বারবার দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। তবে এরই মধ্যে দেশব্যাপী চলমান সেই বিক্ষোভের তীব্রতা কমে এসেছে। প্রেসিডেন্ট বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে হত্যাকাণ্ড এখন কমছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে বর্তমানে বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা সোমবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি এবং সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এটি মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করতে অথবা প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে ট্রাম্পের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী অতীতে উত্তেজনার সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সেনাসংখ্যা বৃদ্ধি করেছে, যা প্রায়ই ছিল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ।
তবে, গত বছরের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে হামলার আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী সেখানে বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছিল।
এদিকে শুক্রবার ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ইরান যে-কোনো আক্রমণকে 'আমাদের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ' হিসেবে বিবেচনা করবে।
