তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা নির্ধারণসহ ৮ দাবি মালিক সমিতির
ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা নির্ধারণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং বাস্তবতার নিরিখে সামঞ্জস্যপূর্ণ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।
অ্যাসোসিয়েশনের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবতার আলোকে ক্রেতা সাধারণকে সচেতন ও ধৈর্য ধারণ করা; ট্যাঙ্ক শূন্য অবস্থায় তেল নিতে পাম্পে হুমড়ি খেয়ে না পড়া; উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সব পেট্রোল পাম্পে নিরাপত্তা জোরদার; ডিপো থেকে ট্যাংকলরির চেম্বারের ধারণক্ষমতা (যেমন ৪,৫০০ লিটার) অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা, নচেৎ পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে; এবং সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা।
এ ছাড়া পেট্রোল পাম্পে অযথা হামলা ও মালিকদের ওপর একতরফা দোষ চাপানো বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের ট্যাগ অফিসার নিয়োগকে তারা সাধুবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক বলেন, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে অস্থিরতা ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পাম্প মালিকরা চাপে রয়েছেন। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পাম্পগুলো সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি বিক্রি করছে এবং কর্মীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
এরপরও সঠিক তথ্য না জেনে পাম্পে হামলা, কর্মীদের নির্যাতন ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, 'আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নই, বরং সব সময় সহযোগিতা করে আসছি এবং দুর্যোগেও পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।'
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারে সরবরাহ অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি তেলে রেশনিং চালু করেছে। এতে রাজধানীসহ সারা দেশে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে এবং 'তেল ফুরিয়ে যাওয়ার' আতঙ্ক পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে।
সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে এবং রেশনিং কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ তেলের মজুত রয়েছে, তা দিয়ে সংকট মোকাবিলা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা সাময়িক এবং সরকার তা মোকাবিলায় কাজ করছে। তবে সবাই যদি ট্যাঙ্ক পূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় নামেন, তাহলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
একজনের অতিরিক্ত সংগ্রহ অন্যজনকে জরুরি প্রয়োজনেও তেলবঞ্চিত করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'প্যানিক বায়িং' বাজারকে অস্থিতিশীল করে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত করা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ঠিক নয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।
তিনি বলেন, একজন মোটরসাইকেল চালক নির্ধারিত ২ লিটার তেল নিলে লাইনে থাকা অন্যরাও প্রয়োজনীয় তেল পাবেন। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতাই সংকট উত্তরণের প্রধান উপায়।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসি থেকে বারবার জানানো হচ্ছে, দেশে তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। বরং অবৈধ মজুত ও গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাধারণ নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিত্তিহীন তথ্য এড়িয়ে চলা, পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রেশনিং রসিদ সংগ্রহের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক চাপ সত্ত্বেও সরকার দাম না বাড়িয়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে, তাই নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
দীর্ঘমেয়াদে রিফাইনারি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন আচরণই সাময়িক সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে।
উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পাম্পগুলোর পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক জায়গায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এবং হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ, অর্থ সম্পাদক মিজান প্রধান, যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও আবু হিরণসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
