বাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপ খেলতে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে এখনও কোনো আলোচনা করেনি আইসিসি
আগামী মাসে ভারতে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারত সফরে যাবে না বলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আলোচনায় এসেছে স্কটল্যান্ড। র্যাঙ্কিং অনুযায়ী যারা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি, তাদের মধ্যে শীর্ষে আছে স্কটিশরা। ফলে আইসিসি যদি বাংলাদেশের বিকল্প কোনো দল নিতে চায়, তবে স্কটল্যান্ডের সুযোগ পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বিবিসি স্পোর্ট জানিয়েছে, আইসিসি এখন পর্যন্ত ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেনি।
অন্যদিকে, ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে আগ বাড়িয়ে আইসিসির সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রতি সম্মান জানিয়েই তারা আপাতত নীরবতা পালন করছেন।
স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা বর্তমানে অনুশীলনে ফিরেছেন। তারা আগামী মার্চে নামিবিয়া ও ওমানের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বিশ্বকাপের ডাক এলে তাঁরা যে প্রস্তুত থাকবেন, সেটিও এক প্রকার নিশ্চিত।
গত গ্রীষ্মে ইউরোপীয় বাছাইপর্বে চতুর্থ হওয়ায় ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা হারায় স্কটল্যান্ড। নেদারল্যান্ডস ও ইতালি ওই অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপের টিকিট পায়। এখন বাংলাদেশের ভারত সফরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে স্কটল্যান্ডের ভাগ্য। তবে আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নেবে, নাকি অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেবে—তা নিয়ে জল্পনা চলছে।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং তারা ভারত সফরে যাবে কি না—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে আগামী বুধবার। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন-ক্রিকইনফো ও বিবিসি স্পোর্টসের খবরে এমনটিই জানানো হয়েছে।
যদি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় কিংবা কোনো কারণে অংশ না নেয়, তবে বিকল্প দল বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কী হবে—তা জানতে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি স্পোর্ট। সাধারণত কোনো দেশ নাম প্রত্যাহার করলে আইসিসি তার বদলে অন্য কোনো দলকে সুযোগ দেয়। ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে রাজনৈতিক কারণে জিম্বাবুয়ে সরে দাঁড়ালে তাদের জায়গায় 'সেরা বিকল্প' হিসেবে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। ২০২৪ সাল থেকে ২০ দলের এই বিশ্বকাপে কোয়ালিফাইং প্রক্রিয়া এখন আঞ্চলিক ভিত্তিতে হয়। ফলে র্যাঙ্কিংয়ে ১৪ নম্বরে থাকা স্কটল্যান্ডই সরাসরি সুযোগ পাবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। এক্ষেত্রে আইসিসি নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ভারত যেতে বাংলাদেশের অনীহার প্রেক্ষিতে বিকল্প কিছু সমাধানও ভাবছে আইসিসি। একটি উপায় হলো—বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের এমন কোনো শহরে আয়োজন করা যেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনা কম। অন্যটি হলো—বাংলাদেশের সব ম্যাচ সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া।
ইতিমধ্যে খবর বেরিয়েছে যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে তাদের গ্রুপ অদলবদলের একটি অনুরোধ আইসিসিকে করেছে। আয়ারল্যান্ডের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা রয়েছে। যদি গ্রুপ অদলবদল হয়, তবে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় খেলতে পারবে এবং আয়ারল্যান্ড যাবে ভারতে।
অবশ্য ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের এক মুখপাত্র বিবিসি স্পোর্টকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তাদের সূচিতে কোনো পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হয়নি। তবে তারা পরিস্থিতির ওপর গভীরভাবে নজর রাখছে। আগামী বুধবারের বৈঠকেই পরিষ্কার হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য কোন দিকে যাচ্ছে।
