হুথিদের ওপর নজরদারি নাকি অন্য কিছু, সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েল আসলে কী চায়?
সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইসরায়েল গত বছরের শেষ দিকে। এর পরপরই সোমালিয়া ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়, নিন্দা আসে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। তখনই ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সতর্ক করে বলেছিল, সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের যেকোনো উপস্থিতিকে তারা 'সামরিক লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে গণ্য করবে।
সম্প্রতি সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। চলতি মাসে সোমালিল্যান্ড সফরে যান ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সাআর। তাঁর সফরের তালিকায় ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরশহর বেরবেরা। সফরের পর তিনি জানান, দুই পক্ষের আলোচনায় নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে সোমালিল্যান্ডের কর্মকর্তারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাঁদের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির সুযোগ দিতে তাঁরা প্রস্তুত। যদি তা বাস্তবায়ন হয়, তবে এডেন উপসাগরের ঠিক উল্টো দিকেই অবস্থান নেবে ইসরায়েলি বাহিনী। অর্থাৎ হুথিদের নাকের ডগাতেই ঘাঁটি গাড়বে ইসরায়েল। এতে হুথিদের আশঙ্কা আরও জোরদার হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে হুথি নেতা আবদেল-মালিক আল-হুথি আবারও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আগের হুমকির বিষয়ে তিনি এখনো 'সিরিয়াস'। হুথি নেতার ভাষ্য, 'আমাদের আওতার মধ্যে কোনো ইসরায়েলি ঘাঁটি বা উপস্থিতি থাকলে, সেখানে হামলা চালাতে আমরা একমুহূর্তও ভাবব না।'
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্রদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের জেরে ইসরায়েল এখন কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। আগে যেখানে রাষ্ট্র পর্যায়ে গোপন সম্পর্ক রাখত, এখন সেখানে তারা ঝুঁকছে বিকল্প শক্তির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার দিকে। সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত ২৬ ডিসেম্বর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন, তখন প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানান মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়াকে। এতেই স্পষ্ট হয়, এই সম্পর্কের পেছনে গোয়েন্দা স্বার্থ কতটা জড়িত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে ইসরায়েল যে উদ্বিগ্ন, এই স্বীকৃতি তারই প্রমাণ। গাজায় যুদ্ধের সময় হুথিরা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে উত্তর ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এমনকি লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজেও হামলা করেছে তারা।
ইসরায়েল-আফ্রিকা রিলেশনস ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী এবং ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য শিরি ফেইন-গ্রসম্যান সম্প্রতি আই-২৪ নিউজকে বলেন, 'মানচিত্রের দিকে তাকালেই বোঝা যায় ইসরায়েল আসলে কী চাইছে। সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ইয়েমেনের হুথিদের কাছাকাছি একটি কৌশলগত অবস্থান পাবে ইসরায়েল। এমন এক সময়ে এটা ঘটছে, যখন ইসরায়েলের যত বেশি সম্ভব বন্ধু প্রয়োজন।'
সবার নজর এখন সোমালিল্যান্ডের বেরবেরা বন্দরের দিকে। এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই বন্দরটি লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে। ঐতিহাসিকভাবেই এর গুরুত্ব অনেক। উসমানীয় সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন, পরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ২০১৭ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত—সবারই নজর ছিল এখানে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথটি হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেন থেকে মাত্র ৫০০ কিলোমিটার দূরে।
গত নভেম্বরে ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ একটি মূল্যায়ন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, সোমালিল্যান্ডের ভূমি ইসরায়েলের জন্য 'মাল্টিপল মিশন' বা বহুমুখী অভিযানের ঘাঁটি হতে পারে। যেমন—হুথিদের ওপর নজরদারি ও তাদের অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা পর্যবেক্ষণ করা, ইয়েমেনের সরকারের প্রতি লজিস্টিক সমর্থন জোগানো এবং প্রয়োজনে হুথিদের ওপর সরাসরি হামলার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা।
গত দুই বছরে ইয়েমেনে একাধিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে হুথি নেতাদের মৃত্যু ছাড়াও দেশটির অর্থনৈতিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। তবে ইসরায়েলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা 'জেরুজালেম পোস্ট'কে জানিয়েছেন, এত কিছুর পরও হুথিদের থামানো যাচ্ছে না।
ইসরায়েলের সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'দাডো সেন্টার' বলছে, নিরাপত্তার পরিবেশ বদলে যাওয়ায় এখন ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা নীতি সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। হর্ন অব আফ্রিকা বিষয়ক বিশ্লেষক ম্যাক্স ওয়েব আল জাজিরাকে বলেন, 'এই প্রেক্ষাপটেই সোমালিল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লেবাননে হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়া এবং সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর এখন হুথিরাই ইরানের সবচেয়ে বড় প্রক্সি শক্তি, যারা সরাসরি ইসরায়েলের জন্য হুমকি।'
তিনি আরও বলেন, 'আগে ইসরায়েল কখনো হুথিদের আক্রমণের শিকার হয়নি, এটা তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। তাই এই হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েল যে নতুন মিত্র খুঁজবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।'
ইসরায়েল-আফ্রিকা রিলেশনস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো আশের লুবোটস্কি আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার হামলা চালাতে সক্ষম হলেও হুথিদের বিরুদ্ধে তাদের সার্বিক পারফরম্যান্স 'সন্তোষজনক নয়'।
এদিকে সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের যেকোনো উপস্থিতিতে হামলার হুমকি দিয়েছে হুথিরা। সোমালিল্যান্ডের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান মোস্তফা হাসান একে 'যুদ্ধ ঘোষণার শামিল' বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্লেষক লুবোটস্কি মনে করেন, সোমালিল্যান্ড বড় ঝুঁকি নিয়েছে। তিনি আগে পরামর্শ দিয়েছিলেন, ক্ষতি এড়াতে ইসরায়েলের বদলে অন্য দেশগুলো আগে স্বীকৃতি দিলে ভালো হতো। কিন্তু সোমালিল্যান্ড স্বীকৃতি চেয়েছিল এবং তারা মনে করে এই ঝুঁকি নেওয়া সার্থক।
ম্যাক্স ওয়েবের মতে, কূটনৈতিকভাবে দুই পক্ষেরই হারানোর কিছু নেই। তিনি বলেন, 'ইসরায়েল আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি একঘরে, আর সোমালিল্যান্ডকে কেউ স্বীকৃতিই দেয়নি। তাই ইসরায়েল চাপ নিতে প্রস্তুত, আর সোমালিল্যান্ড পেল তার কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু বা সুযোগ।'
ইসরায়েলের এই স্বীকৃতি সোমালিল্যান্ডের জন্য যেন ডুবে যাওয়া মানুষের কাছে খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো। কারণ, কূটনৈতিকভাবে সোমালিল্যান্ড এখন বেশ কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে।
২০২৩ সালে বড়সড় সামরিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল সোমালিল্যান্ড। বিচ্ছিন্নতাবিরোধী বাহিনীর কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লাস অ্যানড শহর ও এর আশপাশের এলাকা হারাতে হয় তাদের। গত এপ্রিলে সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রী হামজা বারে শহরটি সফর করেন এবং সেখানে সোমালিয়ার ফেডারেল ব্যবস্থার অধীনে নতুন প্রশাসন চালু করা হয়। চলতি সপ্তাহে সোমালিয়ার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ওই শহরে গেছেন, সপ্তাহান্তে প্রেসিডেন্টের যাওয়ার কথাও রয়েছে।
পাশাপাশি গত এক বছর ধরে সোমালিয়ার ফেডারেল সরকার আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ, ভিসা কড়াকড়ি ও বন্দরের বিধিনিষেধ আরোপ করে সোমালিল্যান্ডের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। আল জাজিরাকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোমালিল্যান্ড সরকারের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, এসব কারণে হারগেইসায় (সোমালিল্যান্ডের রাজধানী) এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
সোমালিল্যান্ডের ক্ষমতাসীন ওয়াদানি পার্টির চেয়ারম্যান হারসি আলি হাজি হাসান আল জাজিরা মুবাশেরকে বলেন, 'আমরা এখন অস্তিত্বের সংকটে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আমরা মরিয়া। তাই আমাদের অস্তিত্বের অধিকার স্বীকার করবে—এমন যেকোনো দেশকেই স্বাগত জানানো ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।'
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদিল্লাহির প্রশাসন ১৯৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল। তাতে বলা হয়, কূটনৈতিক স্বীকৃতির বিনিময়ে তারা কৌশলগত সুবিধা ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট, যিনি সিরো নামে পরিচিত, গত সপ্তাহে জানিয়েছেন—একমাত্র ইসরায়েলই সেই চিঠির জবাব দিয়েছে।
যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় সাফল্য আসেনি, তবে গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা টেড ক্রুজ ও স্কট পেরি সোমালিল্যান্ডের পক্ষে কথা বলেছেন। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি-নির্ধারণী নথি হিসেবে পরিচিত 'প্রজেক্ট ২০২৫'-এও সোমালিল্যান্ডের প্রসঙ্গ ছিল।
অবশ্য ট্রাম্প নিজে সোমালিল্যান্ডের স্বীকৃতির বিষয় থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের দেখাদেখি তিনি এখনই একই পথে হাঁটবেন না, তবে বিষয়টি নিয়ে 'পর্যালোচনা' চলছে।
অন্যদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাননি। তিনি শুধু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আল জাজিরাকে জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।
সোমালিল্যান্ডের সাধারণ জনগণ ইসরায়েলের সঙ্গে এই চুক্তির পক্ষেই রায় দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দেশটির সমর্থকরা পশ্চিমা বিশ্বের মিত্র হিসেবে সোমালিল্যান্ডের এই নতুন অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং এখন ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মেলানো—এ সবই চীন, ইরান ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান তৈরির ইঙ্গিত।
ডেনিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সোমালিয়া-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জেথ্রো নরম্যান বলেন, 'সোমালিল্যান্ড নিজেকে এমন এক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যেখানে বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থ এসে মিলেছে। বর্তমানের এই লেনদেন-নির্ভর বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভৌগোলিক অবস্থানটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'
সোমালিল্যান্ডের সাবেক গোয়েন্দা পরিচালক মোস্তফা হাসান জেরুজালেম সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন অ্যাফেয়ার্সকে জানান, স্বীকৃতি পাওয়ার পর সোমালিল্যান্ড ইসরায়েল ও পশ্চিমাদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক অ্যালন লিয়েল আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য শুধু ইয়েমেনে হামলার জন্য একটি ঘাঁটি পাওয়া নয়, বরং আরও সুদূরপ্রসারী। তাঁর মতে, 'সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে এই সম্পর্ক প্রমাণ করে যে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিপদের আশঙ্কা করছে এবং এমন বন্ধু খুঁজছে, যাদের মাধ্যমে কৌশলগত সুবিধা পাওয়া যাবে।'
তিনি আরও বলেন, গাজা যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তার মধ্যেও ইসরায়েল দেখাতে চায় যে তারা নতুন মিত্র তৈরি করতে সক্ষম।
সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর ইসরায়েল সফরের সময়ই সেখানে সোমালিল্যান্ডের দূতাবাস চালু হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সম্পর্ক এখনো একেবারেই নতুন এবং এর ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নিশ্চিত নয়। দুই পক্ষই এখন ঘোষণাগুলোর প্রভাব ও সম্ভাব্য সুযোগগুলো খতিয়ে দেখছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সাআর হারগেইসা (সোমালিল্যান্ডের রাজধানী) সফর করেন। এরপর সোমালিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদিরাহমান দাহির আদম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, এই সফর 'একটি সম্ভাবনাময় অংশীদারত্বের সূচনা'। সাআর বলেন, ইসরায়েল এই সম্পর্ক জোরদারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এদিকে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ সোমালিল্যান্ডের নেতাদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কেবল মোগাদিসুর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। ঐক্যের স্বার্থে তাঁর সরকার যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
তবে মোগাদিসুভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'সোমালি পাবলিক এজেন্ডা'র উপপরিচালক ফারহান ইসাক ইউসুফ মনে করেন, দুই পক্ষের আলোচনার সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ। কারণ, ইসরায়েলের স্বীকৃতি পেয়ে সোমালিল্যান্ডের নেতারা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তিনি সতর্ক করে বলেন, 'মোগাদিসুর এখন উত্তেজনা বাড়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না। এতে সোমালিল্যান্ড আরও দূরে সরে যেতে পারে।'
