হলিউডে সন্তান বড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তা, ফ্রান্সের নাগরিকত্ব নিলেন জর্জ ও আমাল ক্লুনি
হলিউডের জৌলুস আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশ থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে চান হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনি। সেই লক্ষ্যেই এবার বড় পদক্ষেপ নিলেন তিনি। সরকারি নথিপত্রে দেখা গেছে, ক্লুনি ও তার পুরো পরিবার ফ্রান্সের নাগরিকত্ব পেয়েছেন।
গত শনিবার প্রকাশিত এক গেজেটে নতুন ফ্রান্সের নাগরিকদের তালিকা দেওয়া হয়েছে। সেখানে জর্জ ক্লুনির পাশাপাশি তার স্ত্রী আমাল ক্লুনি এবং তাদের যমজ সন্তান আলেকজান্ডার ও এলার নামও রয়েছে।
ক্লুনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। আর তার স্ত্রী আমাল একজন ব্রিটিশ-লেবানিজ মানবাধিকার আইনজীবী। ফ্রান্স অবশ্য তাদের কাছে নতুন নয়। ইংল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে বাড়ি থাকলেও বর্তমানে ফ্রান্সের একটি খামারবাড়িই তাদের মূল ঠিকানা। গত ফেব্রুয়ারিতে 'নিউ ইয়র্ক টাইমস'কে ক্লুনি নিজেই এ কথা জানিয়েছিলেন।
ক্লুনি বলেন, 'কেনটাকিতে বড় হওয়ার সময় আমি সব সময় খামারের জীবন থেকে পালাতে চেয়েছিলাম। অথচ এখন আমি সেই জীবনেই ফিরে এসেছি। আমি ট্রাক্টর চালাই, খামারের কাজ করি। সাধারণ জীবন যাপনের এটাই সেরা সুযোগ।'
গত অক্টোবরে 'এসকায়ার' ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও একই সুর শোনা গেছে তার কণ্ঠে। তিনি বলেন, 'লস অ্যাঞ্জেলেসে বা হলিউডের সংস্কৃতির মধ্যে বাচ্চাদের বড় করা নিয়ে আমি চিন্তিত ছিলাম। আমার মনে হতো, সেখানে ওরা কখনোই স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে না। কিন্তু ফ্রান্সে কেউ খ্যাতি বা তারকাখ্যাতির তোয়াক্কা করে না।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি চাই না আমার বাচ্চারা রাস্তায় হাঁটার সময় পাপারাজ্জিদের ভয়ে তটস্থ থাকুক। আমি চাই না অন্য কোনো তারকার সন্তানের সঙ্গে ওদের তুলনা করা হোক।'
পরিবার ও সন্তানদের গোপনীয়তা নিয়ে ক্লুনি বরাবরই সরব। ২০২১ সালে তিনি সংবাদমাধ্যমকে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে তিনি সন্তানদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের ছবি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
ফ্রান্সে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার আইন বেশ কড়া। সেখানে ব্যক্তিগত স্থানে কারও ছবি তোলা বা বাড়ির ঠিকানা ও ফোন নম্বরের মতো তথ্য ফাঁস করা বেআইনি। এমনকি জনসমক্ষে কোনো তারকার ছবি প্রকাশ করাও নিষিদ্ধ, যদি না সেটি তার পেশাগত কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
ক্যালিফোর্নিয়া ওয়েস্টার্ন ইন্টারন্যাশনাল ল জার্নালে ২০২০ সালের এক নিবন্ধে আইনজীবী চ্যাসন পামার এ বিষয়ে লিখেছিলেন। তিনি জানান, ফ্রান্সে যখন পাপারাজ্জিরা তারকাদের ব্যক্তিগত সময়ে ছবি তোলার চেষ্টা করে, তখন তারকার দেহরক্ষীরা উল্টো পাপারাজ্জিদের ছবি বা ভিডিও তুলে রাখে।
পরে সেই ছবি বা ভিডিও আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে ওই ছবি প্রকাশ করলে তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করা হবে। এই কড়াকড়ির কারণে জনসমক্ষে তারকাদের ছবি তোলার প্রবণতা সেখানে অনেকটাই কমে গেছে।
