সোমালিল্যান্ডকে ইসরায়েলের স্বীকৃতির পর সোমালিয়ার অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান ইউরোপীয় ইউনিয়নের
বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরায়েল। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তারা এই পদক্ষেপ নিল। এরপরই শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
শুক্রবার ইসরায়েলের ওই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ বলেছে, সোমালিয়ার সীমান্ত একতরফাভাবে পরিবর্তন করা যাবে না।
ইইউ কী বলছে?
ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র আনোয়ার এল আনৌনি বলেছেন, জোটটি 'সোমালিয়ার ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।'
এক বিবৃতিতে মুখপাত্র বলেন, 'পুরো হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।'
দীর্ঘদিনের বিবাদ মেটাতে ইইউ সোমালিল্যান্ড ও সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারকে 'অর্থবহ আলোচনার' আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলের 'অবৈধ আগ্রাসনের' নিন্দা সোমালিয়ার
ইসরায়েলের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সোমালিয়ার সরকার। তারা একে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করেছে।
মোগাদিসুর কর্মকর্তারা বলেছেন, বিচ্ছিন্নতাকে বৈধতা দেওয়ার এই 'বেআইনি' ও 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' চেষ্টার বিরুদ্ধে তারা কূটনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন যে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সোমালিল্যান্ড সোমালিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মিসর, তুরস্ক, জিবুতি এবং গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ইসরায়েলের এই স্বীকৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে এতে হর্ন অফ আফ্রিকা ও লোহিত সাগর এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) ও পূর্ব আফ্রিকান জোট 'ইগাদ' তাদের পুরোনো অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা বলেছে, সোমালিয়ার সীমান্ত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং তা একতরফাভাবে পরিবর্তন করা যাবে না।
নাইজেরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশও এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে। তারা বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোকে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য অন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
২০টিরও বেশি দেশ এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এক যৌথ ঘোষণায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য 'মারাত্মক পরিণতির' হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা সোমালিল্যান্ডসহ সোমালিয়ার অখণ্ডতাকে স্বীকৃতি দেওয়া অব্যাহত রাখবে।
ইসরায়েল এই পদক্ষেপকে 'আব্রাহাম একর্ডস'-এর অংশ হিসেবে দেখছে। ২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় এই চুক্তিগুলো সই হয়েছিল।
চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরলেও গাজা যুদ্ধের কারণে নতুন কোনো আরব দেশ এই চুক্তিতে যুক্ত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল নতুন মিত্র খুঁজছে।
১৯৯১ সাল থেকে সোমালিল্যান্ড কার্যত একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মতো চলছে। তাদের নিজস্ব সরকার, মুদ্রা ও নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে। তারা আশা করছে, ইসরায়েলের এই স্বীকৃতি তাদের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ঘোচাবে এবং অন্য দেশগুলোকেও এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
