কিয়েভে জন্ম নেওয়া কিংবদন্তি লেখকের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলবে ইউক্রেন
রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের সব চিহ্ন মুছে ফেলতে চায় ইউক্রেন। এরই অংশ হিসেবে কিয়েভের বেশ কিছু স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই তালিকায় রয়েছে বিখ্যাত লেখক মিখাইল বুলগাকভের ভাস্কর্যও।
চলতি সপ্তাহে কিয়েভ সিটি কাউন্সিল এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেয়। তারা মোট ১৫টি স্থাপনা সরানোর পক্ষে মত দিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এসব স্থাপনা 'রুশ ও সোভিয়েত রাজনৈতিক প্রতীক'-এর সঙ্গে যুক্ত।
ভাঙার তালিকায় রয়েছে বুলগাকভের ভাস্কর্য। তিনি 'দ্য মাস্টার অ্যান্ড মার্গারিটা' উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত। এ ছাড়া কবি আন্না আখমাতোভা ও সুরকার মিখাইল গ্লিনকার ভাস্কর্যও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরিয়ে ফেলা হবে পিওত্র চাইকোভস্কির সম্মানে স্থাপিত একটি স্মৃতিফলক।
১৮৯১ সালে কিয়েভে জন্ম নেন বুলগাকভ। তখন শহরটি ছিল রুশ সাম্রাজ্যের অংশ। তিনি মূলত রুশ ভাষায় সাহিত্যচর্চা করতেন। তাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী লেখক হিসেবে গণ্য করা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেনের কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তার বিরুদ্ধে 'রুশ সাম্রাজ্যবাদী নীতি' প্রচারের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, ইউক্রেনের 'ডিকমিউনাইজেশন' আইনের আওতায় তার কর্মকাণ্ড নতুন করে মূল্যায়ন করা উচিত।
অপসারণের তালিকায় 'কিয়েভ – হিরো সিটি' লেখা একটি সাইনবোর্ডও রয়েছে। এতে সোভিয়েত আমলে দেওয়া একটি পঞ্চমুখী তারক রয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শহরের ভূমিকার স্বীকৃতি ছিল। এর সঙ্গে সরবে সোভিয়েত প্রতীকযুক্ত একটি সীমানা পিলার ও ভ্লাদিমির লেনিনের জন্মশতবার্ষিকীর একটি স্মৃতিফলক।
এ ছাড়া সোভিয়েত সৈন্যদের একটি স্মৃতিস্তম্ভের লেখা পরিবর্তনের পরিকল্পনাও রয়েছে কর্তৃপক্ষের। সেখানে রুশ ভাষার বদলে ইউক্রেনীয় ভাষায় লেখা হবে। আর 'গ্রেট প্যাট্রিয়টিক ওয়ার'-এর পরিবর্তে লেখা হবে 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ'।
২০১৪ সালে পশ্চিমা-সমর্থিত অভ্যুত্থানের পরই কিয়েভে সোভিয়েত আমলের স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার এই অভিযান শুরু হয়। সে সময় বেশ কিছু আইন পাসের মাধ্যমে কমিউনিস্ট প্রতীক নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাস্তা ও শহরের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২২ সালে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর এই কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। এখন রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নিদর্শনগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এর মধ্যে এমন লেখক, সুরকার ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বরাও রয়েছেন, যাদের সরাসরি কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল না।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস ও ইতিহাসের ওপর এমন আঘাতের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মস্কো। তাদের অভিযোগ, কিয়েভ আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করছে এবং রুশভাষী ইউক্রেনীয়দের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। রুশ কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইতিহাস নতুন করে লেখার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে তার সাংস্কৃতিক শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।
