ফেব্রুয়ারি থেকে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের ট্যাক্সি ব্যবহার নিষিদ্ধ
আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চিকিৎসার প্রয়োজনে আশ্রয়প্রার্থীদের ট্যাক্সি ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
আশ্রয়প্রার্থীদের পরিবহণ বাবদ সরকারের বছরে গড়ে প্রায় ১৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ হচ্ছে বলে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। এই বিপুল 'অর্থ অপচয়' ঠেকাতে যুক্তরাজ্য সরকার এখন গণপরিবহণের ওপর জোর দিচ্ছে।
বিবিসি-র এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা যায়, অনেক আশ্রয়প্রার্থীই চিকিৎসা বা ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ট্যাক্সি বা মিনি-ক্যাব ব্যবহার করে বহু দূর পর্যন্ত যাতায়াত করে থাকেন। যেমন, একজন আশ্রয়প্রার্থী প্রায় ৪০২ কি.মি. পথ ট্যাক্সিতে চেপে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন, যার বিল বাবদ হোম অফিসকে (যুক্তরাজ্যের সরকারি মন্ত্রণালয় যা জননিরাপত্তা, অভিবাসন এবং অন্যান্য বিষয় দেখাশোনা করে) গুনতে হয়েছিল ৬০০ পাউন্ড।
এমন অভিযোগ ওঠার পরই গত সেপ্টেম্বরে সরকার আশ্রয়প্রার্থী পরিবহণে ট্যাক্সির ব্যবহার ও খরচ নিয়ে জরুরি পর্যালোচনা শুরু করে।
এর আগে জানা গিয়েছিল, আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি সপ্তাহে বাসের একটি করে রিটার্ন টিকিট দেওয়া হলেও, ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের মতো প্রয়োজনীয় যাতায়াতের জন্য প্রায়শই ট্যাক্সি ব্যবহার করা হতো।
একজন ট্যাক্সি চালক বিবিসিকে জানান, দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের একটি হোটেল থেকে মাত্র ২ মাইল দূরের ডাক্তারের চেম্বারে তার সংস্থা প্রতিদিন প্রায় ১৫টি ট্রিপ দিত, যার বিল বাবদ হোম অফিসের দৈনিক খরচ হতো ১ হাজার পাউন্ড।
আরেকজন ট্যাক্সি চালক, স্টিভ, অভিযোগ করেন যে কিছু ঠিকাদার সংস্থা ইচ্ছে করেই যাত্রাপথের মাইলেজ বাড়াত। তিনি জানান, একবার তাকে গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে রিডিংয়ে পাঠানো হয়েছিল (প্রায় ১১০ মাইলের রাউন্ড ট্রিপ) একজন শরণার্থীকে তার হোটেল থেকে মাত্র দেড় মাইল দূরের দাঁতের ডাক্তারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
স্টিভি আরও দাবি করেন, যাত্রী প্রত্যাখ্যান করায় অনেক দূর যাওয়ার পরও তাকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র সচিব শাবানা মাহমুদ বলেন, 'আমি হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আশ্রয়প্রার্থীদের ট্যাক্সির অবাধ ব্যবহার বন্ধ করে দিচ্ছি। এখন থেকে এটি কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই অনুমোদিত হবে।'
ট্যাক্সির পরিবর্তে সরকার চায় আশ্রয়প্রার্থীরা যেন সাধারণ গণপরিবহণ ব্যবহার করে। তবে নতুন নিয়মে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং গর্ভাবস্থা-সংক্রান্ত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় থাকবে। কিন্তু এই ধরনের ব্যতিক্রমী যাতায়াতের ক্ষেত্রেও হোম অফিসের বাধ্যতামূলক অনুমোদন নিতে হবে।
এছাড়াও, এক বাসস্থান থেকে অন্য বাসস্থানে স্থানান্তরের মতো কিছু ক্ষেত্রে ট্যাক্সি ব্যবহারের সুযোগ থাকছে, তবে সেখানেও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির প্রমাণ লাগবে।
শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা 'রিফিউজি কাউন্সিল'-এর প্রধান নির্বাহী এনভার সলোমন এই পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, 'ট্যাক্সি ব্যবহারের বর্তমান পরিস্থিতি আসলে বেসরকারি ঠিকাদারদের করদাতার অর্থে বিশাল মুনাফা করার সুযোগ দেয়।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'তার চেয়েও বেশি এটি সরকারি অযোগ্যতা এবং দুর্বল চুক্তি ব্যবস্থাপনার ফল।' তিনি এই 'মুনাফাখোরি' চুক্তিগুলো বাতিলের আহ্বান জানান।
যুক্তরাজ্য সরকার আগামী নির্বাচনের আগেই শরণার্থী হোটেল ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও, চলতি সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী, এখনও যুক্তরাজ্যে ৩৬ হাজার ২৭৩ জন আশ্রয়প্রার্থী হোটেলে বসবাস করছেন—যা গত জুনের তুলনায় বেড়েছে।
আবাসন সংকটের কারণে চুক্তি বাতিল করাও সরকারের পক্ষে এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
