বিনিয়োগের বাধাগুলো দুর করতে ২ বছরের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের, গঠিত হলো পরামর্শক কাউন্সিল
দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কর-ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা, উচ্চ সুদহার, বন্দরে পণ্য খালাস এবং নিবন্ধন সমস্যাসহ সহজে ব্যবসা পরিচালনার বাধাগুলো সমাধানে দুই বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশে প্রথমবারের মতো 'বেসরকারিখাতের পরামর্শক পর্ষদ' গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। নবগঠিত এই পর্ষদ একটি দুই বছর মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং দেশের উৎপাদন খাতের ৯ জন শীর্ষ ব্যবসায়ী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেওয়া ডিবিএল গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ জব্বার টিবিএসকে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো শুনেছেন। আমরা ব্যবসার নিবন্ধন ও নবায়ন সংক্রান্ত জটিলতা এবং এনবিআরের ভ্যাট, কাস্টমস ও আয়কর বিষয়ে ব্যবসার প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরেছি। এছাড়া গভীর সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, ব্যাংকের উচ্চ সুদহার, ইকোনমিক জোনের ইউটিলিটি ও জমি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো জানানো হয়েছে।"
বৈঠকে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নিজেদের দেশে কাঁচামালে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ওষুধ শিল্পের এপিআই, অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টর, এগ্রো-প্রসেসিং এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে এম এ জব্বার আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী সব সমস্যা ধৈর্য ধরে শুনেছেন এবং কিছু বিষয় তাৎক্ষণিক (ইনস্ট্যান্ট) সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া কিছু বিষয়ে তিনি নোট নিয়েছেন, যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। নবগঠিত পরামর্শক কাউন্সিলের বৈঠক প্রতি তিন মাস অন্তর অনুষ্ঠিত হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এই কাউন্সিল বিনিয়োগের সকল বটলনেক বা বাধা দূর করবে।"
