সংক্ষিপ্ত কর্মদিবস, ঘুমঘুম চোখ: ট্রাম্প কি বয়সের কাছে হার মানছেন?
হ্যালোইনের ঠিক আগের দিন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় এক সপ্তাহ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 'জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ'-এ বিমান থেকে নেমেই তিনি সরাসরি হোয়াইট হাউসে যান এবং সেখানে শিশুদের মাঝে চকলেট বিতরণ করেন। তার এই কর্মক্ষমতা দেখে মিত্ররা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অনলাইনে লিখেছেন, 'এই মানুষটি দিনের পর দিন বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন!'
কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহ পরই ওভাল অফিসের একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে ঝিমোতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোরগোল তোলা পোস্ট, সাংবাদিকদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক এবং ঝাঁঝালো রাজনৈতিক বক্তৃতার মাধ্যমে ট্রাম্প সবসময় নিজেকে কর্মচঞ্চল ও শক্তিশালী হিসেবে উপস্থাপন করেন। জীবনের অষ্টম দশকের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ঠরা তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যেন তিনি অফুরন্ত শক্তির উৎস।
তবে বাস্তবতা কিছুটা জটিল। ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নির্বাচিত হওয়া সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট এবং বয়সের ছাপ তার ওপরও পড়তে শুরু করেছে।
নিজের বয়স নিয়ে সমালোচনা এড়াতে তিনি প্রায়ই নিজেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তুলনা করেন। ৮২ বছর বয়সী বাইডেন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনকারী সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট, যার শারীরিক দুর্বলতা আড়াল করতে তার সহকারীরা সবসময় সতর্ক থাকতেন এবং জনসম্মুখে তার উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতেন।
বাইডেনের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প প্রায়ই কটাক্ষ করেন। এমনকি যেখানে বাইডেনের ছবি থাকার কথা, সেখানে তিনি একটি 'অটোপেন' বা স্বয়ংক্রিয় স্বাক্ষর যন্ত্রের ছবি ঝুলিয়ে রেখেছেন। এটি পূর্বসূরিকে ব্যঙ্গ করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে মনে করা হয়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘুমের অভ্যাস নিয়ে কটাক্ষ করে গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, 'তিনি সারাক্ষণ ঘুমান—দিনে, রাতে, এমনকি সৈকতে গিয়েও।' নিজের সম্পর্কে তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আমি কিন্তু ঘুমানোর লোক নই।'
আমেরিকার জনজীবনে ট্রাম্পকে প্রায় সব সময়ই সক্রিয় দেখা যায়। বাইডেনের তুলনায় তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে অনেক বেশি উপস্থিত হন এবং প্রশ্নের উত্তর দেন। বিদেশি নেতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও দাতারা নিয়মিত তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান এবং তাকে কর্মচঞ্চলই দেখেন।
তবে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রায় এক বছর পার হতে চললেও, নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর বিশ্লেষণ ভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করছে। বাস্তবতা হলো, আগের তুলনায় আমেরিকানরা এখন ট্রাম্পকে কম দেখতে পাচ্ছেন। ২০১৭ সালে তার প্রথম মেয়াদের এই সময়ের তুলনায় বর্তমানে তার জনসমাবেশ ও দেশের ভেতর ভ্রমণ কমে গেছে। যদিও তার বিদেশ সফর কিছুটা বেড়েছে।
জনসম্মুখে উপস্থিতির সময়সূচিও এখন আগের চেয়ে সংক্ষিপ্ত। গড়ে তার অধিকাংশ কর্মসূচি দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
জনসম্মুখে এলেও মাঝে মাঝে তার ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত ৬ নভেম্বর ওভাল অফিসে ওজন কমানোর ওষুধ নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রায় ২০ মিনিট ডেস্কে বসে ছিলেন। এ সময় তার চারপাশে কর্মকর্তারা কথা বলছিলেন।
একপর্যায়ে দেখা যায়, ট্রাম্পের চোখের পাতা ভারি হয়ে আসছে এবং চোখ প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাকে ঝিমোতে দেখা যায়। একবার চোখ খুলে তিনি সামনে থাকা সাংবাদিকদের দিকে তাকান। তবে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক অতিথি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ার পরই তিনি উঠে দাঁড়ান।
ট্রাম্প নিজে কিছু মেডিকেল বা চিকিৎসা পদ্ধতির কথা জানালেও বিস্তারিত তথ্য না দেওয়ায় তার স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এশিয়া সফরের সময় ট্রাম্প জানান, অক্টোবরের শুরুতে তিনি ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিক্যাল সেন্টার-এ এমআরআই করিয়েছেন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'আমি আপনাদের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানিয়েছি।' কিন্তু বাস্তবে তার চিকিৎসকের দেওয়া সারাংশে এমআরআই করানোর কোনো উল্লেখই ছিল না এবং সেখানে বিস্তারিত তথ্যেরও ঘাটতি ছিল।
সম্প্রতি এয়ার ফোর্স ওয়ানে এমআরআই নিয়ে আবারও প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, 'তারা আসলে কী পরীক্ষা করেছে তা নিয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। তবে যা-ই পরীক্ষা করুক, তারা ভালোভাবে করেছে এবং বলেছে ফলাফল চমৎকার এসেছে। এমন ভালো রিপোর্ট তারা আগে দেখেনি।'
এদিকে, ট্রাম্প তার ডান হাতের পেছনের একটি কালশিটে দাগ ঢাকতে মেকআপ ব্যবহার করেন। তার চিকিৎসক ও সহকারীরা দাবি করেন, নিয়মিত অ্যাসপিরিন খাওয়া এবং প্রচুর মানুষের সঙ্গে করমর্দন (হ্যান্ডশেক) করার কারণেই এই দাগ হয়েছে। তবে গত সেপ্টেম্বরে হাতের এই দাগ এবং পায়ের গোড়ালি ফুলে যাওয়া নিয়ে ইন্টারনেটে তার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা জল্পনা-প্রকাশ হয়েছিল।
এমআরআই রিপোর্ট এবং ওভাল অফিসে ঝিমিয়ে পড়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ট্রাম্পের শক্তিশালী কার্যক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং বাইডেনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
এক বিবৃতিতে লেভিট বলেন, 'বাইডেনের হোয়াইট হাউসে যেমন তার মানসিক ও শারীরিক দুর্বলতার বিষয়টি আড়াল করা হয়েছিল এবং তাকে সংবাদমাধ্যম থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, আমরা তেমনটা করছি না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার পুরো দল তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে খোলামেলা ও স্বচ্ছ। প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের অবস্থা অসাধারণ।'
পরে শুরু, কম ইভেন্ট
বছরের পর বছর ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তার আশপাশের লোকজন বরাবরই তা এড়িয়ে গেছেন বা দায়সারা উত্তর দিয়েছেন। ২০২০ সালে ট্রাম্প করোনায় গুরুতর অসুস্থ থাকলেও, তার চিকিৎসকরা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেননি। এমনকি গত গ্রীষ্মে পেনসিলভানিয়ার বাটলার-এ হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটলেও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মেডিক্যাল ব্রিফিং বা সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, তা এখনও বিদ্যমান। তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন না। এর পেছনে তার দীর্ঘদিনের একটি অদ্ভুত তত্ত্ব রয়েছে—তিনি মনে করেন, মানুষ নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি নিয়ে জন্মায়। ব্যাটারির চার্জের মতো, কঠোর পরিশ্রমে সেই শক্তি ক্ষয় হয় বা কমে যায়।
খাবারের ক্ষেত্রে তিনি 'রেড মিট' বা লাল মাংস খেতে পছন্দ করেন এবং ব্যাগভর্তি ম্যাকডোনাল্ডস-এর খাবারের জন্যও পরিচিত। তবে তার চিকিৎসকের মতে, ট্রাম্পের ওজন কমেছে। ২০২০ সালে ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার ট্রাম্পের ওজন ছিল ২৪৪ পাউন্ড, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ওবিস' বা স্থূল হিসেবে বিবেচিত। চলতি বছরের তথ্য অনুযায়ী, তার বর্তমান ওজন ২২৪ পাউন্ড।
ট্রাম্প প্রায়ই ওজেম্পিক-এর মতো ওজন কমানোর ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি এগুলোকে 'ফ্যাট ড্রাগ' বা চর্বি কমানোর ওষুধ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পরিচিত যারা এই ওষুধ ব্যবহার করেছেন, তাদের কথাও তুলে ধরেন। তবে নিজে এই ওষুধ সেবন করছেন কি না, সে বিষয়ে তার চিকিৎসক কোনো মন্তব্য করেননি।
গত এপ্রিলে তার চিকিৎসক ডা. শন পি. বারবাবেলা লিখেছিলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য চমৎকার। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান এবং 'কমান্ডার ইন চিফ' বা সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি সক্ষম।'
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৈনন্দিন সময়সূচিতে বেশ বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
'নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ট্রাম্প এখন দিনের কাজ অনেক দেরিতে শুরু করেন। 'রোল কল'-এর ডেটাবেস অনুযায়ী, ২০১৭ সালে অর্থাৎ তার প্রথম মেয়াদের শুরুতে তিনি গড়ে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করতেন। এর বিপরীতে, দ্বিতীয় মেয়াদে তার কাজ শুরু হয় গড়ে দুপুর ১২টা ০৮ মিনিটে। তবে কাজ শেষের সময় আগের মতোই আছে; বিকেল ৫টার কিছুক্ষণ পরেই তার দিনের কর্মসূচি শেষ হয়।
ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির হারও কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি ১,৬৮৮টি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। অথচ চলতি বছরের (২০২৫) একই সময়ে তিনি মাত্র ১,০২৯টি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একজন জানান, তিনি নিয়মিত সকাল ১১টার পর ওভাল অফিসে আসেন। এটি মূলত তার প্রথম মেয়াদের অভ্যাস। সকালে অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে অভিযোগ করার পর তিনি হোয়াইট হাউসের বাসভবনে 'এক্সিকিউটিভ টাইম' বা নিজস্ব সময় কাটাতেন এবং এরপর নিচে অফিসে কাজে নামতেন। এখনো সেই রুটিনই চলছে।
তবে দেশের ভেতরে কর্মসূচি কমলেও তার বিদেশ সফর বেড়েছে। ২০১৭ সালে তিনি যেখানে চারটি বিদেশ সফর করেছিলেন, সেখানে চলতি বছর এ পর্যন্ত আটটি সফর করেছেন। এর মধ্যে গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও মিশরে এক দিনের ঝটিকা সফরও অন্তর্ভুক্ত।
ট্রাম্প নিয়মিত ওভাল অফিসে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন এবং সপ্তাহান্তে গলফ ক্লাবে সময় কাটান। তবে গলফ খেলার সময়টায় তিনি সাধারণত জনচক্ষুর আড়ালেই থাকেন।
ট্রাম্প তার বক্তৃতায় খেই হারিয়ে ফেলার জন্য আগে থেকেই পরিচিত। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণা এবং বর্তমান দ্বিতীয় মেয়াদে তার এই অসংলগ্ন কথাবার্তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বক্তৃতার সময় তিনি প্রায়ই মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে এমন গল্প বলা শুরু করেন, যার অনেক কিছুই সত্য নয়। উদাহরণস্বরূপ, জুলাই মাসে পেনসিলভানিয়ায় এক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, তার চাচা জন ট্রাম্প এমআইটি-তে কুখ্যাত সন্ত্রাসী টেড কাজিনস্কিকে পড়াতেন—যা বাস্তবে সত্য নয়। বক্তৃতার মাঝে তিনি অদ্ভুতভাবে বলেন, 'আমাদের মেধা সেরা, আমাদের ক্ষমতা সেরা এবং আমাদের আরও বিদ্যুৎ বা শক্তি থাকবে।'
প্রেসিডেন্টরা সাধারণত নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনমনে ইতিবাচক ধারণা দিতে চান। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক ইতিহাসবিদ ম্যাথু ডালেক মনে করেন, ট্রাম্পও তার পূর্বসূরিদের পথেই হাঁটছেন।
ডালেক বলেন, 'বাইডেনের সহকারীরা যেমন তার বার্ধক্য আড়াল করতেন, ট্রাম্পের আশপাশের লোকজনও তাই করছেন। তারা যেন একটা কাল্পনিক জগতে বাস করছেন। ট্রাম্পের বয়স এখন ৭৯ বছর এবং তিনি ওভাল অফিসের ইতিহাসে অন্যতম বয়স্ক ব্যক্তি—এই কঠিন সত্য ঢাকতেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে এমন গল্প তৈরি করা হচ্ছে।'
স্বাস্থ্য প্রতিবেদনের জন্য কোনও নিয়মকানুন নেই
অন্য যেকোনো রোগী বা প্রেসিডেন্টের মতোই, নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে ট্রাম্প জনগণকে কতটুকু জানাবেন, তা একান্তই তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।
রাষ্ট্রপ্রধানের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা কাঠামো নেই। তাই চিকিৎসকরা অনেক সময় বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে কেবল শারীরিক পরীক্ষার সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেন। উদাহরণস্বরূপ, জো বাইডেনের স্বাস্থ্য নিয়ে যখন ক্রমাগত প্রশ্ন উঠছিল, তখন গত বছর তার এক চিকিৎসক জানিয়েছিলেন যে বাইডেনের 'অত্যন্ত বিস্তারিত' স্নায়ুবিক বা নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে।
তবে বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া বা 'ডিমেনশিয়া'-র লক্ষণ আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য সচরাচর যেসব পরীক্ষা করা হয়, সেগুলো বাইডেনের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল কি না—তা ওই চিকিৎসক স্পষ্ট করেননি।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তার চিকিৎসক দুটি শারীরিক পরীক্ষার পর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। যারা প্রতিদিন প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন জনসমাবেশে দেখেন, তারা সহজেই বুঝতে পারেন যে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে দারুণ অবস্থায় আছেন এবং বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।'
তবে ২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডা. জেফরি কুহলম্যান ভিন্ন কথা বলছেন। তিনি জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বা বারাক ওবামার রুটিনে নিয়মিত ব্যায়াম থাকত এবং তারা খুব সকালে কাজ শুরু করতেন। কিন্তু ট্রাম্পের রুটিন আলাদা।
ডা. কুহলম্যান বলেন, 'সহকারীরা তাকে খুব কর্মঠ দেখালেও ওভাল অফিসে তিনি মূলত বসেই সময় কাটান।' তবে এই বয়সেও ট্রাম্প যে বিমান বা 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এর দীর্ঘ সিঁড়ি বেয়ে ওঠেন, তা প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন কুহলম্যান।
ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে এবং অর্থনীতি নিয়ে মার্কিনিদের অসন্তোষ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মিত্ররা তাকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বেশি নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে ট্রাম্প শীতে সুইজারল্যান্ডের দাভোস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের মধ্যে একটি নতুন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে—তিনি এখন পরকাল বা মৃত্যু পরবর্তী জীবন নিয়ে বেশি কথা বলছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তত ছয়বার তিনি স্বর্গের প্রসঙ্গ টেনেছেন।
আগস্টে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'ওপারে নিশ্চয়ই কোনো এক জায়গায় আমাদের কাজের একটা হিসাব বা 'রিপোর্ট কার্ড' রাখা হচ্ছে।'
তবে আধ্যাত্মিক আলোচনার মধ্যেও তিনি তার স্বভাবসুলভ প্রতিদ্বন্দিতা ছাড়েননি। আবারও বাইডেনের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, 'ধর্ম ছিল আমাদের দেশের মেরুদণ্ড। বাইডেনের সময় এর অবস্থা খারাপ ছিল, কিন্তু আমার সময়ে ধর্মচর্চা অনেক শক্তিশালী হচ্ছে।'
