নেপালে পিআর পদ্ধতির অপব্যবহার, নির্বাচনের আগে অস্থিরতা বাড়ছে
নেপালের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ব্যবস্থার অপব্যবহার দেশটিতে স্বজনপ্রীতি পাকাপোক্ত করেছে, গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নড়বড়ে করে তুলেছে।
নেপালের ২৭৫ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিসভায় ১৬৫ জন সরাসরি নির্বাচিত এবং ১১০ জন পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে প্রবর্তিত এ ব্যবস্থা মূলত রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছিল।
কিন্তু গত কয়েক দফা নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অনুগত কর্মী, আত্মীয়স্বজন, ধনী প্রার্থী কিংবা প্রত্যক্ষ ভোটে পরাজিতদের সংসদে পাঠাতে এ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেছে।
সমালোচকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় গোষ্ঠীর প্রভাবে গড়ে ওঠা সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ভোটাররা ক্রমেই তাদের থেকে বিমুখ হয়ে পড়ছেন। নেপাল নিউজের তথ্য মতে, দেশটির সংসদে শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ এমন ব্যক্তিদের বারবার দেখা গিয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, নেপালি কংগ্রেসের নেত্রী অর্জু রানা দেওবা (দলীয় সভাপতি শেরবাহাদুর দেওবার স্ত্রী) ও মুখপাত্র প্রকাশ শরণ মহতকে। তারা প্রত্যক্ষ নির্বাচনে হেরে বারবার পিআর তালিকার মাধ্যমে সংসদে গেছেন। একইভাবে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল)-এর একনাথ ঢকাল ও অমৃতলাল রাজবংশী দল পরিবর্তন করেও পিআর তালিকা থেকে এমপি হয়েছেন।
দেশটির কোটিপতি শিল্পপতি বিনোদ চৌধুরীও দু'বার পিআর তালিকা থেকে সংসদ সদস্য হন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব উদাহরণ প্রমাণ করে যে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায় আনার পরিবর্তে এ ব্যবস্থা ধনীদের ও প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। নেপাল ডেমোক্র্যাটিক রিসোর্স সেন্টারের পরিচালক চন্দ্রশেখর পরাজুলি বলেন,
'সমস্যার মূল কারণ হলো দলীয় গণতন্ত্র দুর্বল। নেতারা তাদের সিদ্ধান্তের জন্য দায়বদ্ধ নন। এর ফলেই অনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের অপব্যবহার ঘটছে।'
পিআর পদ্ধতি দেশটিতে জনআস্থা নষ্ট করেছে এবং আন্দোলনও উসকে দিয়েছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনে জেন-জি'রা অভিযোগ তোলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তৃণমূলের কণ্ঠস্বরকে আটকে রেখে অভিজাতদের সুযোগ করে দিচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা সতর্কবার্তা দেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো নারী, প্রান্তিক ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পিআর পদ্ধতিকে ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি না দেয়, তবে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলতে থাকবে।
আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনের এখনো ছয় মাস বাকি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান দলগুলো যদি আবারও পিআর তালিকা নিজেদের ঘনিষ্ঠদের দিয়ে পূরণ করে, তবে নির্বাচন নিয়ে জনআস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হবে। আর অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য নিয়ে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, তা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
