প্রাচীন যুগে শুরু শালগম ছুড়ে প্রতিবাদ যেভাবে ডিম ছোড়ায় রূপ নিল
ব্রিটেনে প্রতিবাদের এক অতি পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী রূপ হলো ডিম ছোড়া। এই প্রতিবাদের ধরনটি যেমন সহজ, তেমনই বহুমুখী। সঙ্গে বাড়তি পাওনা হলো পচা হওয়ার আশঙ্কা। ডিম যতই তাজা আর দামী হোক না কেন, যখন কোনো রাজনীতিবিদের কোটের কলার বেয়ে হলদে কুসুম গড়িয়ে পড়ে বা চুলের ভাঁজে আটকে যায় ভাঙা খোসা, ব্যস! তার সব গাম্ভীর্য যেন ওখানেই শেষ।
ডিম ছোড়ার এই ইতিহাস আবার বেশ দীর্ঘ এবং রঙিন। ৬৩ খ্রিস্টাব্দে রোমান গভর্নর ভেসপাসিয়ানকে শালগম ছুড়ে মারা হয়েছিল, কারণ তার প্রজারা কঠোর শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। মধ্যযুগে আবার ডিমের খোঁজ মেলে। এসময় বন্দিদের কাঠের কাঠগড়ায় আটকে রেখে নিয়মিত ডিম ছোড়া হতো। এলিজাবেথের যুগে নাটকের দর্শকরা খারাপ অভিনয়ের প্রতিবাদে পচা ডিম ছুড়ত।
এমনকি জর্জ এলিয়টের ১৮৩০-এর দশকের প্রেক্ষাপটে লেখা বিখ্যাত উপন্যাস 'মিডলমার্চ'-এ এই প্রথার উল্লেখ পাওয়া যায়। এ উপন্যাসের চরিত্র মিস্টার ব্রুককে অপমানজনকভাবে ডিম ছোড়ার শিকার হতে হয়েছিল: "ঠিক তখনই মিস্টার ব্রুকের কাঁধে একটি বিশ্রী ডিম এসে ভাঙল... তারপর শুরু হলো ডিমের বৃষ্টি"
এভাবেই রাজনৈতিক ইতিহাস এগিয়ে চলেছে রাজনীতিবিদদের চেহারায় ডিম, টমেটো, ক্রিম পাই, সবুজ কাস্টার্ড, কাদা, বেগুনি ময়দার বোমা, আর এমনকি... চকোলেট একলেয়ার মেখে! এই সপ্তাহে যেমন, টোরি পার্টির সম্মেলনের একজন প্রতিনিধি মার্গারেট থ্যাচারের ছবি হাতে নিয়ে প্রতিবাদকারীদের দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন, আর ঠিক তখনই তার কপালে একটি ডিম এসে পড়ে।
তবে ডিমের এই আক্রমণ থেকে কোনো দলই রেহাই পায়নি। ২০১৩ সালে, দক্ষিণ লন্ডনের ওয়ালওয়ার্থ মার্কেটে ঘোরার সময় লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ডের ওপর ডিম ছোড়া হয়। গত বছর স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে গণভোটের সফরের সময় জিম মারফিকে কিরক্যালডিতে 'হ্যাঁ' সমর্থকরা ডিম ছুড়ে মারে, যার ফলে তিনি তার সফর স্থগিত করতে বাধ্য হন।
আর এই ঘটনা সবসময় নিরীহ হয় না। ২০০৪ সালে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচারের সময়, ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। প্রথমে সবাই ভেবেছিল তাকে ইট দিয়ে মারা হয়েছে, কিন্তু পরে দেখা যায় সেটি ছিল একটি ডিম।
এদিকে প্রাচ্যে প্রতিবাদের ভাষা জুতো, গ্রিসে তেমনি দই ছোড়ার প্রথা আছে, যাকে বলা হয় 'ইয়াউরতামা'। আবার ইউক্রেনে রাশিয়ান দূতাবাসের গেটে নুডলস ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করা হয়।
কিন্তু ব্রিটেনে প্রতিবাদের ভাষাটা যেন সবসময়ই ডিম। ডেভিড ক্যামেরন, নাইজেল ফারাজ, রুথ কেলি, জর্জ গ্যালোওয়ে, আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার, নিক গ্রিফিন, সাইমন কাওয়েল, ডেভিড ব্লেইন—সকলেই কমবেশি এই ডিম ছোড়ার শিকার হয়েছেন, যদিও নিশানা আর তার প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন ছিল।
তবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০১ সালে উত্তর ওয়েলসে। তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী জন প্রেসকটকে একজন কৃষক নিখুঁত নিশানায় একটি ডিম ছুড়ে মারে। এর উত্তরে প্রেসকট সটান তার মুখে এক ঘুষি বসিয়ে দেন। এই দৃশ্যটি এমন এক জিআইএফ (GIF) তৈরি করেছে যা আজও ইন্টারনেট জুড়ে ঘুরে বেড়ায়। সত্যি বলতে, এর চেয়ে বেশি ব্রিটিশ আর কী-ই বা হতে পারে
