যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এইচ-১বি ভিসা সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কার শঙ্কায় ভারতের আইটি খাত
যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য বহুল ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসার আবেদনে নতুন করে ১ লাখ মার্কিন ডলারের বিশাল অংকের ফি আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্তে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস এই নতুন ফি আরোপের ঘোষণা দেয়। এর পরপরই মাইক্রোসফট, জেপি মরগ্যান ও অ্যামাজনের মতো বড় মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলো তাদের এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীদের আপাতত যুক্তরাষ্ট্রেই থাকার এবং যারা বাইরে আছেন তাদের দ্রুত দেশে ফেরার পরামর্শ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিসা ব্যবস্থায় এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো থেকে আসা দক্ষ কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পেও এই পদক্ষেপটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের ২৮৩ বিলিয়ন ডলারের তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ন্যাসকম শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ভারতীয় পেশাজীবীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ন্যাসকম আরও বলেছে, নীতিটি কার্যকর করার জন্য মাত্র একদিন সময় দেওয়ায় 'বিশ্বজুড়ে ব্যবসা, পেশাজীবী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।' তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং বিশ্বব্যাপী চাকরির বাজারকেও প্রভাবিত করতে পারে। কারণ, সংস্থাগুলোকে এই 'বাড়তি খরচ মেটাতে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে।'
অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই বিপুল খরচের কারণে সংস্থাগুলো তাদের উচ্চ বেতনের অনেক কাজ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সরিয়ে নিতে পারে, যা চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় আমেরিকাকে পিছিয়ে দেবে।
শুরুতে এই ফি বার্ষিক হবে বলা হলেও পরে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে জানায় যে, এটি একটি এককালীন ফি এবং শুধুমাত্র নতুন আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। বর্তমানে যারা ভিসাধারী আছেন বা ভিসার মেয়াদ বাড়াতে চান, তাদের ওপর এই ফি প্রযোজ্য হবে না।
জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপের চেষ্টা করছে, যার মধ্যে বৈধ অভিবাসনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সীমিত করার চেষ্টাও অন্তর্ভুক্ত। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং এই পদক্ষেপটি সেই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।'
উল্লেখ্য, এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে মার্কিন সংস্থাগুলো বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও কম্পিউটার প্রোগ্রামারের মতো বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। গত বছর এই ভিসার প্রায় ৭১ শতাংশই পেয়েছেন ভারতীয় নাগরিকেরা।
