বর্তমান ভিসাধারীদের ওপর নতুন এইচ-১বি ভিসা ফি আরোপ হবে না: হোয়াইট হাউস
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার নতুন করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রোববার থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এখন থেকে প্রত্যেক ভিসা আবেতনকারীকে এক লাখ ডলার করে ফি দিতে হবে। গতকাল শনিবার হোয়াইট হাউস জানায়, তবে যারা এ ভিসায় পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবে তাদের ক্ষেত্রে এ ফি প্রযোজ্য না।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট শনিবার এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) এক পোস্টে রেখেন, 'এটি কোনো বার্ষিক ফি নয়। এটি কেবল এককালীন ফি, যা শুধু প্রথম আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।'
লেভিট আরও বলেন, বর্তমানে যারা বৈধ এইচ-১বি ভিসাধারী এবং এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় প্রবেশের সময় ১ লাখ ডলারের ফি দিতে হবে না। এই ফি কেবল নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
শুক্রবার বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, নতুন ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসার ফি প্রতি বছর দিতে হবে। তবে তিনি যোগ করেন যে এ নিয়ে বিস্তারিত এখনো 'বিবেচনাধীন'।
এ ঘোষণার পর মাইক্রোসফট, জেপিমরগ্যান ও অ্যামাজনের মতো কয়েকটি বড় কোম্পানি নিজেদের কর্মীদের (যাদের এইচ-১বি ভিসা রয়েছে) যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেয়। রয়টার্সের হাতে পাওয়া একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, গোল্ডম্যান স্যাকসও শনিবার তাদের কর্মীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এক্স-এ বলেন, এইচ-১বি ভিসাধারীরা আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, নতুন ফি কেবল আসন্ন এইচ-১বি লটারি রাউন্ডে প্রযোজ্য হবে, বর্তমান ভিসাধারী বা ভিসা নবায়নকারীদের ক্ষেত্রে নয়।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন এইচ-১বি ফি আরোপ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকদের জন্য 'সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ' তৈরি করতে। তাদের দাবি, আমেরিকান শ্রমিকদের পরিবর্তে কম বেতনে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশে এইচ-১বি ভিসার আবেদনে নতুন ফি আরোপ করা হয়।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন ন্যাসকম শনিবার সকালে জানায়, এ সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ পেশাজীবী পাঠানো ভারতীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
শনিবার প্রকাশিত এক তথ্যপত্রে হোয়াইট হাউস জানায়, বিশেষ ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থে হলে ১ লাখ ডলারের ফি ছাড়াই এইচ-১বি ভিসার আবেদন করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
তথ্যপত্রে আরও বলা হয়, ২০০৩ অর্থবছরে ৩২ শতাংশ থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৬৫ শতাংশের বেশি আইটি কর্মী এইচ-১বি ভিসার আওতায় কাজ করছেন।
এছাড়া শ্রম মন্ত্রণালয় ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে যাচাই, বাস্তবায়ন, নিরীক্ষা ও জরিমানা বিষয়ে নির্দেশিকা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রম মন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এইচ-১বি প্রোগ্রামের জন্য চলতি মজুরির স্তর পুনর্বিবেচনা এবং উচ্চ দক্ষ, উচ্চ বেতনের এইচ-১বি কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের জন্য।
শুক্রবারের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডনোটে অনেক এইচ-১বি ভিসাধারী তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তারা জানান, নতুন ১ লাখ ডলারের ফি-এর আশঙ্কায় অনেকেই দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসেছেন। কেউ কেউ আবার বিদেশে নামার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছেন।
