রাজহাঁসের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ক্যালিফোর্নিয়ার শহর; তাড়াতে ড্রোন ও কুকুরের পেছনে লাখো ডলার খরচ!
কানাডার এক প্রকার রাজহাঁসের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি শহর। প্রতিদিন শত শত পাউন্ড মল, স্থানীয় জলাশয়ে ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া এবং শিশুদের ভয় দেখানোর মতো নানা সমস্যা তৈরি করছে এই পাখিরা। এবার তাদের তাড়াতে প্রায় ৪ লাখ ডলার খরচ করতে চলেছে নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ফস্টার সিটি।
প্রায় ৩৩ হাজার মানুষের এই ফস্টার সিটিতে জলজ এই পাখিগুলো দীর্ঘকাল ধরেই সমস্যা সৃষ্টি করে আসছে। কোনো এক সময়ে এখানে প্রায় ৪০০টি হাঁস দেখা যেত। কম ব্যয়বহুল বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যর্থতার পর, শহর কর্তৃপক্ষ এবার সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে রয়েছে বাজপাখির মতো দেখতে ড্রোন, শিকারীর অনুকরণে বর্ডার কুকুর এবং জলে ভাসমান রিমোট-কন্ট্রোল চালিত যন্ত্র।
শহরের পার্ক ও বিনোদন পরিচালক ডেরেক সুইগার্ট বলেন, 'যদি আমরা এমন একটি উপায় খুঁজে বের করতে পারি যেখানে হাঁস ও মানুষ কোনও দুর্ভোগ ছাড়াই একসাথে থাকতে পারে, তবে সেটি হবে একটি বিশাল সাফল্য। আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছি যেখানে এদের সংখ্যা এতটাই বেড়ে গেছে যে এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।' তিনি জানান, এই পরিকল্পনা সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই কার্যকর হতে চলেছে।
'বিরক্তিকর' প্রাণী দমনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও রাজ্য ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে। ফ্লোরিডায়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সীমিত সংখ্যক অনুমতি প্রদান করবে, যা দ্বারা এই বছর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কালো ভালুক শিকারের অনুমতি দেওয়া হবে। মিশিগানের প্রাকৃতিক সম্পদ কমিশন আগস্ট মাসে সারা বছর ধরে হায়েনা শিকারের অনুমতি পুনর্বহালের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
সুইগার্ট জানান, ফস্টার সিটি ২০২১ সালে ১০০টিরও বেশি রাজহাঁস দম্নের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিল। তবে জনরোষের কারণে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। এরপর শহর কর্তৃপক্ষ ডিমের ভেতর তেল মাখিয়ে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মতো অহিংস পদ্ধতি চেষ্টা করে, যাতে ডিমের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া পার্কের চারপাশে বেড়া দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও রাজহাঁসদের দাপট কমেনি।
ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফের জলজ পাখি ইউনিটের জ্যেষ্ঠ পরিবেশ বিজ্ঞানী মেলানি উইভার বলেন, কানাডার রাজহাঁস একটি পরিযায়ী প্রজাতি। এরা শীতকালে উত্তর-পূর্ব ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে রাজ্যের উষ্ণতর সেন্ট্রাল ভ্যালির দিকে যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, প্রচুর পাবলিক পার্ক, পুকুর এবং খাবারের সহজলভ্য উৎসের কারণে রাজহাঁসগুলো উত্তরেই থেকে যাচ্ছে।
মেলানি উইভার বলেন, 'আমরা, সম্মিলিতভাবে মানুষ হিসেবে, তাদের (রাজহাঁস) বসবাসের এবং বাচ্চা পালনের জন্য একটি দারুণ জায়গা তৈরি করে দিয়েছি। হায়েনা বা গোল্ডেন ঈগল ছাড়া এমন খুব কম প্রাণীই আছে যারা তাদের শিকার করতে পারে। মানুষ তাদের খাবারও দিচ্ছে। এটি একটি বিপর্যয়।'
শহর কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার বরাদ্দ করেছে। সুইগার্ট জানান, এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে সার্থক হবে, যদি এটি রাজহাঁসের কারণে প্রতি বছর বর্ধিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ওয়াশিংয়ের জন্য ব্যয় হওয়া হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারে।
শহর কর্তৃপক্ষ এই কর্মসূচি পরিচালনার জন্য ওয়াইল্ডলাইফ ইনোভেশনস ইনকর্পোরেটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করেছে। সুইগার্ট জানান, প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে বেশি রাজহাঁসের আনাগোনা এবং জনসাধারণের অভিযোগ রয়েছে এমন সাতটি পার্কে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে। ওয়াইল্ডলাইফ ইনোভেশনসের প্রেসিডেন্ট জেক ম্যানলি এবং সেখানকার বন্যপ্রাণী বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল বাইটেম্যান বলেছেন, তারা বিভিন্ন কৌশল বিবেচনা করছেন, কারণ রাজহাঁসগুলো বেশ চালাক এবং পরিবেশের পরিবর্তন তারা দ্রুত বুঝতে পারে।
রাজহাঁসদের তাড়িয়ে দিতে বাইটেম্যান ও ম্যানলি এমন যন্ত্র ব্যবহারেরও কথা ভাবছেন যা জলে ও স্থলে উভয় স্থানেই কাজ করে এবং অথবা প্রাণীগুলোর উপর ড্রোন উড়ানো যেতে পারে।
লক্ষ্য হলো, রাজহাঁসদের জন্য পরিবেশকে যতটা সম্ভব অস্বস্তিকর করে তোলা। ম্যানলি রাজহাঁস প্রসঙ্গে বলেন, 'আমরা ক্রমাগত কৌশল পরিবর্তন করব যতক্ষণ না তাদের আর কোনো সুযোগ থাকে।'
যদি রাজহাঁসগুলো ফস্টার সিটি থেকে চলে যায়, উইভার সতর্ক করে বলেন যে, তারা সম্ভবত কাছাকাছি কোথাও বাসা বাঁধবে। উইভারের মতে, এক শহর থেকে অন্য শহরে রাজহাঁসদের ঠেলে দেওয়া এড়াতে 'প্রতিবেশীদের সাথে কাজ করতে হবে'।
যদিও অন্তত ফস্টার সিটিতে, সুইগার্ট স্বীকার করেছেন যে সবসময় কিছু সংখ্যক রাজহাঁস থাকবেই।
