চীনে জন্মহারের করুণ দশা; শাংহাইয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক বেশি!
চীনের শাংহাইয়ের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বছর মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ২২ জন! যেখানে শিক্ষার্থীদের তুলনায় শিক্ষকদের সংখ্যা বেশি।
স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকাভুক্তি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, পুডং নিউ এরিয়ার সানচিয়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর (২২ জন) চেয়ে পূর্ণকালীন শিক্ষক বেশি (২৩ জন) ।
চীনের ক্রমবর্ধমান জন্মহার হ্রাসের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নাটকীয় প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা এই ঘটনাটি চলতি সপ্তাহে চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দেশের জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে বিদ্যালয়গুলোর ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও সানচিয়াও প্রাথমিক বিদ্যালয় সামান্য একটি উদাহরণ, যেখানে দেশজুড়ে জন্মহার হ্রাসের কারণে চীনে ইতোমধ্যে বহু কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব এখন প্রাথমিক শিক্ষা খাতেও তীব্রভাবে দেখা যাচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চীনের কিন্ডারগার্টেনের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২০ হাজারেরও বেশি কমে গেছে, যেখানে ৫০লাখেরও বেশি শিশু কম ভর্তি হয়েছে।
পুডং জেলা সরকারের শিক্ষার্থী ভর্তি ও পরীক্ষা কেন্দ্রের এক কর্মী জানান, প্রতিটি স্কুলকে তাদের নির্দিষ্ট এলাকার (ক্যাচমেন্ট এরিয়া) মধ্যে থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হয় এবং সানচিয়াওয়ের ক্ষেত্রে 'নির্দিষ্ট ক্যাচমেন্ট এলাকার উপযুক্ত বয়সী শিশুর সংখ্যা সত্যিই এতটুকুই।'
সাংহাই শিক্ষা কমিশন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাস পর্যন্ত সাংহাইয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল এক লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি, যা গত শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ৩০ হাজার বা প্রায় ১৫ শতাংশ কম।
চীনের আরেকটি বৃহৎ শহর গুয়াংজহুর সরকারি তথ্যেও একই ধরনের হ্রাস দেখা গেছে। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার ১০০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে, যা ৩২ হাজার ৪০০ বা প্রায় ১২ শতাংশ কম।
২০১৬ সালে চীন তার পরিবার পরিকল্পনা আইন পরিবর্তন করে সমস্ত দম্পতিকে দুটি সন্তান ধারণের অনুমতি দেওয়ার পর থেকে চীনের জন্মহার দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর থেকে জন্মহার প্রায় অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে।
যদিও দেশটির শিক্ষা বিশেষজ্ঞ শিয়ং বিংকি বলছেন, জন্মসংখ্যা হ্রাসের বর্তমান প্রভাব বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিন্ডারগার্টেনগুলোতে পড়ছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ততটা পড়েনি।
তিনি আরও বলেন, 'ভবিষ্যতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিঃসন্দেহে কমবে, তবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সমাধান হবে ছোট আকারের ক্লাসের ব্যবস্থা করা, যাতে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পার্থক্যগুলো আরও ভালোভাবে মোকাবেলা করা যায়।'
