ট্রাম্পের শুল্কের ধাক্কায় টয়োটার মুনাফা কমার পূর্বাভাস, ৯.৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা গাড়ির ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের কারণে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। এটি এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সবচেয়ে বড় ক্ষতির পূর্বাভাস।
টয়োটা গত বৃহস্পতিবার জানায়, চলতি অর্থবছরের পরিচালন মুনাফার পূর্বাভাস তারা ১৬ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে গাড়ি, যন্ত্রাংশ, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের দাম বাড়ায় বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, যা এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
টয়োটার প্রধান অর্থ কর্মকর্তা তাকানোরি আজুমা এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, 'বাজার পরিস্থিতি কীভাবে বদলাবে, তা এখনই বলা কঠিন।' তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, শুল্ক পরিস্থিতি যেমনই হোক, কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য গাড়ি উৎপাদন অব্যাহত রাখবে।
আজুমা জানান, প্রায় ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির হিসাবের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জাপান থেকে যন্ত্রাংশ আমদানির সঙ্গে যুক্ত সরবরাহকারীদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সরবরাহকারীদের ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা তিনি জানাননি।
প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর দিনশেষে টয়োটার শেয়ারের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়।
তবে টয়োটার অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতির পূর্বাভাস দিয়েছে। জেনারেল মোটরস (জিএম) চলতি বছরে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা করছে আর অন্যদিকে ফোর্ড জানিয়েছে, তাদের মোট আয় প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার কমে যেতে পারে।
জিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্টেলান্টিস (এসটিএলএ) বলেছে, শুল্কের কারণে তাদের চলতি বছরের ব্যয় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
টয়োটা ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য পরিচালন মুনাফার পূর্বাভাস কমিয়ে প্রায় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে এনেছে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় যথেষ্ট কম।
এর আগে টয়োটা শুধু এপ্রিল ও মে মাসে গাড়ির ওপর শুল্কের প্রভাব বিবেচনা করে প্রায় ১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে এবার প্রথমবারের মতো তারা পুরো অর্থবছরের জন্য সামগ্রিক ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পূর্বাভাস দিয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে টয়োটার উত্তর আমেরিকান ইউনিট প্রায় ৪৭২ মিলিয়ন ডলার অপারেটিং ক্ষতির মুখে পড়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে তারা প্রায় ৭৪৫ মিলিয়ন ডলার লাভ করেছিল। শুধুমাত্র শুল্কের কারণে এই প্রান্তিকে কোম্পানিটির ওপর প্রায় ৩ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারপ্রভাব পড়েছে।
টয়োটার উৎপাদন কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো ও জাপানের বিভিন্ন কারখানায় বিস্তৃত। ফলে শুধু সরাসরি রপ্তানি নয়, উত্তর আমেরিকার অভ্যন্তরে গাড়ি ও যন্ত্রাংশ এক দেশ থেকে অন্য দেশে পরিবহন করেও কোম্পানিটি শুল্কের প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি শুল্কের কারণে জাপানি গাড়ি নির্মাতারা চাপের মুখে পড়েছে। তবে টোকিও ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি ভবিষ্যতে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
গত মাসে চূড়ান্ত হওয়া ওই চুক্তির আওতায়, যুক্তরাষ্ট্র জাপানি গাড়িতে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে, যা আগে সর্বোচ্চ ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল। তবে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এর মধ্যেই টয়োটা গত সপ্তাহে জানিয়েছে, তারা ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড উৎপাদন ও বিক্রির মাইলফলক ছুঁয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে উত্তর আমেরিকা, জাপান ও চীনে হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি।
টয়োটা আরও জানিয়েছে, তারা জাপানে একটি নতুন গাড়ি কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানা কমে আসায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে গাড়ির বিক্রি কমেছে।
