রাশিয়ার সাথে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বহাল রাখতে চান ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন সীমিত রাখার যে চুক্তি ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল—সেটি বহাল রাখতে তিনি আগ্রহী। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া এ চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে এটাই ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম সরাসরি অবস্থান।
হোয়াইট হাউস ত্যাগ করে স্কটল্যান্ড সফরে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'এই ধরনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াটা আপনি চাইবেন না। আমরা এ নিয়ে কাজ শুরু করেছি।'
তিনি আরও বলেন, 'যখন আপনি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বাধা তুলে দেন, তখন সেটা একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।'
'নিউ স্টার্ট' নামের এই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান শেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। এর আওতায় দুটি দেশই সর্বোচ্চ ১,৫৫০টি কৌশলগত ওয়ারহেড, ৭০০টি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন ও বোমারু বিমানে মোতায়েন করতে পারে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২১ সালে চুক্তিটির মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ান। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এটি পুনরায় বাড়ানোর সুযোগ নেই। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিরোধিতা করেছিলেন। বরং তিনি চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যেটি চীন প্রত্যাখ্যান করে।
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বরাবরই সক্রিয় অবস্থান দেখিয়েছেন ট্রাম্প। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তিনি বলেছিলেন, পারমাণবিক অস্ত্র সীমিতকরণ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয় দেশই আরও বেশি সংখ্যক কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করতে পারবে। একইসঙ্গে পরস্পরের অভিপ্রায় বোঝা কঠিন হয়ে পড়বে—যা পারমাণবিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক বর্তমানে গত ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে সংকটময় অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি এবং তার তৈরি নতুন ধরনের অস্ত্রব্যবস্থার কারণেই পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়েছে।
