যুক্তরাজ্যের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত শরতে আসতে পারে: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে যুক্তরাজ্য। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী শরতে (যুক্তরাজ্যে সেপ্টেম্বর-নভেম্বর শরতকাল)। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি নাকি এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র।
ল্যামির বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাজ্য সম্ভবত ফ্রান্সের সময়সূচির সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সমন্বয় করতে পারে। এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে প্যারিস।
ফিন্যানশিয়াল টাইমসকে শুক্রবার এক ব্রিটিশ মন্ত্রী বলেন, 'এখন অনেকটাই নিশ্চিত যে আমরা একই কাজ করব। সেদিকেই আমরা এগোচ্ছি।'
পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আই-কে আরও জানান, বুধবার বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ল্যামি বলেন, 'আমার মনে হয়, শরতে এই বিতর্ক একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে গিয়ে থিতু হবে।'
তবে তারা জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের একমাত্র কর্তা তিনি নন বলেও উল্লেখ করেছেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ফিন্যানশিয়াল টাইমসকে সিনিয়র লেবার নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্ত আটকে রেখেছেন যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অটুট থাকে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র লন্ডন ও প্যারিসের ওপর চাপ দিচ্ছে—তারা যেন এই স্বীকৃতি পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।
এ বিষয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁর ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া আসে। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সিদ্ধান্তকে 'দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এটি কেবল হামাসের প্রচারণাকে জোরদার করবে ও শান্তি প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দেবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া '৭ অক্টোবরের ভুক্তভোগীদের মুখে চপেটাঘাত'।
এদিকে, যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে চাপ বাড়ছে। লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কমিটির চেয়ার সারা চ্যাম্পিয়নের উদ্যোগে একটি দল-পারস্পরিক চিঠিতে ইতিমধ্যে ১০০-র বেশি এমপি স্বাক্ষর করেছেন। শুক্রবার তারা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিও সরকারকে অনতিবিলম্বে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানায়—'যতক্ষণ পর্যন্ত স্বীকৃতি দেওয়ার মতো একটি রাষ্ট্র আছে'।
কমিটির চেয়ার এমিলি থর্নবেরি মিডল ইস্ট আই-কে বলেন, তিনি চান যুক্তরাজ্য যেন ফ্রান্সের সঙ্গে একযোগে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়।
এমিলি থর্নবেরি এই পদক্ষেপকে কিছুটা 'প্রতীকী' বললেও তিনি বিশ্বাস করেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্য আবারও সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এই বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে যে 'ঠিক আছে, এবার আমাদের অংশটুকু আমরা পালন করি।'
তিনি আরও বলেন, 'এই পদক্ষেপের একটি বিশেষ তাৎপর্য আছে, কারণ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সই তো প্রথমে মধ্যপ্রাচ্যকে ভাগ করে নেওয়ার গোপন সাইক্স-পিকো চুক্তির পেছনে ছিল।'
এদিকে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছে।
