ইংল্যান্ডে রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ‘সংবেদনশীল’ সামরিক নথি

ইংল্যান্ডের নিউক্যাসেলের একটি শহরের রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নথিতে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য পাওয়া গেছে। নিউক্যাসলের স্কটসউড এলাকায় ১৬ মার্চ এক ফুটবল ভক্ত কালো প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব নথি খুঁজে পান। খবর বিবিসি'র।
নথিলোতে সেনাদের পদমর্যাদা, ইমেইল, শিফটের সময়সূচি ও অস্ত্র বিতরণের তথ্য রয়েছে। কিছু নথি অস্ত্রাগারে প্রবেশাধিকার ও অনুপ্রবেশ শনাক্তকরণ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক গ্যারি হিববার্ডের মতে, এতে উল্লিখিত ব্যক্তিরা 'গুরুতর' হুমকির মুখে পড়তে পারেন।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি) জানিয়েছে, তারা বিষয়টি 'জরুরি ভিত্তিতে' খতিয়ে দেখছে এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালাচ্ছে।
ডাউনিং স্ট্রিট বলেছে, সেনাবাহিনীর তদন্ত চলাকালে তারা 'নির্দিষ্ট বিষয়ে' মন্তব্য করতে পারবে না। তবে এক মুখপাত্র জানান, 'তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
নথিগুলো ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর রেজিমেন্ট ও ক্যাটারিক গ্যারিসনের ব্যারাকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক নথির শিরোনাম ছিল 'আর্মারি কী এবং হোল্ড আইডিএস কোড', যা বিবিসির তথ্য অনুযায়ী অস্ত্রাগারে প্রবেশাধিকার ও অনুপ্রবেশ শনাক্তকরণ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
অন্য এক নথির ফুটনোটে লেখা ছিল 'অফিসিয়াল – সংবেদনশীল', যা সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফাঁস হলে 'জীবনের জন্য হুমকি' তৈরি করতে পারে।
পরিত্যক্ত নথিগুলোর মধ্যে সাধারণ চিকিৎসা পরামর্শ, সামরিক উপকরণের অর্ডার তালিকা, ব্যক্তিগত শনাক্তকরণ নম্বর (আইডি) ও ইমেইল ঠিকানার মতো তথ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গেটসহেডের মাইক গিববার্ড গাড়ি পার্ক করার সময় এসব নথি খুঁজে পান। তিনি নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ক্যারাবাও কাপ ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচ দেখার জন্য ফ্যানজোনে যাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, 'নিচে তাকিয়ে কাগজের টুকরোয় নাম ও নম্বর দেখতে পেলাম এবং ভাবলাম, এগুলো কী?'
নথিগুলো কালো ব্যাগে স্তূপ করা ছিল, তবে কিছু রাস্তায়, গাড়ির নিচে ও আশপাশে ছড়িয়ে ছিল।
তিনি আরও বলেন, 'রাস্তার অপর পাশে আরও অনেক নথি ছিল, যা কোনো ব্যাগে রাখা হয়নি।'
গিববার্ড তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন, 'এগুলো এখানে কেন? এগুলো তো এখানে থাকার কথা নয়, যে কেউ তুলে নিতে পারে।'
এই ঘটনাকে 'অবিশ্বাস্য' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'নথিগুলোতে নিরাপত্তা বেষ্টনী, টহল ব্যবস্থা, অস্ত্র যাচাই, ছুটির আবেদন, মোবাইল নম্বর ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তথ্য ছিল।'
তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক গ্যারি হিববার্ড বলেন, এসব নথি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য 'গুরুতর' হুমকি তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, 'তাদের সহজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিহ্নিত করা যেতে পারে, জোরপূর্বক তথ্য আদায়ের চেষ্টা করা হতে পারে বা হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।'
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এ ধরনের নথি ভুল ব্যক্তির হাতে পড়লে যুক্তরাজ্য বা মিত্র বাহিনীর সামরিক কার্যক্রমে 'মাঝারি মেয়াদে স্বল্পমেয়াদি ক্ষতি' হতে পারে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে, আরও সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হলে তা 'জীবনের জন্য হুমকি' হতে পারে।
এ ধরনের নথি অবশ্যই 'বার্ন ব্যাগ'-এ ফেলে ধ্বংস করতে হবে বা অনুমোদিত যন্ত্রে কেটে ফেলতে হবে।
গিববার্ড বিষয়টি নর্থাম্ব্রিয়া পুলিশকে জানান।
একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, পুলিশ 'নিউক্যাসলের স্কটসউড এলাকার রেলওয়ে স্ট্রিটে গোপনীয় কিছু নথি পাওয়া গেছে'—এমন একটি রিপোর্ট পেয়েছে।
তিনি আরও জানান, 'নথিগুলো এখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (এমওডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।'
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, 'আমরা বিষয়টি জরুরিভাবে খতিয়ে দেখছি এবং এটি বর্তমানে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের আওতায় রয়েছে।'