ভয়াবহ ভূমিকম্পে মিয়ানমারের হাসপাতালে আহতদের ঢল

শুক্রবার (২৮ মার্চ) মিয়ানমারে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি এতে শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।
ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোর ১ হাজার শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আহতদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর আহতরা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন, কেউ আবার প্রবল ঝাঁকুনির পর হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন।
গাড়ি, পিকআপ ট্রাক ও স্ট্রেচারে করে একের পর এক আহতদের হাসপাতালে আনা হয়। অনেকের শরীর রক্তাক্ত ও ধুলোয় ঢাকা ছিল।
ভূমিকম্পে হাসপাতালের কিছু ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে প্রচণ্ড কম্পনের ফলে সড়কের পিচ ফেটে গেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনের প্রবেশপথের ছাদ একটি গাড়ির উপর ধসে পড়ে।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে যেভাবে ধসে পড়লো ব্যাংককের নির্মাণাধীন উচ্চ ভবন
এক চিকিৎসক জানান, 'অনেক আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হচ্ছে। আমি আগে কখনো এমন কিছু দেখিনি। আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমি ভীষণ ক্লান্ত।'
আহতদের অনেকে ব্যথায় চিৎকার করছিলেন, কেউ আবার নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছিলেন। পাশে থাকা স্বজনরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আহতদের হাতে স্যালাইন ঝুলছিল।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, 'শত শত আহত ব্যক্তি এখানে আসছেন... কিন্তু হাসপাতালের জরুরি ভবনটিও ধসে পড়েছে।'
মিয়ানমারের সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে ভূমিকম্প: ৬ অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
রাজধানী নেপিদো থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে, সাগাইং শহরের উত্তর-পশ্চিমে শুক্রবার বিকেলে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। কয়েক মিনিট পরই একই এলাকায় ৬ দশমিক ৪ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হয়।
ভবনগুলোর ভেতরে থাকা মানুষজন আতঙ্কে বাইরে ছুটে আসেন। অনেকে কাঁপছিলেন, কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা ব্যাকুল হয়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
শক্তিশালী ভূমিকম্পের তীব্রতা প্রতিবেশী চীন ও থাইল্যান্ডেও অনুভূত হয়েছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ভবনগুলো প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে। ব্যাং সু জেলার উপ-পুলিশ প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওরাপাত সুকথাই জানান, একটি ৩০ তলা নির্মাণাধীন ভবন ধসে পড়ার পর তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের আর্তনাদ শুনতে পান।
'আমি শুনতে পাচ্ছিলাম, কেউ চিৎকার করে বলছে— 'আমাকে বাঁচান', বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা ধারণা করছি, শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। আমি আশঙ্কা করছি, অনেক প্রাণহানি ঘটেছে। এমন বিধ্বংসী ভূমিকম্প আমরা আগে কখনো দেখিনি।'
ব্যাংককের বাসিন্দারা ভূমিকম্পের সঙ্গে পরিচিত হলেও শুক্রবারের ভূমিকম্পটি অনেকের জন্যই ছিল অপ্রত্যাশিত।