গাজার বাবামায়েরা সন্তানদের হাতে-পায়ে নাম লিখে রাখছেন, যেন লাশ চেনা যায়!

গাজার আল শিফা হাসপাতাল জুড়ে শোকার্ত, আহত মানুষের আহাজারি, কান্না। ভারি এই পরিবেশে হাতে নিজের নাম লিখছিলেন ৩৫ বছর বয়সী আবু আল সাবা।
"আমরা হাতে নিজেদের নাম লিখে রাখছি; বাচ্চাদের হাতেও তাদের নাম লিখছি; দখলদারদের (ইসরায়েলি) বিমান হামলায় মারা পড়লে যেন আমাদের লাশ শনাক্ত করা যায়" বলছিলেন আল সাবা।
আল সাবা একা নন, তাঁর মতো অসংখ্য ফিলিস্তিনী বিশেষ করে সন্তানদের হাতে বা পায়ে তাদের নাম লিখে রাখছেন। তাদের কারো কারো আশংকা সত্যিও হচ্ছে।
"আমরা কিছু শিশুর মরদেহ পাচ্ছি, যাদের পায়ে বা পেটে বাবা-মায়েরা নাম লিখে রেখেছিলেন। পশ্চিমা সংবাদসংস্থা সিএনএনকে বলছিলেন আল-আকসা মারটায়ার্স হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ড. আবদুল রহমান আল মাসরি। তিনি বলেন, এর অর্থ একটাই! গাজার অভিভাবকেরা যেকোন মুহূর্তে বোমায় সন্তান হারানোর ভয় নিয়ে তাদের মুহূর্তগুলো পার করছেন।
শিশুদের শরীরে এই কালির ছোপ – সেই আতংক ও হতাশারই ছোট্ট দাগ – যা এখন ঘিরে আছে গাজাকে, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার জেরে।
ড. আল মাসরি বলছিলেন, সন্তানের মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে তাদের গায়ে নাম লিখে রাখার এমন দৃশ্য তিনি আগে কখনোই দেখেননি। কিন্তু বোমার আঘাত কি সে নাম অক্ষত রাখছে? জানা যাচ্ছে নিহত শিশুর পরিচয়? এ চেষ্টার পরেও "অনেক শিশু নিখোঁজই থেকে যাচ্ছে হামলাস্থলে" জানান আল মাসরি।
সিএনএন এর একজন সাংবাদিকের ধারণ করা ভিডিওতেও উঠে এসেছে হৃদয়বিদারক এক ঘটনার দৃশ্য। দেইর আল বালাহ এলাকার আল আকসা হাসপাতালের ভিডিওটি সিএনএন প্রচার করেছে। এতে দেখা যায়, চারটি মৃত শিশুর গায়ে আগেই নাম লিখা ছিল। দৃশ্যত মনে হচ্ছিল যেন লাশগুলো মর্গে রাখা। ভিডিও প্রতিবেদনে বলা হয়নি, এই শিশুদের বাবা-মায়েরা বেঁচে আছে কি নেই।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, ৭ অক্টোবর হামলা শুরুর পর এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।