ইউক্রেনে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে পুতিন প্রতিশোধের সবচেয়ে সহজ রাস্তাই বেছে নিলেন?
কার্চ প্রণালীর ওপর দিয়ে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সাথে ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে যুক্তকারী সেতুতে ঘটেছে শক্তিশালী ট্র্যাক বোমা বিস্ফোরণ। একে সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। হামলার দুদিন পর আজ সোমবার (১০ অক্টোবর) ইউক্রেনের প্রধান প্রধান শহর ও সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলা শুরু করেছে রুশ সামরিক বাহিনী।
প্রথাভেঙ্গে আজ রুশ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাথেও বৈঠক করেছেন পুতিন। সাধারণত এ সভা অনুষ্ঠিত হতো প্রতি শুক্রবারে।
এ থেকেই তার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ স্পষ্ট হয়েছে। ইতোমধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধের প্রধান সেনানায়কও বদলেছেন তিনি।
সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত রুশ টেলিভিশন চ্যানেলগুলি প্রকাশ করে পুতিনের ভাষণ। এসময় তিনি রাশিয়া থেকে কৃষ্ণসাগর হয়ে তুরস্কে যাওয়া টার্কিশ স্ট্রিম পাইপলাইনে বোমা হামলার অভিযোগও করেছেন কিয়েভের বিরুদ্ধে।
পুতিন আরও বলেছেন, পশ্চিম রাশিয়ায় অবস্থিত কুরস্ক পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলা করেছে ইউক্রেন। এর আগে আগস্টেও তিনি একই অভিযোগ করেন।
কুরস্ক অঞ্চল ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ১০০ মাইল উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত। আগস্টে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি দাবি করে, ইউক্রেনীয় নাশকতাকারীরা এ অঞ্চলের বৈদ্যুতিক লাইনগুলিকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে কুরস্ক পরমাণু কেন্দ্রের কারিগরি পরিচালনা প্রভাবিত হয়েছে বলে জানান এফএসবি কর্মকর্তারা।
পুতিন দখলকৃত জাপোরিঝিয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার জন্যও ইউক্রেন দায়ী বলে তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন। তিনি একে 'পরমাণু সন্ত্রাস' বলে নিন্দা জানান। অবশ্য ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয়েই এই কেন্দ্রে গোলা নিক্ষেপের জন্য একে-অপরকে দোষারোপ করে আসছে।
এই বাস্তবতায় পুতিন বলেছেন, 'রাশিয়ান ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলে এভাবে হামলা চলতে থাকলে তার জন্য অত্যন্ত কঠোর ও যথোপযুক্ত জবাব দেবে রাশিয়া'।
একথার মাধ্যমে ইউক্রেনের ওপর চলমান ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিই ইঙ্গিত দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
শনিবার রাতে ক্রিমিয়া ও রাশিয়াকে সংযোগকারী কার্চ সেতুতে হামলার পর, আজ সোমবার ঝাঁকে ঝাঁকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক- বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে শুরু করে।
বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পুতিনের জন্মদিনের দিন হওয়া এই হামলা, তাকে দুর্বল দেখানোর উদ্দেশ্যই করা হয়েছে। ফলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানোর চাপের মুখে ছিলেন তিনি। যুদ্ধের এই পর্যায়ে কোনোভাবেই দুর্বলতা প্রকাশের সুযোগও তার নেই।
ফলে সোমবার হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হয়েছে ইউক্রেনের প্রধান প্রধান শহর। বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে চালানো হামলায় অন্ধকারে ডুবে গেছে দেশটির বিশাল অংশ। সম্পূর্ণ ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরুপণ করা যায়নি বলে জানাচ্ছে বিবিসি। এছাড়া, মোট কতজনের মৃত্যু হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রণাঙ্গনে রুশ সেনারা যখন পিছু হটছে, তখন নিজ দেশের কট্টর জাতীয়তাবাদীদের কাছ থেকে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছেন পুতিন। যুদ্ধের ময়দানে অগ্রগতি থমকে যাওয়ার প্রতিশোধও হয়তো তিনি এভাবে হামলার মাধ্যমে নিচ্ছেন।
তাছাড়া, রাশিয়ার পক্ষে প্রতিবেশী ইউক্রেনে মিসাইল হামলা চালানো যেমন সহজ; তেমনি এগুলোকে ভূপাতিত করাও কঠিন ইউক্রেনের পক্ষে।
ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনীয় স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র রাশিয়ার টেলিভিশন চ্যানেলগুলি ফলাও করেই প্রচার করছে। এর মাধ্যমে রাশিয়ার হাতেই যুদ্ধ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ আছে, জনগণকে এমন বার্তায় দিতে চাইছে ক্রেমলিন।
- সূত্র: বিবিসি
