যেভাবে ফর্মুলা ফোরে জায়গা করে নিলেন বাংলাদেশি রেসার আরহাম
বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা বেশির ভাগ শিশুর কাছেই মোটরস্পোর্ট যেন দূরের কোনো জগতের গল্প। টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায় রোমাঞ্চকর সব রেস, চোখের সামনে ঝড়ের গতিতে ছুটে যায় রেসিং কার। পেশাদার রেসার হওয়ার স্বপ্নটা তাই বেশির ভাগের কাছেই থেকে যায় কেবল কল্পনা হয়ে।
কিন্তু আরহাম রহমানের ক্ষেত্রে সেই কল্পনাই বদলে যেতে শুরু করে মাত্র ১৪ বছর বয়সে।
ইএসপিএনের মতো চ্যানেলে ছোটবেলা থেকেই মোটরস্পোর্টের রেস দেখতেন আরহাম। গাড়ির গতি আর রেসিংয়ের উত্তেজনা তাকে মুগ্ধ করত। তবে তখনো পেশাদার রেসার হওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবেননি তিনি। বাংলাদেশে মোটরস্পোর্টের অবকাঠামোও তেমন গড়ে ওঠেনি। একজন রেসিংপ্রেমী থেকে পেশাদার রেসার হয়ে ওঠার পথটাও ছিল অনেকটাই অচেনা।
পড়াশোনার জন্য পরে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান আরহাম।
সেখানেই শখের বশে প্রথমবার গো-কার্টের ট্র্যাকে যান তিনি। কিন্তু নিছক বিনোদনের সেই আয়োজনই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রথমবার রেন্টাল কার্টিংয়ে অংশ নিয়েই জয় পান আরহাম।
সেই জয় তার হাতে শুধু একটি ট্রফিই তুলে দেয়নি; বরং নিজের মধ্যে রেসিংয়ের স্বাভাবিক দক্ষতা রয়েছে—এই বিশ্বাসও তৈরি করে। এরপর ট্র্যাকে আরও বেশি সময় কাটাতে শুরু করেন তিনি। অংশ নেন বিভিন্ন ট্র্যাক ডে ও হায়ার-কার্ট লিগে। সার্কিটের বাইরে নিজের রেসিং দক্ষতা বাড়াতে একটি সিমুলেটরও কিনে নেন।
এরপর পেরিয়ে গেছে বেশ কিছুটা সময়। আর গত সপ্তাহের শেষটা আরহামের জন্য নিয়ে এসেছে আরও বড় এক মাইলফলক। ক্লাসে জয় পেয়েছেন তিনি; একই সঙ্গে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ফর্মুলা ফোরের (এফ৪) কোনো রেসে জয়ের কীর্তি গড়েছেন। এফ৪-এ এটি তার প্রথম পডিয়ামও। শুধু নিজের রেসিং ক্যারিয়ারেই নয়, আন্তর্জাতিক সিঙ্গেল-সিটার মোটরস্পোর্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
কার্টিং থেকে ফর্মুলা ফোরে
আরহামের ক্যারিয়ারে প্রথম বড় সাফল্য আসে ২০২২ সালে। সে বছর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত 'ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল দ্য ল'অটোমোবাইল' (এফআইএ) মোটরস্পোর্ট গেমসে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএবি) সমর্থন ও মনোনয়নে এফআইএর কোনো আয়োজনে অংশ নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি হয়ে ওঠেন আরহাম। সেই সাফল্য তার স্বপ্নকে শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; এর সঙ্গে জড়িয়ে যায় দেশের নামও।
তবে ফর্মুলা ফোরে পৌঁছানোর পথটা মোটেও সহজ ছিল না।
২০২৩ সালে এফআইএ ফোর সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে একটি গাড়ির আসনের প্রস্তাব পান আরহাম। যে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন, সেটিই যেন দরজায় এসে কড়া নাড়ছিল। কিন্তু সামনে ছিল পুরোনো এক বাধা—অর্থের সংকট।
পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ ফিরিয়ে দিতে হয় তাকে।
ফর্মুলা ফোর বা এফ৪ হলো এফআইএর সিঙ্গেল-সিটার রেসিংয়ের প্রাথমিক ধাপ। মূলত কার্টিং থেকে উঠে আসা তরুণ রেসারদের জন্য এই প্রতিযোগিতা। এখানেই প্রথমবার পেশাদার চ্যাম্পিয়নশিপে খোলা চাকা ও এক আসনের রেসিং কার চালানোর অভিজ্ঞতা পান তারা।
সহজ করে বললে, এফ৪ হলো ফর্মুলা ওয়ানে পৌঁছানোর সিঁড়ির প্রথম দিকের একটি ধাপ। এরপর রয়েছে ফর্মুলা রিজিওনাল, ফর্মুলা থ্রি ও ফর্মুলা টু।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের জায়গা করে নিতে চাওয়া একজন তরুণ রেসারের জন্য এখানেই হয়তো থেমে যেতে পারত স্বপ্নের পথচলা। কিন্তু আরহাম থামেননি। আবার ফিরে যান কার্টিংয়ে।
সময়টাও তার ক্যারিয়ারের জন্য অন্যতম কঠিন অধ্যায় ছিল। তখন বয়স ১৮। তিনি বুঝতে পারছিলেন, তার বয়সী ইউরোপের অনেক রেসারই কার্টিংয়ে এক দশকের বেশি সময় কাটিয়ে সিঙ্গেল-সিটার রেসিংয়ের দিকে এগিয়ে গেছে। যেসব দেশে মোটরস্পোর্টের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, সেখানে অনেক শিশু পাঁচ-ছয় বছর বয়সেই রেসিং শুরু করে।
আরহামের শুরুটা হয়েছিল অনেক পরে—এমন একটি দেশ থেকে, যেখানে মোটরস্পোর্টের বিকাশ তো দূরের কথা, পেশাদার রেসার হয়ে ওঠার পথটাই তখনও স্পষ্টভাবে তৈরি হয়নি।
কিছু সময়ের জন্য এই ব্যবধানটা আরহামের কাছে যেন পাহাড়সম মনে হয়েছিল।
তবে সমস্যাটিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি তিনি। বরং বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে নিজের মতো করে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজেছেন। ফিরে গেছেন কার্টিংয়ের মৌলিক অনুশীলনে। পাশাপাশি সিমুলেটরেও নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। হারিয়ে যাওয়া সুযোগের কথা ভেবে হতাশ হয়ে থাকার বদলে নিজেকে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত রাখাই ছিল তার লক্ষ্য।
শেষ পর্যন্ত সেই ধৈর্যের ফল মিলেছে।
২০২৫ সালে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএবি) আয়োজিত ন্যাশনাল কার্টিং চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হন আরহাম। এরপর শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসিফিক মোটরস্পোর্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সপ্তম হন তিনি। সেখানে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকজন শক্তিশালী রেসারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এরপর এলো আরেকটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
মান্দালিকা গ্রাঁ প্রিঁ সার্কিটে এফআইএ ফর্মুলা ফোরের গাড়িতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক ড্রাইভ করেন আরহাম। এএবির সহায়তায় এফআইএ ফোরের গাড়ি চালানো প্রথম বাংলাদেশি রেসারও হয়ে ওঠেন তিনি।
কার্টিং থেকে ফর্মুলা ফোরে যাত্রাটা অবশ্য শুধু গাড়ি বদলের বিষয় ছিল না। শারীরিকভাবে এটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।
প্রথমেই যে বিষয়টি আরহামের নজরে পড়ে, তা হলো ব্রেকিং।
একটি গো-কার্ট থামাতে যে পরিমাণ শক্তি প্রয়োগ করতে হয়, ফর্মুলা ফোরে তার সঙ্গে তুলনাই চলে না। এখানে চালককে ব্রেক প্যাডেলে প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করতে হয়। একই সঙ্গে চাকার নিয়ন্ত্রণ না হারিয়ে ঠিক কতটা জোরে ব্রেক করতে হবে, সেই সীমাটাও বুঝে নিতে হয়। বাঁক নেওয়ার ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতাটা ছিল একেবারেই আলাদা।
সোজা পথে ফর্মুলা ফোরের গাড়ির গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৩০ কিলোমিটারে উঠতে পারে। মান্দালিকায় উচ্চগতির বাঁকগুলোতে আরহাম প্রায় ৪জি পর্যন্ত চাপ অনুভব করেছেন। ফলে ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন অংশের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে।
এই অভিজ্ঞতা তার একটি বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে—ফর্মুলা ফোরে ওঠার প্রস্তুতির জন্য 'সিরিয়াস টু-স্ট্রোক কার্টিং'-এর বিকল্প খুব কম। বিশেষ করে শরীরকে শক্তিশালী করা এবং গতির সঙ্গে গাড়ির আচরণ অনুভব করার যে দক্ষতা প্রয়োজন, তা শুধু রেন্টাল কার্টিং কিংবা সিমুলেটর রেসিং দিয়ে পুরোপুরি তৈরি করা সম্ভব নয়।
অর্থের সঙ্গে লড়াই
আরহামের যাত্রার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো—অর্থ কখনোই তার পক্ষে খুব বেশি ছিল না।
রেসিং ক্যারিয়ারের পুরো খরচ বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তার পরিবারের ছিল না। ২০২৩ সালে ফিলিপ আইল্যান্ড গ্রাঁ প্রিঁ সার্কিটে প্রথম ফর্মুলা ভি টেস্ট দেওয়ার সময়ও মেলবোর্নের একটি বার্গার রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন তিনি।
তিনি বলেন, 'ছয় মাস ধরে যতটা সম্ভব টাকা জমিয়েছিলাম, যাতে ওই একটি টেস্টের খরচ দিতে পারি।'
এটি ছিল তার জন্য বড় আত্মত্যাগ। তবে সেই অভিজ্ঞতা তার পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে দেয়। আরহাম যে রেসিংকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, তা তার বাবা-মা তখন বুঝতে পারেন। নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে তারা ছেলেকে সহযোগিতা করতে শুরু করেন। বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনও (এএবি) তার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশি রেসারদের জন্য সুযোগ তৈরিতেও সংস্থাটি কাজ করেছে।
নিজের দক্ষতা বাড়াতেও কম খরচের পথ খুঁজতে হয়েছে আরহামকে। প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচে শুরু করা যায় এমন সিমুলেটর রেসিং হয়ে ওঠে তার প্রশিক্ষণের অন্যতম মাধ্যম। পাশাপাশি জিমখানা ও ফোর-স্ট্রোক কার্টিং চ্যাম্পিয়নশিপেও অংশ নিয়েছেন তিনি। পেশাদার সিঙ্গেল-সিটার রেসিংয়ের বিপুল খরচ ছাড়াই প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিয়েছে এসব আয়োজন।
২০২৪ সালের মালয়েশিয়া ফেস্টিভ্যাল অব স্পিডের জিমখানা প্রতিযোগিতায় সতীর্থ কাশফিয়া আরফার সঙ্গে জুটি বেঁধে পডিয়ামও অর্জন করেন তিনি।
আরহাম বলেন, 'অর্থের অভাব যে আমার অগ্রযাত্রাকে ধীর করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আরও বেশি আর্থিক সহায়তা পেলে ২০২৩ সালেই ফর্মুলা ফোরে যেতে পারতাম বলে আমি বিশ্বাস করি।'
তবে বিকল্প পথ খুঁজতে খুঁজতে কেটে যাওয়া এই বছরগুলো তাকে এমন একটি গুণ দিয়েছে, যা শুধু অর্থ দিয়ে কেনা যায় না; আর তা হলো দৃঢ়তা।
আরহামের যাত্রাকে অন্য অনেক তরুণ রেসারের চেয়ে আলাদা করে তোলে আরও একটি বিষয়। আন্তর্জাতিক প্রতিটি প্রতিযোগিতায় তিনি বাংলাদেশের পতাকা সঙ্গে নিয়ে যান।
এফআইএ প্রতিযোগিতায় একজন রেসারের জাতীয় পরিচয় নির্ধারিত হয় তার রেসিং লাইসেন্স, জাতীয় ফেডারেশনের সুপারিশ এবং নামের পাশে থাকা দেশের পতাকার মাধ্যমে। আরহামের কাছে সেই পতাকা কোনো চাপ নয়; বরং অনুপ্রেরণা।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্বকে আমি রেসিংয়ের সবচেয়ে উপভোগ্য চাপগুলোর একটি মনে করি। আমার লক্ষ্য শুধু একজন সফল রেসার হওয়া নয়, বরং প্রমাণ করা যে একজন বাংলাদেশিও আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্টের ধাপগুলো পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন।'
দেশে এই খেলাটির উন্নয়ন কেন জরুরি, সে বিষয়ে আরহাম এখন আরও সরব; আর এই আকাঙ্ক্ষার পেছনেও রয়েছে সেই ভাবনা।
রেসিংয়ের অবকাঠামো গড়ে তোলার স্বপ্ন
মোটরস্পোর্টের অবকাঠামোর দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় অনেক পিছিয়ে। তবে আরহাম মনে করেন, পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএবি) চালকদের প্রশিক্ষণ, মোটরস্পোর্ট শিক্ষা, ফিটনেস কর্মসূচি, জিমখানা, কার্টিং স্লালম ও সিমুলেটর রেসিংয়ের মাধ্যমে একটি আরও কাঠামোবদ্ধ পথ তৈরির চেষ্টা করছে।
আরহামের মতে, পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো এফআইএ মানের কার্টিং অবকাঠামো গড়ে তোলা।
এ ধরনের বিনিয়োগের পক্ষে আরও বড় একটি অর্থনৈতিক যুক্তিও রয়েছে।
মোটরস্পোর্ট শুধু চালকদের নিয়ে নয়। একটি কার্যকর মোটরস্পোর্ট ব্যবস্থা গড়ে উঠলে প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, মেকানিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পর্যটন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পরিচিতি বাড়তে পারে।
মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো মোটরস্পোর্টে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তারা এই খেলাটির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েছে। কাছের উদাহরণ শ্রীলঙ্কা। দেশটির মোটরস্পোর্টে বিনিয়োগের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বেশ কয়েকজন চালক তৈরি হয়েছেন, যাঁদের স্থানীয় স্পনসররাও সহযোগিতা করছেন।
আরহাম বলেন, 'বাংলাদেশে প্রতিভা আছে। কিন্তু সেই প্রতিভাকে একটি দীর্ঘমেয়াদী ধারায় পরিণত করার মতো অবকাঠামো ও বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে।'
তবে ফর্মুলা ফোরই আরহামের শেষ লক্ষ্য নয়।
এখন তার চোখ ২০২৭ সালের ইউরো ফর্মুলা থ্রি চ্যাম্পিয়নশিপে। তার দাবি, সেখানে তার জন্য একটি আসন প্রস্তুত রয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
ফর্মুলা ওয়ান অবশ্যই তার চূড়ান্ত স্বপ্ন। তবে দীর্ঘমেয়াদে ফর্মুলা টু, জিটি৩ এবং এন্ডুরেন্স প্রোটোটাইপ রেসিংকেও বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন তিনি।
তবে নিজের ক্যারিয়ারের বাইরেও আরহামের আরও বড় একটি স্বপ্ন রয়েছে।
তিনি চান, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের তরুণ রেসার এবং তাদের অভিভাবকদের কাছে মোটরস্পোর্টকে একটি বাস্তব সম্ভাবনা হিসেবে তুলে ধরতে।
দশকের পর দশক হয়তো প্রতিভার অভাব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাধা ছিল না; বরং সমস্যা ছিল সামনে এগোনোর দৃশ্যমান কোনো পথের অনুপস্থিতি। কোনো শিশু রেসার হওয়ার স্বপ্ন হয়তো দেখত; কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবে, কোথায় প্রশিক্ষণ নেবে কিংবা কীভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাবে—তার স্পষ্ট ধারণা ছিল না।
আরহাম সেই বাস্তবতাই বদলাতে চাইছেন।
তার নিজের পথ ছিল দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং অনিশ্চয়তায় ভরা। কিন্তু এফআইএ ফর্মুলা ফোরের গাড়ি নিয়ে সার্কিটে ওঠা প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে নিজের ক্যারিয়ারের একটি মাইলফলকের চেয়েও বড় কিছু করে ফেলেছেন।
তিনি বাংলাদেশের তরুণ রেসারদের জন্য স্বপ্ন দেখার সেই পথের প্রথম ধাপটি দৃশ্যমান করে দিয়েছেন।
