Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Tuesday
October 06, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
TUESDAY, OCTOBER 06, 2026
সামাজিক মর্যাদাবঞ্চিত রংপুরের হরিজনরা: শহর পরিচ্ছন্ন রাখার পুরস্কার কেবলই বৈষম্য

ফিচার

হাসান জামিলুর রহমান সৈকত
24 December, 2025, 09:05 am
Last modified: 24 December, 2025, 12:24 pm

Related News

  • হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১,১২৫
  • রংপুর কি অ্যানথ্রাক্সের নতুন ক্লাস্টার হয়ে উঠছে?
  • রংপুরে ৪ খুন: ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিদ্ধার্থ-মুগ্ধকে নেওয়া হলো ঢাকায়
  • কোনো দলের আনুগত্য না করে চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনুন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আখতার 
  • হরিজন সম্প্রদায়: বৈষম্যের মাঝে বেড়ে ওঠা এই মানুষগুলো এখন কোথায় যাবেন

সামাজিক মর্যাদাবঞ্চিত রংপুরের হরিজনরা: শহর পরিচ্ছন্ন রাখার পুরস্কার কেবলই বৈষম্য

বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই হরিজনদের দেখা মেলে। আর সর্বত্রই তাদের জীবনের গল্পগুলো প্রায় একই রকম মর্মান্তিক।
হাসান জামিলুর রহমান সৈকত
24 December, 2025, 09:05 am
Last modified: 24 December, 2025, 12:24 pm
রেস্তোরাঁয় বসে খেতে না দেওয়ার অপমানের চেয়েও গভীর সংকট হলো নিরাপত্তাহীনতা। হরিজনদের নিজস্ব কোনো জমি বা স্থায়ী বাসস্থান নেই। ছবি: টিবিএস

রংপুর শহরের আকাশ ফর্সা হওয়ার আগেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রাস্তাঘাট, অলিগলি ও দোকানের সামনের অংশে ঝাড়ু দেওয়া শুরু করেন।

সুকান্তের কবিতার রানারের মতোই 'হরিজন' নামে পরিচিত এই মানুষগুলো সূর্যের প্রথম আলো ফোটার আগেই শহরকে ঝকঝকে করে তোলার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে পথে নামেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

অথচ যে পেশার মাধ্যমে নারী-পুরুষ মিলে সারা দিনের আবর্জনা পরিষ্কার করে শহরকে বাসযোগ্য রাখার চেষ্টা করেন, সেই পেশাই তাদের সমাজের চোখে অবাঞ্ছিত করে তোলে—যে সমাজের সেবায় তারা নিয়োজিত।

কাজ শেষে অনেকেই নাশতা করতে যান। তাদের কলোনির ঠিক সামনের রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে চাইলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিজেদের গ্লাস, কাপ কিংবা বাটি সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হয়।

এর কারণটি যতটা সহজ, ততটাই নিষ্ঠুর। রেস্তোরাঁর কাপে তাদের চা দেওয়া হয় না, সাধারণ গ্লাসে পানিও মেলে না; এমনকি অনেক সময় রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢোকার অনুমতিও থাকে না। কর্মচারীরা ওপর থেকে তাদের আনা পাত্রে পানি, চা বা খাবার ঢেলে দেন। এরপর তারা ফুটপাত বা রাস্তার ধারে বসেই নাশতা করেন। সমাজের চোখে তারা 'অস্পৃশ্য'—অপবিত্র ও অপরিচ্ছন্ন।

বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই হরিজনদের দেখা মেলে। আর সর্বত্রই তাদের জীবনের গল্পগুলো প্রায় একই রকম মর্মান্তিক।

তথাকথিত অস্পৃশ্য এই হিন্দু সম্প্রদায়ের নাম হরিজন দিয়েছিলেন খোদ মহাত্মা গান্ধী। হরিজন শব্দের অর্থ ঈশ্বরের সন্তান।

ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জঙ্গল পরিষ্কার, চা-বাগানের কাজ এবং পয়োনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়োজিত করার জন্য তাদের বর্তমান বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। বাংলাদেশে বর্তমানে ঠিক কতজন হরিজন বসবাস করেন, তার নির্ভুল কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী এই সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ।

১৯৯১ সালের জাতীয় আদমশুমারিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তালিকায় প্রথমবারের মতো 'হরিজন' শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চা জোটে, মর্যাদা জোটে না

সামাজিক কাঠামোর একদম তলানিতে হরিজনদের অবস্থান। সাধারণ মানুষ তাদের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে চলে। হোটেল বা রেস্তোরাঁয় অন্যদের সঙ্গে বসে খাওয়ার সুযোগ তাদের নেই। এমনকি একজন হরিজনের স্পর্শ করা কাপে চা পানের কথা চিন্তা করাও অনেকের কাছে অগ্রহণযোগ্য।

নিত্যদিনের এই অপমান ও বঞ্চনার ক্ষোভ অবশেষে গত ১৯ অক্টোবর গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নে বিস্ফোরিত হয়। সেদিন হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ প্রতিবাদের ডাক দিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

তাদের দাবিটি ছিল খুবই সাধারণ ও বিনয়ী—অন্য সবার মতো একই হোটেলে বসে খাওয়ার অধিকারটুকু চাওয়া।

সুমন বাঁশফোর নামে এক হরিজন দাবিটি সহজ ভাষায় তুলে ধরলেন, 'আমরা খুব বেশি কিছু চাইছি না। আমরা শুধু চাই, খাওয়ার জায়গায় যেন আমাদের নিচু চোখে দেখা না হয়। আমাদের চাওয়া এটুকুই। কিন্তু মানুষ সেটুকুও মানতে নারাজ।'

এমন প্রথা কেন চালু রয়েছে জানতে চাইলে বেশ কয়েকজন হোটেল মালিক কোনো নীতিমালার অজুহাত না দেখিয়ে বরং দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কথাই বললেন।

ছবি: টিবিএস

সান্ত্বনা হোটেলের মালিক ইসমাইল হায়দার বর্তমান পরিস্থিতিকে বৈষম্যের চেয়ে প্রথা হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, 'দেখুন, বছরের পর বছর ধরে এমনটাই চলে আসছে। আমি একা তো আর এটা বদলাতে পারব না। তবে আমাদের এখানে তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। তারা ওয়ান-টাইম প্লেট ও গ্লাস ব্যবহার করে খেতে পারে। তাদের বসার জন্য আলাদা জায়গাও রয়েছে।'

মহিমাগঞ্জ বাজারের আরেক রেস্তোরাঁ মালিক ফারুক আহমেদ বিষয়টিকে অভ্যাসের ফল হিসেবেই দেখেন—যা মানুষ ছোটোবেলা থেকে দেখে আসছে এবং এ নিয়ে খুব একটা প্রশ্ন তোলে না।

তিনি বলেন, 'আসলে আমরা যা দেখে অভ্যস্ত, তাই করি। ছোটোবেলা থেকে এভাবেই দেখে আসছি। তবে হ্যাঁ, সবাই যদি চায়, তাহলে আমরাও হরিজনদের অন্যদের মতো সুযোগ দিতে পারি। কিন্তু একা নিয়ম ভাঙতে গিয়ে ব্যবসার ক্ষতি কে করতে চাইবে?'

মহিমাগঞ্জের হরিজনরা জানান, তারা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন। এরপর কর্মকর্তারা বাজারে গিয়ে হোটেল মালিকদের বৈষম্যমূলক আচরণের বিষয়ে সতর্কও করে আসেন। তবে বাস্তবে সেই সতর্কবার্তায় পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।

পরবর্তী পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে শিউলি হরি বলেন, 'আমাদের ইউএনও ম্যাডাম এসে হোটেল মালিকদের বলেছিলেন, এমনটা চলতে থাকলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। কিন্তু পরিবর্তন কোথায়? সবকিছু তো আগের মতোই আছে।'

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, 'প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পরও যদি কেউ এমন অভিযোগ করেন এবং সমস্যার সমাধান না হয়, তবে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।'

জনরোষ বা মবের প্রতিরোধের আশঙ্কায় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না কি না—সরাসরি এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, 'না, আমাদের এমন কোনো আশঙ্কা নেই। প্রশাসন অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।'

ভূমিহীন কলোনি, অনিশ্চিত জীবন

রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার অধিকার না পাওয়ার অপমানের চেয়েও গভীর এক নিরাপত্তাহীনতা তাদের গ্রাস করে আছে। হরিজনদের নিজস্ব কোনো জমি নেই, নেই স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই। তারা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন বসতিতে বসবাস করেন, যা সচরাচর 'কলোনি' নামেই পরিচিত। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এই 'কলোনি' শব্দটি দশকের পর দশক ধরে টিকে আছে।

হরিজনদের মূল সমাজ থেকে আলাদা করে রাখার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই সচেতনভাবে এসব কলোনি গড়ে তোলা হয়েছিল। যেহেতু কেউ তাদের কাছে জমি বিক্রি করতে চায় না, তাই সরকারি জমিতে অবৈধ দখলদার হিসেবেই তাদের থাকতে হয়। আর সবসময় তাড়া করে ফেরে উচ্ছেদের আতঙ্ক।

অনেকের কাছেই এই নিরাপত্তাহীনতাই যেন নিত্যদিনের সঙ্গী।

বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা থেকে হরিজনরা অনেকাংশেই বঞ্চিত। ছবি: টিবিএস

নিজের জমি না থাকার কষ্ট কেমন, তা বর্ণনা করলেন মোহন লাল ডোমড়। তিনি বলেন, 'আমাদের যদি নিজস্ব জমি থাকত, তবে পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকতাম। এখন সরকারি জমিতে থাকি, এখানে পাকা কোনো ঘরও তুলতে পারি না। ঘর তোলার চেষ্টা করলেই কেউ না কেউ এসে ভেঙে দেয় অথবা উচ্ছেদের হুমকি দেয়। আমাদের আসলে যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।'

বেশিরভাগ বাড়িওয়ালাই হরিজনদের কাছে বাসা ভাড়া দিতে চান না। আবার তাদের আয় এতই কম ও অনিয়মিত যে, বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের খাস জমিতে অস্বাস্থ্যকর ও গাদাগাদি করে থাকতে হয়।

সুইপার কলোনিগুলো যেন এক একটি কানাগলি—হাত-পা ছড়ানোর জায়গা নেই, চারপাশ নোংরা আর দুর্গন্ধে ভরা। সব ধরনের নেতিবাচক বিশেষণ যেন এখানকার সঙ্গে মানানসই। ১০ বাই ১০ ফুটের চেয়েও ছোট একেকটি ঘরে ছয়-সাত সদস্যের পরিবার গাদাগাদি করে থাকে। সেখানে আলো নেই, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই, নেই পয়োনিষ্কাশনের সুবিধাও। তাদের দুর্দশা দেখার কেউ নেই, কথা শোনারও কেউ নেই। সমস্যার সমাধানও কেউ করে না। নির্বাচনের আগে রাজনীতিবিদরা আসেন, ভোট নেন, আর ভোট শেষ হলেই উধাও হয়ে যান।

প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে জমির এই সংকট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গোবিন্দগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তামশিদ ইরাম খান একটি আইনি পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'গোবিন্দগঞ্জে শুধু হরিজনরাই নয়, সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষও বাস করে। তবে সাঁওতালরা আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃত হলেও হরিজনরা তা নয়।'

তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশের ভূমি আইন অনুযায়ী, আদিবাসীরা কেবল অন্য আদিবাসীদের কাছেই জমি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারে।'

তিনি জানান, জমি বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে বসতি গড়া অনেক সময় নিশ্চিত করা যায় না। তার ভাষ্যমতে, 'সরকার জমি বরাদ্দ দিলেও সামাজিক কারণে হরিজনরা সেখানে টিকতে পারে না। সামাজিক সংস্কার তো আর রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। অনেকেই হরিজনদের জীবনযাপন পদ্ধতি পছন্দ করেন না। ফলে জমি বরাদ্দ দেওয়ার পরেও স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের সেখানে বসবাস করতে দিতে চান না, বাধা দেন। আর কেউ যদি ব্যক্তিগত জমি বিক্রি করতে না চান, তবে সেখানে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা প্রশাসনের নেই।'

কেড়ে নেওয়া হচ্ছে কাজ, মিলছে না সুরক্ষা, স্বপ্নগুলোও অধরা

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কোনো নিরাপত্তা নেই। এমনকি পরিচ্ছন্নতার কাজ—যা হরিজনরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে করে আসছে—এখন তাও ক্রমশ বাঙালিদের দখলে চলে যাচ্ছে। যেই পেশা একসময় হরিজনদের সমাজের প্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল, এখন সেই কাজগুলোও তাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

শ্রীকান্ত বাঁশফোর বিষয়টি সোজাসাপ্টাভাবে তুলে ধরলেন, 'এই কাজগুলোতে আমাদের অগ্রাধিকার থাকা উচিত ছিল, কিন্তু বাস্তবতা এখন ভিন্ন।'

তিনি অভিযোগ করেন, নিয়োগে হরিজনদের বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ ও দুর্নীতি বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার অসঙ্গতিও তুলে ধরেন—শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি চাওয়া হলেও লিখিত পরীক্ষা এমন হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও কঠিন।

অন্যরা একই কাপে চা খেতে চায় না বলে কোনো কোনো খাবারের দোকানে হরিজনদের প্লাস্টিকের কাপে চা দেওয়া হয়। ছবি: টিবিএস

কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাও আরেকটি উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি শ্যাম কুমার ভক্ত বলেন, তারা যেসব ঝুঁকির সম্মুখীন হন, তা নিয়মিত উপেক্ষা করা হয়।

তিনি বলেন, 'আমাদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা রাতে নির্জন রাস্তায় কাজ করি। প্রায়ই অপরাধীদের মুখোমুখি হতে হয়। পুলিশের নিয়মিত টহল থাকলেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিশেষ টহলের ব্যবস্থা থাকা উচিত।'

তিনি দীর্ঘদিনের বেশ কিছু দাবির কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে বর্জ্য সংগ্রহে এনজিওর চুক্তি বাতিল, বাইরের লোক নিয়োগ বন্ধ করা, সরকারি বিধি মোতাবেক বেতন বৃদ্ধি, চাকরি স্থায়ীকরণ এবং শ্রম আইনের বাস্তবায়ন।

শ্যাম কুমার আরও বলেন, 'হরিজনদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নেই। অনেক জায়গায় মানুষ এখনো মাসে মাত্র ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা আয় করে। বর্তমান সময়ে এই টাকার কোনো মূল্যই নেই।'

বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও হরিজনরা রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে অনেকাংশেই বঞ্চিত। বয়স্করা বয়স্ক ভাতা পান না, বিধবারা পান না বিধবা ভাতা। কেউ কেউ বলেন, বিপদের সময় এনজিওগুলোও তাদের সাহায্য করতে ইতস্তত করে।

দশরথ বাঁশফোর সাত বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তার কণ্ঠে হতাশা ও ক্ষোভ স্পষ্ট, 'সাহায্যের জন্য আমি সব জায়গায় গিয়েছি। আমার ছেলেমেয়েরা কলেজে পড়ে। তাদের খরচ কে চালাবে? কোথাও থেকে কোনো সাহায্য পাইনি। এনজিওরা বলে আমরা ঋণ শোধ করতে পারব না, তাই তারা আমাদের সাহায্য করতে চায় না।'

অবশ্য এনজিও কর্মকর্তারা বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মহিমাগঞ্জে এসকেএস ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক নুরুন্নবী বিষয়টি খণ্ডন করে বলেন, 'আমাদের এমন কোনো নিয়ম নেই। অন্যদের থাকতে পারে, সেটা আমি বলতে পারব না। যাদের কথা বলা হচ্ছে, তাদের অনেকেই আমাদের সদস্য।'

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সহায়তা নির্ভর করে কাগজপত্র ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার ওপর। 'আশা'র মহিমাগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ বাদল মিয়াও একই কথা জানান।

এই বৈষম্য শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত। হরিজন পরিবারের শিশুদের স্কুলে ভর্তির সময় এবং ক্লাসে প্রায়ই নানা বাধার মুখে পড়তে হয়।

বাংলাদেশ হরিজন ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি আকাশ বাঁশফোর বলেন, এসব ঘটনা এতটাই নিয়মিত যে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়। তিনি যোগ করেন, 'অতীতে ভর্তির সময় আমাদের ভাইবোনদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আমাদের জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। নাগরিক হিসেবে শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল।'

অগণিত বাধা সত্ত্বেও কিছু শিশু ভিন্ন ভবিষ্যতের আশায় স্কুল ও কলেজে যাওয়া চালিয়ে যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই স্বপ্ন অকালেই ঝরে যায়। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি, কারণ পরিবার তাদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে চায়।

মহিমাগঞ্জের কলেজছাত্রী অনু বাঁশফোর অবশ্য হাল ছাড়তে নারাজ। তিনি বলেন, 'আমি জানি আমাদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে কী ঘটে। অন্য চাকরি পাওয়া আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। কিন্তু কাউকে না কাউকে তো চেষ্টা করতেই হবে। আমি এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাতে চাই, যেখানে একজন সাধারণ নাগরিকের মতো সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারব।'

 


মূল ইংরেজি থেকে অনুবাদ: তাসবিবুল গনি নিলয়

Related Topics

টপ নিউজ

হরিজন / বৈষম্য / সামাজিক মর্যাদা / রংপুর

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ফাইল ছবি/সংগৃহীত
    দুর্গাপূজায় মিলছে টানা ৫ দিনের ছুটি, ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা
  • 'পিচ্চি রাজা'। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
    প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে ‘পিচ্চি রাজা’কে বোনের প্রাইভেটকারে তুলে দেন এসআই প্রবীর: জিএমপি
  • রাঙামাটির বরকলের বরুণাছড়িরতে গ্রামের বনে ঘুরে বেড়াচ্ছে এশীয় হাতির পাল। ছবি: সংগৃহীত
    বন থেকে আসা প্রতিবেশী: বন্য হাতির সঙ্গে যেভাবে সহাবস্থান গড়ে তুলেছে বরকলের মানুষ
  • ইলাস্ট্রেশন: নোবেল কর্তৃপক্ষ।
    অপটোজেনেটিক্সে অবদান রেখে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল জিতলেন তিন বিজ্ঞানী
  • ছবি: মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন/টিবিএস
    অবকাঠামো নির্মাণকাজে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে লোহাগাড়ার চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে হাতির চলাচল
  • ছবি: সংগৃহীত
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ৯ তলা থেকে শিক্ষার্থীর লাফ, টিনের চালায় পড়ায় বাঁচলেন

Related News

  • হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১,১২৫
  • রংপুর কি অ্যানথ্রাক্সের নতুন ক্লাস্টার হয়ে উঠছে?
  • রংপুরে ৪ খুন: ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিদ্ধার্থ-মুগ্ধকে নেওয়া হলো ঢাকায়
  • কোনো দলের আনুগত্য না করে চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনুন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আখতার 
  • হরিজন সম্প্রদায়: বৈষম্যের মাঝে বেড়ে ওঠা এই মানুষগুলো এখন কোথায় যাবেন

Most Read

1
ফাইল ছবি/সংগৃহীত
বাংলাদেশ

দুর্গাপূজায় মিলছে টানা ৫ দিনের ছুটি, ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা

2
'পিচ্চি রাজা'। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে ‘পিচ্চি রাজা’কে বোনের প্রাইভেটকারে তুলে দেন এসআই প্রবীর: জিএমপি

3
রাঙামাটির বরকলের বরুণাছড়িরতে গ্রামের বনে ঘুরে বেড়াচ্ছে এশীয় হাতির পাল। ছবি: সংগৃহীত
ফিচার

বন থেকে আসা প্রতিবেশী: বন্য হাতির সঙ্গে যেভাবে সহাবস্থান গড়ে তুলেছে বরকলের মানুষ

4
ইলাস্ট্রেশন: নোবেল কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক

অপটোজেনেটিক্সে অবদান রেখে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল জিতলেন তিন বিজ্ঞানী

5
ছবি: মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন/টিবিএস
বাংলাদেশ

অবকাঠামো নির্মাণকাজে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে লোহাগাড়ার চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে হাতির চলাচল

6
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ৯ তলা থেকে শিক্ষার্থীর লাফ, টিনের চালায় পড়ায় বাঁচলেন

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net