‘তেলাপোকারা মরে না’: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট বন্ধ, নতুন সাইট আনছেন প্রতিষ্ঠাতা দিপক
ভারতে রাতারাতি ভাইরাল হওয়া রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক গ্রুপ 'ককোরোচ জনতা পার্টি'র (সিজেপি) ওয়েবসাইট চালুর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি বেকার যুবকদের 'তেলাপোকা'র সঙ্গে তুলনা করেছেন—এমন খবরের পর ব্যঙ্গ হিসেবে এই গ্রুপটি তৈরি করা হয়েছিল। যদিও পরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন যে তিনি ঢালাওভাবে দেশের যুবসমাজ নয়, বরং 'ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারী'দের বোঝাতে চেয়েছিলেন। এই ঘটনার পর রাতারাতি জনপ্রিয় হওয়া এই ব্যঙ্গাত্মক গ্রুপটির অনলাইন ফলোয়ারের সংখ্যা এখন ২ কোটি ছাড়িয়েছে।
গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দিপক জানিয়েছেন, ভারতীয় কর্মকর্তারা তাদের 'আইকনিক ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দিয়েছেন।' তিনি প্রশ্ন তোলেন, তারা 'তেলাপোকাকে এত ভয় পান কেন?'
তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, সিজেপি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয়, তবে তারা ইতিমধ্যেই নতুন একটি 'হোম' [ওয়েবসাইট] নিয়ে কাজ করছেন। তিনি আরও যোগ করেন, 'তেলাপোকারা কখনো মরে না।'
আইনি নোটিশের প্রেক্ষিতে ভারতে গ্রুপটির ২ লাখেরও বেশি ফলোয়ার থাকা অফিশিয়াল এক্স পেজটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অভিজিত দাবি করেছেন যে তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম এবং গ্রুপটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে।
সিজেপি বা 'ককরোচ জনতা পার্টি' মূলত ২০১৪ সাল থেকে ভারতে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল 'ভারতীয় জনতা পার্টি'কে (বিজেপি) ব্যঙ্গ করে নাম দেওয়া হয়েছে। গ্রুপটি নিজেদের 'অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর' হিসেবে দাবি করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং '#MainBhiCockroach' [আমিও তেলাপোকা] হ্যাশট্যাগটি ভাইরাল হয়।
বর্তমানে গ্রুপটির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখের বেশি, যা ক্ষমতাসীন বিজেপির অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। গত কয়েক দিনে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের তেলাপোকার পোশাক পরে বিভিন্ন সামাজিক কাজ ও বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা গেছে।
দিপকে এর আগে বিবিসি-কে বলেছিলেন, এই গ্রুপটির দ্রুত জনপ্রিয়তা মূলত ভারতের বিপুলসংখ্যক যুবসমাজের মধ্যে উচ্চ বেকারত্ব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ এবং মূলধারার রাজনীতিতে তাদের উপেক্ষা করার অনুভূতিকে ফুটিয়ে তোলে।
উল্লেখ্য, ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ৩০ বছরের কম বয়সী হলেও রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত সীমিত।
