যুক্তরাজ্যের অ্যালবাম চার্টে বিটলসের রেকর্ড ভাঙলেন রবি উইলিয়ামস
যুক্তরাজ্যের মিউজিক চার্টে নতুন ইতিহাস গড়লেন পপ তারকা রবি উইলিয়ামস। কিংবদন্তি ব্যান্ড 'দ্য বিটলস'–এর রেকর্ড ভেঙে একক শিল্পী হিসেবে সবচেয়ে বেশি 'নাম্বার ওয়ান' অ্যালবামের মালিক এখন তিনি।
গত শুক্রবার মুক্তি পায় রবির নতুন অ্যালবাম 'ব্রিটপপ'। এটি তার একক ক্যারিয়ারের ১৬তম অ্যালবাম যা যুক্তরাজ্যের চার্ট টপ করেছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি পেছনে ফেললেন দ্য বিটলসকে, যাদের ঝুলিতে রয়েছে ১৫টি নাম্বার ওয়ান অ্যালবাম।
বিবিসি নিউজকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বসিত রবি বলেন, 'এটা অবিশ্বাস্য। একেবারেই অবিশ্বাস্য। আমি সবসময় বলতাম, আমার সাফল্য হলো স্টোক-অন-ট্রেন্ট (তার জন্মস্থান) থেকে চাঁদ পর্যন্ত একটি ইলাস্টিক ব্যান্ড টানার মতো। এখন মনে হচ্ছে সেই ব্যান্ডটি আরও লম্বা হয়ে শুক্র গ্রহের কক্ষপথে পৌঁছে গেছে।'
নিজের এই অর্জনকে 'সেনসেশনাল' উল্লেখ করে তিনি নিজেকে 'পপের ফরেস্ট গাম্প' হিসেবে অভিহিত করেন।
এই মুহূর্তে স্ত্রী আয়দা ফিল্ডের সঙ্গে প্যারিসে ছুটি কাটাচ্ছেন ৫১ বছর বয়সী এই তারকা। তবে উদযাপনটা তিনি করছেন সাদামাটাভাবেই—'কোক জিরো আর সালাদ' দিয়ে। নব্বইয়ের দশকের সেই বেপরোয়া জীবন, মাদক আর মদের আসক্তি এখন অতীত। মানসিক অবসাদ কাটিয়ে এখন তিনি জীবনের এক সুন্দর সময়ে অবস্থান করছেন।
রবি বলেন, 'আমি অন্তত এই সপ্তাহটা নিজেকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে আমি কতটা ভাগ্যবান। মানসিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন আমি জীবনকে উপভোগ করতে পারিনি। কিন্তু এখন আমি এমন এক জায়গায় আছি যেখানে আমার বাগান ফুলে-ফলে ভরে উঠছে। এই মুহূর্তটাতে বসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা এবং হাসতে পারাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন।'
রবির এই রেকর্ডগড়া অ্যালবামটি তাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে তার একক ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে। অ্যালবামের প্রচ্ছদে ব্যবহার করা হয়েছে ১৯৯৫ সালের গ্লাস্টনবেরি ফেস্টিভ্যালের সেই আলোচিত ছবি—যেখানে ব্লিচ করা চুল আর একটি দাঁতহীন রবিকে দেখা গিয়েছিল। ওই ঘটনার পরই বয় ব্যান্ড 'টেক দ্যাট' থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি।
রবি এই অ্যালবামটিকে 'ব্রিটিশ মিউজিকের সোনালি যুগের উদযাপন' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে নব্বইয়ের দশকের ওয়েসিস ও ইলাস্টিকার মতো ব্যান্ডের আবহ রয়েছে। অ্যালবামে সুপারগ্রাসের গাজ কম্বস এবং রবির একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ও 'টেক দ্যাট' সতীর্থ গ্যারি বারলোর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।
সমালোচকরাও অ্যালবামটির প্রশংসা করেছেন। দ্য গার্ডিয়ান ও রোলিং স্টোন ম্যাগাজিন একে চারের মধ্যে চার তারকা দিয়েছে।
ব্যান্ড 'টেক দ্যাট'–এর অ্যালবামগুলোসহ রবির মোট নাম্বার ওয়ান অ্যালবামের সংখ্যা এখন ২১টি। তবে সব মিলিয়ে এখনো তার সামনে আছেন পল ম্যাককার্টনি, যার মোট ২৩টি অ্যালবাম চার্ট টপ করেছে।
এত বড় অর্জনের পরও মাটিতেই পা রাখছেন রবি। এর পেছনে অবশ্য তার পরিবারের অবদান আছে। বিবিসিকে তিনি জানান, কিছুদিন আগে শাশুড়িকে বলছিলেন, 'জানো, পরের অ্যালবামটা নাম্বার ওয়ান হলে আমি সবার চেয়ে এগিয়ে যাব।' পাশ থেকে মেয়ে টেডি ফিসফিস করে বাবাকে মনে করিয়ে দেয়, 'সেটা শুধু যুক্তরাজ্যে, বাবা।'
এক নজরে রবি উইলিয়ামসের সব 'নাম্বার ওয়ান' অ্যালবাম:
- লাইফ থ্রু আ লেন্স (১৯৯৭)
- আইভ বিন এক্সপেক্টিং ইউ (১৯৯৮)
- সিং হোয়েন ইউ আর উইনিং (২০০০)
- সুইং হোয়েন ইউ আর উইনিং (২০০১)
- এসক্যাপোলজি (২০০২)
- গ্রেটেস্ট হিটস (২০০৪)
- ইনটেনসিভ কেয়ার (২০০৫)
- রুডবক্স (২০০৬)
- ইন অ্যান্ড আউট অব কনশাসনেস (২০১০)
- টেক দ্য ক্রাউন (২০১২)
- সুইংস বোথ ওয়েজ (২০১৩)
- দ্য হেভি এন্টারটেইনমেন্ট শো (২০১৬)
- দ্য ক্রিসমাস প্রেজেন্ট (২০১৯)
- এক্সএক্সভি (২০২২)
- বেটার ম্যান: অরিজিনাল সাউন্ডট্র্যাক (২০২৫)
- ব্রিটপপ (২০২৬)
এক নজরে দ্য বিটলস-এর সব 'নাম্বার ওয়ান' অ্যালবাম:
- প্লিজ প্লিজ মি (১৯৬৩)
- উইথ দ্য বিটলস (১৯৬৩)
- আ হার্ড ডেজ নাইট (১৯৬৪)
- বিটলস ফর সেল (১৯৬৪)
- হেল্প! (১৯৬৫)
- রাবার সোল (১৯৬৫)
- রিভলবার (১৯৬৬)
- সার্জেন্ট পেপার্স লোনলি হার্টস ক্লাব ব্যান্ড (১৯৬৭)
- দ্য বিটলস - বা দ্য হোয়াইট অ্যালবাম (১৯৬৮)
- অ্যাবি রোড (১৯৬৯)
- লেট ইট বি (১৯৭০)
- দ্য বিটলস অ্যাট দ্য হলিউড বোল (১৯৭৭)
- লাইভ অ্যাট দ্য বিবিসি (১৯৯৪)
- অ্যান্থোলজি ২ (১৯৯৬)
- ১ (২০০০)
