প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট: পুলিশে দিলেন যে বিএনপি নেতা, তার জিম্মাতেই ছাড়া হলো পাথর ব্যবসায়ীকে
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পাথরমহাল খোলার দাবিতে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার দুদিন পর পাথরব্যবসায়ী জুবায়ের আহমদকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আলী আকবর ও সিনিয়র সহ সভাপতি শওকত আলী বাবুল।
এ ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে আটকের ১২ ঘণ্টা পর সেই বিএনপির নেতাদের জিম্মায় জুবায়েরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল ও বিএনপি নেতা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়ারা জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয় কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ উসমান গনি বলেন,' জুবায়ের আহমদের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। সব যাচাই-বাছাই করে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি শওকত আলী বাবুল ও ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়ারা জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।'
যিনি থানায় নিয়ে আসছিলেন তার জিম্মাতেই জুবায়েরকে ছাড়া প্রসঙ্গে ওসি বলেন, 'তিনি থানায় নিয়ে আসছিলেন, তাই তার জিম্মায়ই ছাড়া হয়েছে।'
যাচাই-বাছাই করে জুবায়েরের কোনো অপরাধ পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, 'যাচাই-বাছাই করেই তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।'
এর আগে শনিবার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের জুবায়ের আহমদ ফেসবুকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ছবি দিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, '১২ তারিখ নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ কিছুই ঠিক হলো না। মন্ত্রী মহোদয় আমাদের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতম করে দিলেন।'
ফেসবুকে পাথরমহাল খোলার দাবিতে পোস্ট দেওয়ার দুদিন পর পাথরব্যবসায়ী জুবায়ের আহমদকে পুলিশের হাতে তুলে দেন উপজেলা বিএনপির দুই নেতা।
ফেসবুকের এই পোস্টের জন্য মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আলী আকবর ও সিনিয়র সহ সভাপতি শওকত আলী বাবুল তাকে থানায় ডেকে এনে পুলিশের কাছে তুলে দেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে। তবে তখন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ উসমান গনি ঘটনাটিকে 'থানায় আত্মসমর্পণ' দাবি করেন।
আটকের পর জুবায়েরের ফেসবুক পোস্টটিও আর পাওয়া যায়নি। তাকে ধরিয়ে দেওয়া বিএনপির দুই নেতা 'বিষয়টি পুলিশ দেখছে' জানিয়ে এ নিয়ে কথা বলতেও রাজি হননি।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উসমান গনি বলেছিলেন, 'জুবায়ের আহমদ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। কী কারণে আটক করা হয়েছে, সেটা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আলী আকবর তাকে আত্মসমর্পণ করাতে নিয়ে আসছিলেন।'
'১২ তারিখ নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল'—এ কথার জন্য কেন পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে, এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, 'আইন মোতাবেক আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারি। অপরাধ আছে। এখন এই অপরাধটা সে করেছে কি না, তার মোবাইল কেউ ব্যবহার করছে কি না, সেটা যাচাই করছি।'
