রাজশাহীতে প্রশাসনের নির্দেশে অবশেষে স্কুলগেটের বেড়া ও আঙিনার কলাগাছ সরালেন জমিদাতা
প্রশাসনের নির্দেশে অবশেষে রাজশাহীর পুঠিয়ার ভালুকগাছি মুক্তিযুদ্ধ স্কুলগেটে লাগানো বাঁশের বেড়া ও আঙিনায় লাগানো কলাগাছ সরিয়ে নিয়েছেন জমিদাতা আবুল কালাম আজাদ।
আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে জমিদাতাকে অনুরোধ করার পর তিনি আঙিনায় রোপন করা কলাগাছ এবং স্কুলের ফটকে ও শ্রেণিকক্ষে দেওয়া তালা ও বাঁশের বেড়া খুলে নেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, 'স্কুলকে জমি দান করার পর জমিটি স্কুলের হয়ে যায়। ফলে কেউ চাইলেই গিয়ে স্কুলের দখল নিতে পারবে না।'
তিনি আরও বলেন, 'তবে এই দলিল বাতিল করতে পারবেন আদালত। জমি ফেরতে চাইলে আদালতের মাধ্যমে রায় নিয়ে আসতে হবে। তার আগে স্কুলে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না কেউ।'
এর আগে, গতকাল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক দাতা সদস্য আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে লোকজন নিয়ে স্কুলমাঠে কলাগাছ লাগানো এবং শিক্ষকদের কার্যালয় ও শ্রেণিকক্ষে লাগানো তালার ওপর আরেকটি তালা লাগানোর অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দাতার চাহিদা অনুযায়ী তার পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এসব কাজ করেছেন।
স্কুলে বেড়া দেওয়ার কারণে রবিবার কোনো ক্লাস হয়নি। সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে ফিরে যায়।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় নাম ছিল—'মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ'। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নাম পরিবর্তন করে 'ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল'-নির্ধারণ করা হয়।
এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে প্রাথমিকের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান চলছে।
ননএমপিভুক্ত স্কুলটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ জনের মতো।
